সেনার কাছে শরীর বিকোলে তবেই মিলবে খাবার! যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান যেন আস্ত নরক

Sudan Civil War: সামান্যতম খাবারের জন্য সেনাবাহিনীর সামনে গিয়ে নগ্ন হতে পর্যন্ত বাধ্য হন দেশের একের পর এক মহিলা। হ্যাঁ, ঠিক এতটাই নির্মম যুদ্ধের সারসত্যখানা।

Sohini Das
৩ মিনিট
সেনার কাছে শরীর বিকোলে তবেই মিলবে খাবার! যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান যেন আস্ত নরক

যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা। আর সেই খেলায় একদিকে থাকে জয়, আর অন্যদিকে ক্ষয়, ধ্বংসস্তূপ। মাঝখানে পড়ে পড়ে মার খায় 'উলুখাগড়া'-রা। এমনকী সামান্যতম খাবারের জন্য সেনাবাহিনীর সামনে গিয়ে নগ্ন হতে পর্যন্ত বাধ্য হন দেশের একের পর এক মহিলা। হ্যাঁ, ঠিক এতটাই নির্মম যুদ্ধের সারসত্যখানা। গত এক বছর ধরে গৃহযুদ্ধে ছারখার সুদান। আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ। গত নভেম্বরেই শোনা গিয়েছিল সেনা-আধাসেনার লড়াইয়ে কার্যত নরকে পরিণত হয়েছে দেশখানা। সেই গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। বাস্তুহারা কোটি কোটি মানুষ।

কখনও সে দেশের সেনাবাহিনীকে মাত দিচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী ব়্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স, তো কখনও পাল্টা দান ফিরিয়ে দিয়েছে সুদান সেনা। মধ্যিখানে পড়ে পড়ে মার খায় সাধারণ মানুষ। যারা জানে যুদ্ধ হলে মৃত্যু অবধারিত। অবধারিত দুর্ভীক্ষ। নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে হঠাৎ করে উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়াই নিয়তি। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের খবর নিয়ে আলোচনা হয়, গাজায় ইজরায়েলের অত্যাচার নিয়ে লেখালিখি হতে থাকে। কিন্তু অন্তরালেই থেকে যায় সুদানে চলে যাওয়া অসংখ্য প্রাণ। মানুষ প্রতিদিন মরে যান বেঘোরে। প্রতিদিন নিজের সত্তা বিক্রি করে দেন বাসিন্দারা সামান্য খাবার, জল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য কোনও জিনিসটুকু জোগার করতে।

সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা 'দ্য গার্ডিয়ান' তুলে এনেছে সুদান যুদ্ধের এমনই ভয়াবহ ছবি। যেখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম খাবারটুকুর জন্য সেনাবাহিনীর জওয়ানদের কাছে গিয়ে শরীর বিলোতে বাধ্য হন অজস্র মহিলা। প্রতিদিন সেনাবাহিনীর হাতে ভয়াবহ ভাবে ধর্ষিত হন তাঁরা। তবেই মেলে খাবার কিংবা জরুরি কোনও পণ্য। যা বেচে কোনও মতে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবী আবার শান্ত হবে! গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত কিশোরীদের স্বপ্ন দেখায় বক্সিং

Palestinian Girls Boxing: ইজরায়েলি সেনা ভেঙে দিয়েছে তাঁদের প্রশিক্ষণের জায়গাটি। একদিন যে বক্সিং ক্লাব তাঁদের হাতে গ্লাভস গলিয়ে নিতে শিখিয়েছিল, শিখিয়েছিল উঠে দাঁড়ানোর মন্ত্র, সেই ক্লাব আজ ধ্বংসস্তূপ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার হাসপাতালে রকেট হামলার দায় কার? কেন যুদ্ধের বলি নিরীহ শিশুরা?

Israel Gaza War : গাজার হাসপাতালে মেঝেতে শুইয়ে অ্যানাস্থেশিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার। রকেট হামলার দায় কার?

সেনাবাহিনীর এমন ভয়াবহ অত্যাচারে সুদানের ওমদুরমান শহর থেকে পালিয়ে গিয়েছেন অন্তত ২০ জন মহিলা। তাঁদের কাছ থেকেই জানা গিয়েছে সুদানের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা। পালিয়ে আসা এক মহিলার কথায়, "দেশের যে সব কারখানায় খাবার মজুত করা থাকে, সেখানেই মহিলাদের নিয়মিত ভাবে ধর্ষণ করে সেনা জওয়ানেরা। বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে। অসুস্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার প্রয়োজনেও মেয়েকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারেননি তিনি। বদলে নিজে গিয়েছেন সেনার কাছে। খাবার জোগারের আর কোনও পথ খোলা ছিল না যে তাঁর কাছে। ইচ্ছা করে খাবারের কারখানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ওরা। বাধ্য করা হয় যৌন সংসর্গে। ২১ বছরের সুদানের বাসিন্দা এক তরুণী ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গেলে মেলে নারকীয় শাস্তি। প্রথমে কিছু খাবারের আশায় একবার ধর্ষিত হয়েছিলেন তিনি। তবে তাতেও মেটেনি সেনাবাহিনীর আশ। ফের আবার তারা যৌন হেনস্থা করতে চাইলে প্রতিবাদ করেন তিনি। আর তার ফলাফল হয় মারাত্মক। তাঁকে মাটিতে চেপে ধরে তরুণীর দুই পা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ল আফ্রিকার সুদান। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হল আধাসেনা (র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স)-র। তার পর থেকে সে দেশে বারবার জওয়ানদের লালসার শিকার হয়েছেন মহিলারা। খাবার চেয়ে, জল চেয়ে, প্রাণ বাঁচাতে চেয়ে বারবার শরীর বিলিয়ে দিতে হয়েছে সেনাবাহিনী নামক ভক্ষকদের কাছে। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ঠিক কত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সুদানে, তার ইয়ত্তা নেই। সরকারি সূত্র বলছে, সেই সংখ্যাটা অন্তত দেড় লক্ষ তো হবেই। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া। যারা রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের জীবন যেন আস্ত নরক। পালিয়ে আসা মহিলাদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, নিজের বাড়িতে রান্নার জিনিসটুকু আনতে গিয়ে যে অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেই হাল যেন অতি বড় শত্রুরও না হয়।

প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদানের ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধ এখনও চলছে। কবে তার থেকে রেহাই মিলবে বাসিন্দাদের, তার উত্তর জানেন না কেউ! আর কতদিন ঠিক এই ভাবে দেশের সেনার হাতেই নিগ্রহের শিকার হবেন মহিলারা, তা-ও আবার সামান্য খাবারের জন্য, সেই উত্তরও অধরা সুদানবাসীর। এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এখন কোনও অভাবনীয়ের অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছেন সেখানকার 'উলুখাগড়া' মানুষজন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।