নজরে আরজি কর, এবার মমতা প্রশাসনকে প্রশ্ন রাহুল গান্ধির

Rahul Gandhi on R G kar Incident: ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন ঠেকাতে আইন আনার বিষয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলের বিরোধী দলনেতা। সেই প্রসঙ্গেই তুলে আনেন ২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়াকাণ্ডের কথা।

inscript
৩ মিনিট
নজরে আরজি কর, এবার মমতা প্রশাসনকে প্রশ্ন রাহুল গান্ধির

আরজি করে মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসককে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তোলপার দেশ। প্রায় গোটা দেশ জুড়েই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এর মধ্যেই প্রতিবাদে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতায় তৃণমূল, যারা কিনা ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম জোটসঙ্গীও বটে। তবে আরজি করে যেভাবে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে, তার নিন্দা করতে নেমে রাহুল গান্ধি রেয়াত করলেন না সেই জোটসঙ্গীকেও।

এবারের লোকসভা ভোটের ইন্ডিয়া জোটের দুর্দান্ত ফলাফলে পিছনে বাংলায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা যে বড় ছাপ রেখেছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। তবে তার পরেও বাংলায় তৃণমূলের শাসনে যে নক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে নিন্দায় উত্তাল দেশ। আর তার প্রতিবাদে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুলিশ-প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনার জন্য দুষলেন কংগ্রেস নেতা ও দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুধবারও বন্ধ আউটডোর-সহ একাধিক বিভাগ! দেশ জুড়ে যে পরিস্থিতি স্বাস্থ্য পরিষেবার

Doctor's Protest: আরজি করের পাশাপাশি ন্যাশনাল মেডিক্যাল, এসএসকেএম, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো হাসপাতালগুলিতেও বিক্ষোভ চলছে লাগাতার। বন্ধ রয়েছে আউটডোর পরিষেবা। বহু রোগীকেই পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে রাহুল জানান, ‘‘কলকাতায় এক জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণ ও খুনের জঘন্য ঘটনায় হতবাক গোটা দেশ। যে ভাবে তাঁর উপর নৃশংস, অমানবিক অত্যাচার হয়েছে, তাতে চিকিৎসক সমাজ এবং নারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ স্পষ্ট।’’ এখানেই না থেমে রাজ্যকে নিশানা করে রাহুলের মন্তব্য, ‘‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসন সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনা আমাদের ভাবতে বাধ্য করেছে যে, মেডিক্যাল কলেজের মতো জায়গায় যদি চিকিৎসকেরা নিরাপদ না থাকেন, তা হলে অভিভাবকেরা কোন ভরসায় তাঁদের মেয়েকে পড়তে পাঠাবেন?’’

कोलकाता में जूनियर डॉक्टर के साथ हुई रेप और मर्डर की वीभत्स घटना से पूरा देश स्तब्ध है। उसके साथ हुए क्रूर और अमानवीय कृत्य की परत दर परत जिस तरह खुल कर सामने आ रही है, उससे डॉक्टर्स कम्युनिटी और महिलाओं के बीच असुरक्षा का माहौल है।

पीड़िता को न्याय दिलाने की जगह आरोपियों को…

— Rahul Gandhi (@RahulGandhi)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নারীসুরক্ষার দাবিতে রাত দখল অভিযানে গোটা বাংলা! দেখে নিন কোথায় কোথায় রাতমিছিল?

R G Kar Hospital Incident Protest: আন্দোলনের প্রাথমিক আহ্বানে ওই জমায়েতের স্থান হিসেবে তিনটি জায়গার কথা বলা হয়েছিল— কলেজ স্ট্রিট, অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস এবং যাদবপুর এইটবি বাস স্ট্যান্ড।

তবে শুধুই যে তৃণমূল শাসিত বাংলার প্রশাসন বা হাসপাতাল পরিকাঠামোকে দুষেছেন রাহুল, এমনটা নয়। একই সঙ্গে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন ঠেকাতে আইনের বিষয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলের বিরোধী দলনেতা। সেই প্রসঙ্গেই তুলে আনেন ২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়াকাণ্ডের কথা। এ প্রসঙ্গে রায়বরেলীর কংগ্রেস সাংসদের প্রশ্ন, নির্ভয়া মামলার পর তৈরি হওয়া কঠোর আইনও কেন এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে ব্যর্থ?’’ বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের হাথরস থেকে শুরু করে উন্নাও, এমনকী কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীকে কাঠুয়া ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গেও আরজি করের ঘটনার তুলনা টানেন এদিন রাহুল। সোশ্যাল মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে করা পোস্টে তাঁর বক্তব্য, ‘‘হাথরস থেকে উন্নাও এবং কাঠুয়া থেকে কলকাতা পর্যন্ত মহিলাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অপরাধের ঘটনার বিষয়ে, প্রতিটি দল এবং সমাজের প্রতিটি অংশকে গুরুত্ব সহকারে একসঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং দৃঢ় পদক্ষেপ করতে হবে।’’

বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েই মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে সরব হয়েছিলেন রাহুল। সেখানে মেয়েদের উপর হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন তিনি। ইতিমধ্যে একাধিকবার মণিপুরে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি চর্মচক্ষে দেখে এসেছেন তিনি। সেই রাহুল যে আরজি কর হাসপাতালের ভিতরে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় সরব হবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী! একই সঙ্গে এদিন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান রাহুল। তিনি লেখেন, ‘এই অসহনীয় যন্ত্রণার সময় আমি নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছি। প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত এবং অপরাধীদের এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যা সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

একদিন আগেই আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা। তার পরে এদিন সরাসরি এক্সে আরজি কর কাণ্ডের নিন্দা করলেন রাহুল। কার্যত বিঁধতে ছাড়লেন না জোটসঙ্গী তৃণমূলকে। রাহুলের এই পোস্ট সামনে আসার পরেই রাহুলকে পাল্টা বেঁধেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। রাহুল গান্ধির এ হেন বক্তব্য 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।