কষ্ট ভুলতে গিয়ে আরও অবসাদ! ডিপ্রেশনের রোগী করে তুলতে পারে মদই?

Alcohol and Depression: অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রতি এক ডেসিলিটার রক্তে যখন ৫০ মিলিগ্রামে পৌঁছয় তখন মেজাজ ফুরফুরে লাগে।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
কষ্ট ভুলতে গিয়ে আরও অবসাদ! ডিপ্রেশনের রোগী করে তুলতে পারে মদই?

সুরাপ্রেমীরা বলেন মদ্যপানে মন ভালো হয়। মন খারাপ হলে কিংবা সপ্তাহান্তে কিঞ্চিৎ মন হালকা করার উদ্দ্যেশ্যে অনেকেই রওনা দেন ভাঁটিখানার উদ্দ্যেশ্যে। সামান্য মদ্যপানের পরই যখন মেজাজ ফুরফুরে হয়, যাকে বলে ‘হ্যাপি হাই’- তারপর কেউ কেউ নিজেকে ভাবেন রবীন্দ্রনাথ, কেউ কার্ট কোবেন, কেউ বা ক্রিস্টোফার নোলান। তারপর বেশ খানিকটা পেটে পড়ার পর, ধীরে ধীরে অবসাদ বা একাকীত্বের মেঘ নেমে আসে। আর আসল প্রশ্নটা এখানেই শুরু হয়। মদ কি সত্যিই আমাদের মন ভালো করে? কতটা মদ খেলে মস্তিষ্ক আমাদের সঙ্গে বেগড়বাঁই শুরু করে?

গবেষণা বলছে, অ্যালকোহলের পরিমাণ প্রতি এক ডেসিলিটার রক্তে যখন ৫০ মিলিগ্রামে পৌঁছয় তখন মেজাজ ফুরফুরে লাগে। আমরা নিজেদের জড়তা বা মনের ভেতর পুষে রাখা সামাজিক বাধাগুলোকে ছাড়িয়ে ফেলি, কথা বেশি বলি। আবার কখনও কখনও নিজেরা যে কাজগুলো করতে পটু, সেই কাজগুলোতেও একটু ভুলভ্রান্তি করে ফেলি। কিন্তু তারপর পেটে যখন আরেকটু মদ পড়ে, মানে ধরুন তখন প্রতি ডেসিলিটার রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ ১০০ মিলিগ্রাম ছাড়িয়েছে- শুরু হয় অ্যাটাক্সিয়া, নিজের মেজাজ এবং আচার-ব্যবহারে পরিবর্তন এবং ধীরে ধীরে আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কাজ বিঘ্নিত হতে শুরু করে। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ডিপ্রেশন’।

ডিপ্রেশনের বাংলা নিম্নচাপ হলেও হতে পারে কিন্তু ডিপ্রেশনের বাংলা মন খারাপ কখনও নয়। আপাতত ডিপ্রেশন আর মন খারাপের পার্থক্য কী কী এবং কেন দু’টি বিষয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে, সেই প্রসঙ্গ অন্য কোনওদিনের জন্য তুলে রেখে এটুকুই বলা যায়, ডিপ্রেশন হলে অবসাদ অবশ্যই হয়। তবে ডিপ্রেশন মানে কেবল অবসাদকেই বোঝায় না। ডিপ্রেশন মানে শরীরের পুরো সিস্টেম অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্র তো বটেই, পাচন, পুষ্টি, রেচন, স্বাভাবিক যৌন চাহিদা, অনাক্রম্যতা-সহ নিজের দৈনন্দিন জীবন বিঘ্নিত হয়। পুরো সিস্টেমটাই যেন একপ্রকার বৈকল্যের শিকার হয় এবং সেই কারণেই অ্যালকোহলকে বলা হচ্ছে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ‘সাইকোট্রপিক ডিপ্রেসেন্ট’। NSW-এর স্বাস্থ্য দপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী যে সমস্ত বস্তু আমাদের মানসিক কাজ, আমাদের আচার-আচরণ এবং আমাদের সার্বিক মানসিক ও শারীরিক অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে বিকল করে বা বিঘ্নিত করে, তাদেরকে ‘সাইকোট্রপিক ডিপ্রেসেন্ট’ বলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কীভাবে তৈরি হত কন্ডোম? তাজ্জব করবে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ প্রাচীন কন্ডোমের এই ইতিহাস

History of Condom: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্রের পাশাপাশি কন্ডোমও জোগান দেওয়া শুরু হয়। যদিও কন্ডোম ব্যবহারে বেশ নাক সিঁটকাত আমেরিকান ও ব্রিটিশ সেনারা।

অ্যালকোহল প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করলেও, যেহেতু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আমাদের শরীরের বাদবাকি সিস্টেম বা তন্ত্রকেও নিয়ন্ত্রণ করে, তাই সার্বিক প্রভাব পড়ে শরীরের উপর। তাই ‘ডিপ্রেসড’ হয়ে পড়ে সমগ্র শরীরের বাকি তন্ত্রগুলিও। দীর্ঘকালীন অ্যালকোহল সেবনে কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে শুরু হয় সাইকোমোটোর ডিপ্রেশন। অর্থাৎ, যে সমস্ত নার্ভ আমাদের পেশির চলন এবং প্রকারান্তরে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের চলন নিয়ন্ত্রণ করে, সেই পুরো ব্যবস্থাটাই বিঘ্নিত হয়। শুধু তাই নয়, স্মৃতিশক্তি এবং যুক্তিভিত্তিক ভাবনা-চিন্তা করতেও সমস্যা দেখা যায়। এর পাশাপাশি আমাদের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’-কে সক্রিয় করে তোলে অ্যালকোহল। ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ আদতে আমাদের পুরস্কার, আনন্দ, বা ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাকে একটু বাড়িয়ে তোলে। আর আমরা যেখানে প্রাথমিকভাবে অ্যালকোহল সেবনে আনন্দই পাই, যা আমাদের কাছে একপ্রকার পুরস্কার বা রিওয়ার্ড, সেখানে দাঁড়িয়ে আরও মদ্যপানে ইচ্ছে হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর সেখান থেকে বাড়বে আরও মদ্যপানের ইচ্ছে এবং নেশা হওয়ার সম্ভাবনা।

অ্যালকোহল মস্তিষ্কের একাধিক প্রকার স্নায়ুর কাজকে প্রভাবিত করে। প্রভাবিত করে স্নায়ু থেকে ক্ষরিত বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটারের কাজকে। স্নায়ুকোশের পর্দায় লেগে থাকে বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার রিসেপ্টর। যার মধ্যে অন্যতম গামা-অ্যামাইনোবিউটাইরিক অ্যাসিড (GABA), গ্লুটামেট, এন্ডোক্যানাবিনয়েডস প্রভৃতি। আলকোহল গিয়ে সরাসরি আবদ্ধ হয়ে সেই নিউরোট্রান্সমিটার রিসেপ্টরগুলিতে। নির্দিষ্ট নিউরোট্রান্সমিটার রিসেপ্টর নির্দিষ্ট নিউরোট্রান্সমিটারের যাতায়াতের পথ, আর সেই পথে গিয়ে যদি অ্যালকোহল নিজেই গিয়ে বসে পড়ে, নিউরোট্রান্সমিটারের যাওয়া আসা এবং কাজ যে ব্যহত হবে, তা তো আন্দাজ করাই যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মদ না খেয়েই মাতাল! জানেন কোন কঠিন অসুখ বাসা বাঁধছে আপনার শরীরে

Auto Brewery Syndrome: ধরুন শরীর যদি নিজেই অ্যালকোহল তৈরি করে আপনাকে মদের নেশায় ডুবিয়ে দিত, তাহলে কেমন হতো?

ঠিক সেই জন্যেই অ্যালকোহল গাবামিনার্জিক নিউরোট্রনাসমিশন পাথওয়েকে প্রভাবিত করলে ঘুম ঘুম পায়, জড়তা কাটে এবং প্রাথমিকভাবে মেজাজ হালকা হয়। একই বিষয় দেখা যায় সেরোটোনিনারজিক পাথওয়েকে প্রভাবিত করলে। তখন সেরোটোনিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। ডোপানিনার্জিক পাথওয়েকে প্রভাবিত করলে আনন্দ পায়, সন্তুষ্টি বোধ আসে। কিন্তু তার পাশাপাশি আরও অ্যালকোহল সেবনের ইচ্ছে বাড়ে। কিন্তু গ্লুটামিনার্জিক পাথওয়ে অর্থাৎ গ্লুটামিন যে পথে কাজ করে– সে অ্যালকোহলের জন্য প্রভাবিত হলে কগনিটিভ ফাংশন নষ্ট হয়, চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা, যুক্তি দিয়ে ভাববার ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিঘ্নিত হয় স্বাভাবিক ঘুমের রুটিন।

অ্যালকোহল কেবল নিউরোট্রন্সমিটার রিসেপ্টরকেই প্রভাবিত করে না। প্রভাবিত করে নিউরোন বা নার্ভকোশের দেওয়ালে আবদ্ধ সোডিয়াম ও পটাশিয়াম চ্যানেলকেও। এই দুই চ্যানেলই নিউরোনের মধ্যে দিয়ে রাসায়নিক সংকেত বয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। সাহায্য করে একাধিক নিউরোট্রান্সমিটারকেও। এর ফলে বিভিন্ন অবসাদ, রাগ, দুঃশ্চিন্তার মতো মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি পেশির স্বাভাবিক কাজ ব্যহত হয়।

একাধিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে,অ্যালকোহলিক ইউজ ডিসঅর্ডার (সংক্ষেপে AUD) থেকে দেখা যেতে পারে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার। যারা ইতিমধ্যেই অ্যালকোহলিক ইউজ ডিসঅর্ডারের শিকার, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২.৩ গুণ বেশি সম্ভাবনা আছে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে ভোগার। আশ্চর্যের বিষয় হল, যাঁরা অ্যালকোহল নির্ভরতার (Alcohol dependence) শিকার তাঁদের মধ্যে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে ভোগার আশঙ্কা, alcohol abuse-এর শিকার যারা, তাঁদের থেকে বেশি। দেখা যাচ্ছে যাঁরা অ্যালকোহল নির্ভরতার শিকার, তাঁদের মধ্যে ৩.৭ গুণ সম্ভাবনা বেশি ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে ভোগার। আবার এও দেখা যাচ্ছে, যাঁদের মধ্যে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার রয়েছে, তাঁদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যার মানুষদের মধ্যে অ্যালকোহলিক ইউজ ডিসঅর্ডারে ভোগার আশঙ্কা থাকে।

সুতরাং, সুরাকে আপনার মন খারাপের ওষুধ বলার আগে, একবার ভাববেন না কি?

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।