বাড়ি থেকে বেরোবেন না! বাংলাদেশের প্রবাসী ভারতীয়দের সাবধান করলেন মোদি

Agitation in Bangladesh: সংরক্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে এই দেশজোড়া অশান্তির মধ্যেই বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি অ্যাডভাইজারি জারি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

Sohini Das
৩ মিনিট
বাড়ি থেকে বেরোবেন না! বাংলাদেশের প্রবাসী ভারতীয়দের সাবধান করলেন মোদি

অশান্ত বাংলাদেশ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই উত্তাল গোটা দেশ। মঙ্গলবার ছাত্রবিক্ষোভ চলাকালীন নিরস্ত্র পড়ুয়াদের উপর গুলি চালায় পুলিশ ও আধাসেনা। অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে সেদিনের বিক্ষোভে। জখম অসংখ্য। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার গোটা দেশ জুড়ে কমপ্লিট শাটডাউনের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী। যা কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা দেশ। বন্ধ যান চলাচল। রাস্তাঘাটে পুলিশের গাড়ি আর অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া অন্য কোনও যানবাহন দেখা যাচ্ছে না রাস্তায়। জরুরি পরিষেবা বাদ দিয়ে বন্ধ বাকি সমস্ত বেসরকারি অফিস, দোকান বাজার থেকে সব কিছুই। ক্রমশ বাড়ছে বিক্ষোভের উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কর্মসূত্রে বহু ভারতীয়ই বাংলাদেশে থাকেন। বাংলাদেশে আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব রয়েছে অনেকেরই। বাংলাদেশে যে ভাবে অশান্তির আগুন ছড়িয়েছে, তাতে উদ্বেগ বেড়েছে ভারতীয়দের। অশান্তির জেরে বাংলাদেশের বহু জায়গাতেই বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। বহু জায়গাতেই ফোনও কাজ করছে না ঠিক মতো। স্বজনবান্ধবদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে অনেককেই।

সংরক্ষণবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে এই দেশজোড়া অশান্তির মধ্যেই বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি অ্যাডভাইজারি জারি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বৃহস্পতিবার একটি সতর্কবার্তা জারি করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে যেসব ভারতীয় নাগরিক ও পড়ুয়ারা রয়েছেন, তাঁরা যেন এই সময়ে ভ্রমণের মতো ব্যাপারগুলি এড়িয়ে যান। এমনকী বাড়ির বাইরে বেরোনোর ব্যাপারেও তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ শাটডাউন, হাসিনার পুলিশের নিশানায় সেই বিএনপি

Bangladesh job quota protest: এদিকে শাসক দল এই বিশৃঙ্খলার দায় চাপিয়েছে বিরোধী দল বিএনপির উপরেই। প্রশাসনের তরফে দাবি, শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপি এবং জামাত-ই-ইসলামির কর্মীরা হামলার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ইতিমধ্যেই ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনের তরফেও বাংলাদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাই কমিশনের তরফেও বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী ভারতীয়দের সমস্ত রকম ভ্রমণ বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে হাইকমিশনের তরফে। বাংলাদেশের বিশেষ একটা-দু'টো জায়গা নয়, গোটা দেশের বড় অংশ জুড়েই ছড়িয়েছে অশান্তির আগুন। ছাত্রবিক্ষোভে পুড়ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনার মতো একাধিক জায়গা। ইতিমধ্যেই সেই সব জায়গাগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়রা যাতে প্রয়োজন পড়লে হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্য আলাদা আলাদা হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। ফোন তো বটেই, প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

Advisory on the ongoing situation in Bangladesh.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্ধ স্কুল-কলেজ, বিকল ইন্টারনেট! যে অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

Bangladesh quota protest: ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায় এ দিন সকাল থেকেই। এমনকী সেই অফিসের মূল ফটকের সামনে ক্রাইম সিন লিখে সিলও করে দিয়েছে পুলিশ।

— India in Bangladesh (@ihcdhaka)

বৃহস্পতিবারের দেশজোড়া শাটডাউনে কার্যত স্তব্ধ গোটা বাংলা দেশ। রাজধানী ঢাকা-সহ বিভিন্ন শহর জুড়ে ধর্মঘটের ছবি। তার সঙ্গেই বিভিন্ন জায়গায় চলছে ধর্না, অবস্থান বিক্ষোভ এবং অবরোধ। মঙ্গলবার বিকেলে দেশ জুড়ে যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার বলি ৬। জখম অসংখ্য। বুধবারও গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে ঢাকা-সহ বিভিন্ন জায়গায়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করা পরিবারগুলির জন্য চাকরিতে এতদিন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল সেখানে। সেই সংরক্ষণ বাতিলের দাবিতে পথে নেমেছে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের দাবি এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের সমর্থকদের এগিয়ে রাখতে চায় বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামি লিগ। মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে পথে নেমেছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। এ নিয়ে ২০১৮ সালেও গর্জে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই ফের উত্তাল হয়ে উঠল পড়শি দেশ।

দেশ ভাগের পঁচাত্তর বছর কেটে গেলেও এখনও ভারতের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবেই জড়িয়ে ভারত। ফলে পড়শি দেশের অশান্তির ছায়া খুব সহজেই এসে পড়ে এপার বাংলাতেও। চাকরিসূত্রে বা পড়াশোনার প্রয়োজনে বহু ভারতীয়ই বাংলাদেশে যান। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে। ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সামলাতে দেশের সমস্ত স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যেতে চাওয়া ভারতীয়দের যাত্রা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।