শাহজাহান কোথায়? 'ওঁরাই' সবটা জানেন!

Abhishek Banerjee on Sheikh Shahjahan : অভিষেকের দাবি, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন না হলে ১০ দিনের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত রাজ্য পুলিশ।

inscript
৩ মিনিট
শাহজাহান কোথায়? 'ওঁরাই' সবটা জানেন!

শিবু হাজরা গ্রেফতার, উত্তম সর্দার গ্রেফতার, শাহজাহানের ভাই শেখ সিরাজুদ্দিনকেও তৃণমূলের সব প্রশাসনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে। শেখ শাহজাহানকে ধরতে পারলেই সন্দেশখালি শান্ত হবে। তৃণমূলের বুকের উপর চাপানো প্রাক নির্বাচনী শঙ্কার জগদ্দল নেমে যাবে। কিন্তু কিছুতেই গ্রেফতার করা যাচ্ছে না শাহজাহানকে। নিন্দুকেরা অবশ্য বলছেন, করা যাচ্ছে না নয়, করা হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন শাহজাহান রয়েছেন সন্দেশখালিতেই। সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও বলছেন নিজের ডেরাতেই আছেন শাহজাহান। সবটাই জানে পুলিশ, অথচ! তবে কুণাল ঘোষ বলছেন, সাত দিনেই গ্রেফতার হবে শাহজাহান। ক'দিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন ১০ দিনেই শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত রাজ্য পুলিশ! যেভাবে এত নির্দিষ্ট করে সাত দিনে, দশ দিনের কথা বলছেন অভিষেক-কুণালরা, তাতে প্রশ্ন উঠছে, এত নিশ্চিত হচ্ছেন কী করে অভিষেক, কুণালরা? তারা কি রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী?

অভিষেক দিন কয়েক আগেই বলেছেন হাইকোর্টের স্থগিতাদেশই শাহজাহানকে গ্রেফতার না করতে পারার পিছনে মূল কারণ। হাইকোর্ট রাজ্য পুলিশের হাত-পা বেঁধে দিয়েছে। হাইকোর্ট পুলিশকে ক্ষমতা দিলেই এমনটা হতো না। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালি নিয়ে পুলিশের তদন্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই হিংসা এবং বিক্ষোভ শুরু হয় সন্দেশখালিতে।’’ অভিষেক জানাচ্ছেন, শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল রাজ্য সরকার। ইডি শাহজাহানকে ধরতে পারেনি কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গিয়ে রাজ্য পুলিশের ওই এফআইআরের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেয়েছে। আর স্টে অর্ডার বা স্থগিতাদেশ জারি করা হলে তো কাউকেই গ্রেফতার করা যাবে না বা কাউকে ডেকেও পাঠানো যাবে না। শাহজাহানকে কেন গ্রেফতার করছে না পুলিশ বলে প্রশ্ন তুলছে যারা, তাঁদের উদ্দেশ্যে সরাসরি অভিষেক বলছেন, পুলিশের উপর জারি হওয়া স্থগিতাদেশেরই সদ্ব্যবহার করেছে বিজেপি।

শেখ শাজাহান গ্রেপ্তার নিয়ে .

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সন্দেশখালি কি আজকের নন্দীগ্রাম?

Sandeshkhali : হেরোইন ব্যবসা থেকে শুরু করে গরুপাচার, কাঠপাচার এমনকী মানুষ পাচারের অভিযোগও ওঠে শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

সঠিক বলেছিলেন। আদালতের আইনি জটেই বিষয়টা আটকে ছিল। তার সুযোগে রাজনীতি করছিল বিরোধীরা। আজ হাইকোর্ট সেই জট খুলে পুলিশকে পদক্ষেপে অনুমোদন দেওয়ায় ধন্যবাদ। সাত দিনের মধ্যে শাজাহান গ্রেপ্তার হবে।

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

কিন্তু আদালত বলছে উল্টো কথা! কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শাহজাহান শেখকে গ্রেফতার করায় কোনও বাধা ছিল না পুলিশের। পুলিশকে এমন কোনও নির্দেশও দেওয়া হয়নি। ইডির মামলায় সিট গঠনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। শাহজাহানকে গ্রেফতার করা যাবে না এমন কথা কোথাও বলা হয়নি। পাল্টা জবাব দিতে অভিষেক আদালতের নির্দেশনামাটিই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দিয়েছেন। তাতে নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করে দেখিয়েছেন, রাজ্য পুলিশকে ইডির আবেদন সংক্রান্ত মামলায় কোনও রকম পদক্ষেপ এবং তদন্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। তৃণমূল এখন বলছে, আদালত বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়াতে শাহজাহানের গ্রেফতারিতে কোনও বাধা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় সন্দেশখালির জন্য কতটা আসন কমবে তৃণমূলের? প্রশান্ত কিশোর যা বলছেন

Prashant Kishore on Sandeshkhali : প্রধানমন্ত্রী ৩৭০ টি আসন জয়ের কথা বললেও বিজেপির একা এত আসন জেতার সম্ভাবনা শূন্য, বলছেন নির্বাচনী প্রকৌশলী পিকে।

তাই শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে দিচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এই রটনা সত্য নয়, দাবি অভিষেকের। অভিষেক বলছেন, সুদীপ্ত সেন থেকে শুরু করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধেও তৃণমূল ব্যবস্থা নিয়েছে। তাহলে শাহজাহান এমন কে যে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না? অভিষেকের দাবি, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন না হলে ১০ দিনের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত রাজ্য পুলিশ। কীভাবে এত নিশ্চিত করে বলছেন তিনি? তাহলে কি তৃণমূল জানে কীভাবে কোথায় শাহজাহানকে পাওয়া যাবে? বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্য পুলিশকে সময় দিচ্ছিল তৃণমূল।

BJP & ANTI BENGAL Media reaped the benefits of this EMBARGO like true opportunists!

CHRONOLOGY:

⏸️ STAY given on 7th.

▶️ VIOLENCE and VILIFICATION began the following day, on the 8th.

With yesterday's clarifications from Calcutta HC, I'm confident justice will soon prevail.

— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc)

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তো বলেই ফেলেছেন আদালতের আইনি জটেই বিষয়টা আটকে ছিল। আদালত যখন বলেছে শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে বাধা নেই তাহলে "সাত দিনের মধ্যে শাজাহান গ্রেপ্তার হবে।" কী করে ৭ দিনের টার্গেট রাখতে পারছেন কুণাল? তৃণমূল জানে ভোট করাতে শাহজাহানকে দরকার ওই অঞ্চলে, তাই কি এতদিন লুকিয়ে রাখা হচ্ছে? সন্দেশখালি যেভাবে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে শাসকদল। বিজেপি এবং অন্য বিরোধীদের চাপে, সর্বোপরি সন্দেশখালির মানুষের চাপে পরস্থিতি লাগামছাড়া হতে দেখেই এবার খাঁচা থেকে শাহজাহানকে বের করে আনার পালা? প্রশ্ন উঠছে, সন্দেশখালিকে শান্ত করতে, বিজেপির মুখে ঝামা ঘষে শাহজাহানকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে তৃণমূল যদি ভোটের আগে মোক্ষম অস্ত্রটি প্রয়োগ করেও, শাহজাহান পরবর্তী কোনও দাপুটে স্থানীয় নেতাকে তৈরি হয়ে গিয়েছে? এমন এলাকাতে ভোট করাতে, সাম্রাজ্য অটুট রাখতে বহু বহু শাহজাহানকে দরকার পড়ে শাসকের। সন্দেশখালির জ্বালা কি জুড়োবে শাহজাহানের গ্রেফতারিতে? নাকি তা আরও এক উত্থানের ভূমি তৈরি করবে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।