HMPV: গুজব না কি আতঙ্ক? বাস্তবে কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাস?

HMPV Virus: গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের HMPV ভাইরাস সৃষ্ট রোগে ভুগে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।

inscript
৩ মিনিট
HMPV: গুজব না কি আতঙ্ক? বাস্তবে কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাস?

নতুন বছরের গোড়াতেই সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হয়েছে নতুন একটি ইস্যুতে। সৌজন্যে ভারতীয় মূলধারার মিডিয়া। কোভিডের আতঙ্ক কাটিয়ে জীবন প্রায় স্বাভাবিকই এখন। তবু, ভাইরাসঘটিত রোগবালাই বললেই অন্তত আগামী কয়েক দশক করোনাভাইরাসই প্রকাণ্ডতম উদাহরণ হয়ে থাকবে। জানা গিয়েছিল, ওই ভাইরাসের উৎসস্থল চিনের উহান প্রদেশ। বছর চারেক পর আবারও শিরোনামে ওই একই প্রদেশ, আবারও কারণ ভাইরাসই। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ পাতলেই দেখা যাচ্ছে, কোনও এক মস্ত ভাইরাস 'ধেয়ে' আসছে (প্রায় ধূমকেতুসমই) আবার। কী লক্ষণ, কী উপসর্গ, কতটা ভয়াবহ, আদৌ বিপজ্জনক কিনা এই নিয়ে অবশ্য সেখানে বিশদ নেই। সংবাদবাধ্যমগুলি জানাচ্ছে HMPV মূলত শিশু আর বয়স্কদের কাবু করে ফেলছে। খবরটা ভুল নয়। কিন্তু তা নয়া মহামারী বা তা ভারতের ক্ষেত্রেও কি বিপজ্জনক?

SARS-CoV-2 ভাইরাসের সূত্রপাত চিনের উহান প্রদেশেই। সেই ঘটনার প্রায় বছর পাঁচেক পরে, শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) সহ ভাইরাসসৃষ্ট তীব্র শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই দেশে, বিশেষ করে এর উত্তরাঞ্চলে। বছরের এই সময়ে শ্বাসযন্ত্রের রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়। চিনের একজন কর্মকর্তার মতে, ২০২৪ সালে এই ধরনের যত ঘটনা ঘটেছে সেই সংখ্যাটা ২০২৩ সালের তুলনায় কমই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাস নিয়ে কোনও বার্তাই দেয়নি, এটি বিপজ্জনক কিনা তা নিয়ে কোনও শব্দও খরচ করেনি। এমনকী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও প্রায় নীরব। কিন্তু ভারতীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যম চিনে এইচএমপিভি-র প্রকোপ নিয়ে একের পর এক খবরে উদ্বেগ বাড়িয়েই চলেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আমাদের শরীরে লুকিয়ে প্রাচীন ভাইরাসের জিন! নতুন গবেষণায় তোলপাড় বিশ্বজুড়ে

Viral Genome: নতুন গবেষণা বলছে, মানব-শরীরের ভিতরে থাকা ভাইরাসের অংশবিশেষ বাইরের ভাইরাস দ্বারা আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে যৌথ মনিটরিং গ্রুপের একটি সাম্প্রতিক বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে, চিনের পরিস্থিতি "চলমান ফ্লু ঋতুর পরিপ্রেক্ষিতে অস্বাভাবিক নয়”। বলা হয়েছে এই মরশুমে প্রত্যাশিত স্বাভাবিক রোগজীবাণুর কারণেই মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন, শ্বাসযন্ত্রের রোগের বৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে। ২০০১ সালে নেদারল্যান্ডে শিশুদের মধ্যে প্রথম HMPV ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। HMPV-এর সংক্রমণ সাধারণত পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে থাকা শিশুদেরই হয় এবং সারা জীবন পুনঃসংক্রমণ ঘটে কারণ ভাইরাসটি আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় যার ফলে শরীর সংক্রমণ প্রতিরোধের শক্তি হারিয়ে দেয়। এই ভাইরাসটি উপরের এবং/অথবা নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ সবচেয়ে সাধারণ ঘটনা। এই ভাইরাসটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হালকাই সংক্রমণ ঘটায়। তবে এটি গুরুতর অসুস্থতার কারণও হতে পারে যার জন্য শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়তেও পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোথা থেকে এল ভয়াবহ নিপা ভাইরাস? জেনে নিন

কোথা থেকে এল ভয়াবহ নিপা ভাইরাস? জেনে নিন। কেরলে জারি হয়েছে সতর্কতা, কী রোগের লক্ষণ? বিস্তারিত পড়ুন।

২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের ৩%-১০% হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এদের মধ্যে ১% নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণজনিত মৃত্যুর মুখে পড়ে, যা HMPV ভাইরাস ঘটিত অসুখ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিশেষ করে নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের HMPV ভাইরাস সৃষ্ট রোগে ভুগে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। চিনে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক HMPV কেস শনাক্ত করা গেছে কারণ এই ভাইরাসটি নিয়ে ব্যাপক নজরদারি চলছে, চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও।

ভারতে কিন্তু এই ভাইরাসের আক্রমণ পরীক্ষার কোনও অনুমোদিত সস্তা পদ্ধতিই নেই। তীব্র শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীদের HMPV পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত কারণ ভাইরাসটি ভারত সহ বিশ্বে বহু বছর ধরেই রয়েছে। অল্পবয়সি শিশুদের মধ্যে প্রাণহানির হার ১%। ভারত এখন শুধুমাত্র HMPV-এর জন্য পরীক্ষাগারের সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিনে HMPV সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে। তবে ভারতে অত্যন্ত জরুরিভাবে প্রয়োজন একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর। কম পরিচিত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে তা পরীক্ষা করে দ্রুত শনাক্ত করার মতো কাঠামোই নেই ভারতে। তাই HMPV নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর বদলে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সওয়াল তোলাও বেশিই জরুরি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।