পূরণ হল না নীতীশের প্রত্যাশা, বিহারের বিশেষ মর্যাদার দাবিতে বড়সড় ‘না’ কেন্দ্রের

Bihar 'special category' status: স্পেশাল ক্যাটাগরি স্ট্যাটাস পাচ্ছে না বিহার। এবার সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র সরকার।

Sohini Das
৩ মিনিট
পূরণ হল না নীতীশের প্রত্যাশা, বিহারের বিশেষ মর্যাদার দাবিতে বড়সড় ‘না’ কেন্দ্রের

কিংমেকারের চেয়ারে বসেও প্রত্যাশা পূরণ হল না বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের। স্পেশাল ক্যাটাগরি স্ট্যাটাস পাচ্ছে না বিহার। এবার সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র সরকার।

এবারের লোকসভা ভোটে বিহারের মানুষ দু'হাত ভরে ভোট দিয়েছেন নীতীশ কুমারের দল জেডিইউকে। এমনকী ভালো ফল করেছে এনডিএ জোটের আওতায় থাকা বিহারের অন্যান্য ছোটখাটো দলগুলিও। লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগেই কংগ্রেসের হাত ছেড়ে ফের বিজেপির হাত ধরেছিলেন বিহারের 'পল্টুরাম' নীতীশ কুমার। আর সেই হাত ধরা যে জেডিইউ এবং বিজেপি, উভয়ের জন্যই লাভজনক হয়েছে তা প্রমাণ হয়ে গেল ভোটের ফলাফল হাতে আসতে না আসতেই। ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিহারে শুধু ভালো ফলই করল না জেডিইউ, কার্যত নীতীশ চলে এলেন কিংমেকারের চেয়ারে।

অন্যদিকে, এই লোকসভা ভোটে বিজেপি গোটা দেশ জুড়েই খুব একটা ভালো ফল করতে পারেনি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বপ্নও মাঠে মারা গিয়েছে। এই সময় বিহারে নীতীশ, অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নায়ডুদের মতো নেতাদের সমর্থন না পেলে তৃতীয় বার সরকার গড়া কঠিন হত বিজেপির পক্ষে। সেই সুযোগে একগুচ্ছ মন্ত্রক এবং একগুচ্ছ সুযোগসুবিধার কথা জানিয়ে রেখেছিল অধিকাংশ শরিক দলই। মন্ত্রক ভাগের বিষয়ে নীতীশের দাবিতে থাকা বেশ কয়েকটি দফতরের দায়িত্ব গিয়েছে জেডিইউয়ের ঝুলিতে। কিন্তু তার পরেও সব চেয়ে বড় দাবি ছিল বিহারকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে মর্যাদা পাইয়ে দেওয়ার। তবে তাতে রাজি নয় মোদি সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি মন্ত্রিসভা 3.O: বিজেপির ভাগ-বাঁটোয়ারা খুশি মনে মানবেন নীতীশ-নাইডুরা?

Modi 3.0 Cabinet: এখন কথা হচ্ছে, এই সমস্ত জরুরি মন্ত্রক কি বিজেপি হাতছাড়া করবে শরিকদের মন রাখতে? ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৯৩টি জিতেছে এনডিএ।

ভোটে জিতে কেন্দ্রে সরকার গড়েছে বিজেপি সরকার। সেই সরকার তড়তড়িয়ে চলছেও। এরই মধ্যে বোমা ফাটাল গেরুয়া শিবির। সর্বদল বৈঠকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হল জেডিইউয়ের অনুরোধ। জানিয়ে দেওয়া হল, কোনও রকম বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে না বিহার। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে কোনও নতুন রাজ্যকে এই মর্যাদা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেই জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

রবিবার আরজেডি নেতা মনোজ কুমার ঝা জানান, বিহার একই সঙ্গে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। আজ থেকে নয়, বিহার থেকে ভেঙে যখন ঝাড়খণ্ড স্বাধীন রাজ্য হয়, তখন থেকেই এই বিশেষ মর্যাদার দাবি জানিয়ে আসছে বিহার। যে দাবিকে প্রথম থেকেই অমূলক বলে এসেছে অনেকেই। তবে জেডিইউ নেতা মনোজ জানান, কেন্দ্রীয় সরকারি নীতির বদল চান তারা। বিহারকে বহু ক্ষেত্রেই শ্রম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই জায়গাটারও পরিবর্তন দাবি করেছেন তারা। এ সব কারণেই বিশেষ মর্যাদার দাবি বলেই জানান জেডিইউ নেতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিহারের মানুষকে ইচ্ছা করে অন্ধকারে রেখেছেন লালু-নীতীশ! চাঞ্চল্যকর দাবি প্রশান্ত কিশোরের

Prashant Kishor: ভোটকুশলীর কাজ অনেকদিন আগেই ছেড়েছেন প্রশান্ত কিশোর। বরং এখন তিনি মন দিয়েছেন নিজের রাজ্যের রাজনীতিতে।

১৯৬৯ সাল নাগাদ ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলের সভায় এই বিশেষ ক্যাটাগরি স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা হয়। গাডগিল সূত্র মেনে অসম, জম্মু-কাশ্মীর ও নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যগুলিকে পরবর্তী কালে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয়তাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ওই বছরই পঞ্চম অর্থ কমিশন নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলের ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা মাথায় রেখে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছিল। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সুবিধাবঞ্চিত রাজ্যগুলি কেন্দ্রীয় সহায়তা, করছাড়ের মতো বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে।

২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে মোট ১১টি রাজ্য এই বিশেষ মর্যাদার সুযোগ পেয়েছে। তবে ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় পরিকল্পনা কমিশন। তার বদলে কাজ শুরু করে নীতি আয়োগ। যার পরে ১৪তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বন্ধ হয়ে যায় গ্যাডগিল ফর্মুলাভিত্তিক অনুদানগুলি। ২০১৫ সালে ১৪তম অর্থ কমিশন শেয়ারেবল ট্যাক্স বণ্টনের ক্ষেত্রেও ভেদাভেদ তুলে দেয়। যার ফলে ক্রমে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রথাও মুখ থুবড়ে পড়ে।

ফলে বিহারের বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার আশাও নিভে গেল একেবারে। এতদিন ধরে ওই বিশেষ স্ট্যাটাসের আশা বুকে নিয়ে অপেক্ষায় ছিল নীতীশের দল। তবে সেই প্রত্যাশায় এবার একেবারে জল ঢেলে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।