নলি কাটা, মুখ পোড়া তরুণীর দেহ! বসিরহাট নিয়ে অমিত মালব্য যা লিখলেন, কতটুকু সত্য?

Amit Malviya on Basirhat Border Murder: গলার নলি কেটে খুন করা হয় সুমাইয়াকে। যাতে কোনওভাবেই চেনা না যায় তাই মুখে ওড়না বেঁধে আগুন লাগিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

inscript
৩ মিনিট
নলি কাটা, মুখ পোড়া তরুণীর দেহ! বসিরহাট নিয়ে অমিত মালব্য যা লিখলেন, কতটুকু সত্য?

"এই হল পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। উত্তর ২৪পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে একটি বাগান থেকে রক্তে ভেসে যাওয়া গলা কাটা, মুখ পুড়িয়ে দেওয়া এক যুবতীর দড়ি দিয়ে বাঁধা দেহ মিলল, দেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি শব্দও উচ্চারণ করবেন না।" জ্বালাময়ী এক টুইট লিখলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। পশ্চিমবঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে এক তরুণীর দেহ মেলে তা সত্য, দেহ শনাক্ত করার অবস্থাতেও ছিল না তাও সত্য। তবে সত্যের ঊর্ধ্বে আরেক সত্য রয়েছে। তার সন্ধান অমিত মালব্য দেননি স্বাভাবিকভাবেই। অর্ধসত্য মিথ্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর। ভারতীয় সীমান্তে যে মহিলার দেহ মিলেছে তিনি একজন বাংলাদেশি তরুণী! স্বরূপ নগর সীমান্ত লাগোয়া গুনরাজপুর গ্রামে ঘটে এই ঘটনাটি।

পুলিশ তদন্তে নেমে জানাচ্ছে, তরুণীর নাম সুমাইয়া আখতার বৃষ্টি। তিনি বাংলাদেশের ঢাকার শ্যামপুরের বাসিন্দা। বাংলাদেশি এই তরুণী বেশ কিছুকাল আগে দালাল মারফৎ ভারতে এসে পড়েন, যেমন হাজারও মানুষ এসে থাকেন কাজের সন্ধানে। তারপর অধিকাংশ মেয়ের যা হয়, তাই ঘটে। মুম্বইয়ের যৌনপল্লীতে পাচার করে দেওয়া হয় সুমাইয়াকে। তবে সেখান থেকে পালান সুমাইয়া আখতার বৃষ্টি। বাংলাদেশ ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। গভীর রাতে সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়িয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি কারণ ওঁৎ পেতেছিল সেই দালাল চক্র, যে চক্রই তাঁকে বিক্রি করে দেয় মুম্বইয়ে। পুলিশের অনুমান, দালাল ও তরুণীর মধ্যেকার বনিবনার সমস্যার জেরেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বাংলাদেশের তরুণী সুমাইয়াকে।

অমিত মালব্য লিখলেন, "তৃণমূলের পৃষ্ঠপোষকতায় নারী পাচারে জড়িত অপরাধীরা এই হত্যার পিছনে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।" অমিত মালব্য এর সঙ্গে জুড়ে দিলেন বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটকেও। বললেন কুম্ভীরাশ্রুর জন্য 'সুপরিচিত' রাহুল গান্ধী কি পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিরস্কার করবেন? নাকি জোট বাঁচাতে মুখে কুলুপ আঁটবেন?

This is the situation of law and order in West Bengal.

Tied-up body of a young woman with her throat slit and face charred beyond recognition, was found in a pool of blood from an orchard close to the India-Bangladesh border in North 24-Parganas.

But Mamata Banerjee won’t utter…

— Amit Malviya (@amitmalviya)

অথচ পুলিশ তদন্তে জানাচ্ছে বাংলার মেয়েকে পুড়িয়ে মারা হয়নি। গল্প একেবারেই অন্য। গলার নলি কেটে খুন করা হয় সুমাইয়াকে। যাতে কোনওভাবেই চেনা না যায় তাই তাঁর মুখে ওড়না বেঁধে তাতে আগুন লাগিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ছোট ছোট বাঁশ দিয়ে হাত-পা একসঙ্গে বেঁধে ফেলে রেখে দেওয়া হয়। যেখানে তাঁর লাশ পড়েছিল, সেখানেই পুলিশ তরুণীর বাংলাদেশি পরিচয় পত্র ও ফোন নম্বর লেখা একটি ডায়রি পায়। সেই সব নম্বরের সূত্র ধরে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হয়।

বসিরহাট জেলা পুলিশ বলছে, সুমাইয়া আখতার বৃষ্টির সঙ্গে থাকা টাকা এবং সোনাদানার লোভেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ দেহের আশপাশ থেকে এই ধরনের কোনও জিনিসপত্রই মেলেনি। এই ঘটনায় নিছর আলি মোল্লা নামে এক ভারতীয় দালালকে আটকও করা হয়।

এই গোটা ঘটনাটির সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের সম্পর্ক অমিত মালব্য খুঁজে পেলেও আসলে তা আছে কিনা এই হিসেব সামান্য সচেতন নাগরিকই করতে পারবেন। এর আগেও মণিপুরের ঘটনার সঙ্গে বাংলার ঘটনাকে মেলানোর চেষ্টা হয়েছে। নানা উপায়ে নানা উদাহরণ তৈরির চেষ্টা সবসময়ই সব পক্ষ করে। কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তে এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের মেয়েদের খুন হয়ে যাওয়া ও পাচার হয়ে যাওয়াও নতুন না। সুমাইয়া আখতারের ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারির ঘটনা। ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যায় বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানি খাতুন। বেআইনিভাবে সীমান্ত ডিঙোনোর শাস্তি। শুধু খুন না, সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের 'সবক' শেখাতে সীমান্তের কাঁটাতারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলানির প্রাণহীন দেহ ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ক্রমাগত বিচারের দাবির প্রেক্ষিতে কোচবিহারের একটি বিএসএফ বিশেষ আদালত ২০১৩ সালের ১৩ অমিয়র বিচার শুরু করে। কিন্তু ৬ সেপ্টেম্বর ওই আদালত বিএসএফ সেনার উপর থেকে হত্যার সব অভিযোগ সরিয়ে নেয়।

সুতরাং মিথ্যা ভয়ঙ্কর, কিন্তু অর্ধসত্য আরও ভয়ঙ্কর। গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে অমিত মালব্যরা কতদূর যাবেন?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।