অরাজনৈতিক মরুভূমিতে বিদ্রোহের মরুদ্যান! কানাইলাল দত্তকে কেন ভুলবে না বাঙালি?

Kanailal Dutta: কানাইলাল বন্দুক চালানো আর বক্সিং শিখেছিলেন ডুপ্লে কলেজের অধ্যাপক চারুচন্দ্র রায়ের থেকে। লাঠিখেলার প্র্যাকটিস চালু করেছিলেন কানাইলাল যা পরের দিকে গুপ্তসমিতির মার্শাল টেকনিক হয়ে উঠেছিল।

Soumya Banerjee
৩ মিনিট
অরাজনৈতিক মরুভূমিতে বিদ্রোহের মরুদ্যান! কানাইলাল দত্তকে কেন ভুলবে না বাঙালি?

বিংশ শতাব্দীর নতুন হাওয়ায় কলকাতা তখন রবিঠাকুরের ‘চোখের বালি’ এনজয় করছে। সিপাহী বিদ্রোহ থেকে নীলদর্পণ— জায়গা নিতে শুরু করেছে প্রায় ভুলে যাওয়া ইতিহাসের পাতায়। মেকলে সাহেবের ‘এক উপনিবেশ, এক ভাষা, এক সিলেবাস’ মুড়ি-মুড়কির মতো তৈরি করে ফেলেছে ওপরে ওয়েস্টকোট, নীচে ধুতি আর ট্রাউজার নিয়ে দোটানায় থাকা কালো চামড়ার 'সাহেব'-দের। বিলুপ্তপ্রায় বনেদি বাবুদের জায়গা দখল নিচ্ছে মডার্ন 'বাঙালি বাবু'। তরুণ প্রজন্মকে রাজপথের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই ইংরেজরা যে ফুটবল চালু করেছিল সেই টোটকা কাজ করেছে মোহনবাগান-আরিয়ান-টাউন ক্লাবের মধ্যে ময়দানের রেষারেষি আর ক্লাব পলিটিক্স কলোসিয়ামের ঘেরাটোপে। নতুন শতাব্দীর এই ‘ক্যালকেশিয়ান’ হাওয়ার কিছুটা পৌঁছে গেছে প্রায় তিরিশ মাইল দূরের ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরে। ফরাসডাঙার টাইম-ক্যাপসুল হিসেবে মোতিলাল রায় লিখেছেন

“সৌভাগ্যবশে, ঊর্দ্ধমুখী আকর্ষণের অভূতপূর্ব স্পর্শ আমাদের জীবনেও অনুভূত হইয়াছিল, কি একটা নতুনের সুরে জীবন যেন দিন দিন উদ্বুদ্ধ হইয়া উঠিতেছিল, সকল কাজই সুন্দর ও শুদ্ধভাবে নিষ্পন্ন করিবার প্রবৃত্তি স্বভাবতই আমাদের যেন পাগল করিয়া তুলিত, পাড়ায় পাড়ায় হরিসঙ্কীর্তন, অসহায় প্রতিবেশীর সাহায্য, অতিথি সেবা, মৃতদেহ সৎকার প্রভৃতি সৎকর্মে উৎসাহের অবধি থাকিত না।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চিতাভস্ম কিনতে শোরগোল পড়ে কলকাতায়! কানাইলালের ফাঁসি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছিল ইংরেজদের

Freedom Fighter Kanailal Dutta Death: কোর্টে কানাইলালকে জিজ্ঞাসা করা হল, পিস্তল কোথায় পেয়েছিলে? উত্তরে বললেন,"ক্ষুদিরামের আত্মা পিস্তল দিয়ে গেছে।"

চন্দননগরে তখন নিজস্ব 'বাবু কালচার' তৈরি হয়েছে। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির কবিগান আর চিন্তামণির পাঁচালিগান সময়ের সঙ্গে মোনোলগ-ডায়লগ সমেত বিবর্তন নিয়েছে যাত্রাপালায়। শহরের বসতি এলাকায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন যাত্রার দল— পকেটে একটু পয়সা থাকলেই দেখতে যাওয়া যেত। এদের দেখাদেখি তরুণ প্রজন্ম তৈরি করছে অবৈতনিক নাট্য-সমিতি। ১৯০৩ সালে কানাইলাল দত্ত এমনই এক ‘সখের পায়রা’ নাট্য-সমিতির সদস্য ছিলেন। আজকের ভাষায় 'ইন্ট্রোভার্ট' স্বভাবের কানাইলাল দু-একটা ছোটখাটো রোল পেতেন আর বাকি সময়টা যাত্রার রিহার্সাল দেখেই কাটিয়ে দিতেন। কয়েক মাসের মধ্যেই মোতিলাল-কানাইলালদের এই নাট্যসমিতি ভেঙে গেল কারণ সদস্যরা রামকৃষ্ণ মিশনের অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে 'দরিদ্রনারায়ণ সেবা'-র নতুন ট্রেন্ডে গা ভাসালো। কানাইলাল ততদিনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে ‘এফ.এ’ পড়তে শুরু করেছেন। তাই পুরনো সঙ্গীদের ধর্মকর্মে মতি হয়েছে দেখেই হোক বা নিজের লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার জন্যই হোক, এই সময় কিছুদিন তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। অবশ্য মোতিলাল রায়ের লেখা অনুযায়ী,

“বলিয়া রাখা ভাল, ধর্ম জিনিষটার ওপর কানাইলালের তদ্রুপ আস্থা ছিল না, সে তাহার নিজের সত্য ও চরিত্রবলের উপর ভর দিয়াই চলিত।”

এরপর এল ঐতিহাসিক ১৯০৫ সালের ৭ অগাস্ট। লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের ওয়ার্মআপ নেওয়ার কথা কানাঘুঁষো ছড়িয়ে পড়তেই কলকাতার টাউন হল থেকে বেরিয়ে পড়ল বিদ্রোহের শোভাযাত্রা। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত হয়ে একঝাঁক যুবক বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে বিদেশি পণ্য বয়কটের স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দিল— ইংরেজদের “হয় হাতে মারব, নয় ভাতে মারব!” কলকাতা থেকে হোমটাউন চন্দননগরে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মিছিল ডাকলেন মোতিলাল রায়। চন্দননগরের বুকে এতদিনের অরাজনৈতিক মরুভূমিতে একটা বিদ্রোহের মরুদ্যান খুঁজে পাওয়া গেল। স্লোগান শুনে রাস্তার দু'ধারে ঘরবাড়ির জানালা খুলে গেল, কেউ কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে মিছিলে যোগ দিল। আর সেদিন,‌ বলতে গেলে বহুদিন পর, মিছিলের সামনে হাজির কানাইলাল দত্ত। এতদিনে কানাইলালের পুরনো সঙ্গীদের নাট্য-সমিতি ভেঙে বানানো 'সৎপথাবলম্বী সম্প্রদায়'-এর খোলনলচে পাল্টে গেছে। দরিদ্রনারায়ণ সেবার হুজুগ বিপ্লবের সুনামিতে ভেসে গেছে। পাড়ায় পাড়ায় হরিসংকীর্তন ছেড়ে স্বদেশি গণসঙ্গীতের সুর চড়ছে। কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদের স্বদেশি বাণী, উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর আগুনঝরা বক্তৃতা বোড়াই চণ্ডীতলায় সৎ-সম্প্রদায়ের সভা তোলপাড় করে দিল। শুধু কিছু সুশীল সদস্যরা রাজনীতির গন্ধে চিরকালের মতো শুকিয়ে গেল। সমাজসেবা করে কিছু সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, শাসকের বুটের আঘাত রোখা যায় না। তাই শাসকের অত্যাচার নেমে এলে পাল্টা আঘাত ফিরিয়ে দেওয়াই একমাত্র রাস্তা।

সরিষাপাড়ায় আজকের যে ছোট পেট্রোল পাম্প, তার পেছনে তখন একটা বাঈজিবাড়ি ছিল। প্রত্যেক রাতে নিয়ম করে সেখানে জুটমিলের তিনজন শ্বেতাঙ্গ সাহেব আসত। তাদের বেলেল্লাপনা আর চেঁচামেচির জ্বালায় পাড়ার লোক ঘুমোতে পারত না। শুধু কেউ সাহস করে কিছু বলত না ওরা ‘সাহেব’ বলে। এক রাতে কানাইলাল সেখানে হাজির হলেন। বারণ করা সত্ত্বেও সাহেবরা সেই 'রোগা-প্যাংলা' ছেলেটির কথায় কান না দিয়ে উল্লাস চালিয়ে গেল। কানাইলালও নাছোড়বান্দা! হাত পেঁচিয়ে সপাটে ঘুষি চালালেন এক সাহেবের নাকের হাড়ে। বোসাঁ-র বোতল হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেল, বাঈজিনাচের আসর থেমে গেল, মদ্যপ সাহেবরা বেগতিক দেখে পালিয়ে প্রাণে বাঁচল আর সেই রাত থেকে সরিষাপাড়ার ওই বাঈজিঘরে সাহেবদের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। কানাইলাল বন্দুক চালানো আর বক্সিং শিখেছিলেন ডুপ্লে কলেজের অধ্যাপক চারুচন্দ্র রায়ের থেকে। সরিষাপাড়ায় নিজের মামাবাড়ির উঠোনে লাঠিখেলার প্র্যাকটিস চালু করেছিলেন কানাইলাল যা পরের দিকে গুপ্তসমিতির মার্শাল টেকনিক হয়ে উঠেছিল। শিক্ষার প্রয়োগ, শাসকের বিরুদ্ধে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ নেওয়ার ম্যানিফেস্টো শুরু করলেন কানাইলাল দত্ত— যা আগামী দিনে নরেন-বধের ইতিহাসকে লিখে দিল অগ্নিযুগের 'প্রথম রাজনৈতিক হত্যা' হিসেবে।

লিখেছেন
Soumya Banerjee
Soumya Banerjee
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।