অনলাইন এফআইআর, কমান্ড সেন্টার! বাংলাদেশ পুলিশকে যেভাবে সাজাচ্ছেন ইউনূস

Bangladesh Command Center: ইউনূস বলেছেন, "আমাদের ততটাই সতর্ক থাকতে হবে যেন আমরা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এই বছরটি দেশের জন্য অত্যন্ত সংকটময়।"

inscript
৩ মিনিট
অনলাইন এফআইআর, কমান্ড সেন্টার! বাংলাদেশ পুলিশকে যেভাবে সাজাচ্ছেন ইউনূস

'নয়া' বাংলাদেশ গঠনের কাজ চলছে। অগাস্টের গণ অভ্যুত্থানের জেরে শাসক হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়াতে স্বাভাবিক ভাবেই অস্থির হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, হাসিনা আমলে দুর্নীতি— সমস্ত ইস্যু নিয়েই মাসের পর মাস উত্তাল থেকেছে বাংলাদেশ। সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস একাধিকবার জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়তে চাইছেন তারা। তারই অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি কমান্ড সেন্টার তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন ইউনূস।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খুদাবক্স চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি এবং পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ডিএমপি, কোস্টগার্ড ও বিশেষ শাখার প্রধানরা। এই বৈঠকের পরেই ইউনূস কমান্ড সেন্টার গঠনের নির্দেশ দেন। কী এই কমান্ড সেন্টার, কেন তা গড়ে তোলার উপর এত গুরুত্ব দিচ্ছেন ইউনূস?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গরিবের উপর করের বোঝা! ভ্যাট বাড়ানোর পথই কেন বেছে নিল ইউনূস সরকার?

Bangladesh Vat-Tax: ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। এই বিপুল ঋণের পাশাপাশিই আইএমএফ-এর কাছ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আরও এক বিলিয়ন ডলার সাহায্য চেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে অবশ্যই যোগাযোগ রক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে হবে যাতে তারা কোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারে। ইউনূস বলছেন, "আমাদের একটি কমান্ড সেন্টার বা একটি কমান্ড সদর দফতর স্থাপন করতে হবে, যা সমস্ত পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়সাধন করবে।" ইউনূসের দাবি, নতুন কমান্ড সেন্টার খুব দক্ষভাবে এবং নিবিড়ভাবে সারাদেশের থানা এবং সমস্ত আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করবে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। গণ অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র লুঠ হয় থানা থেকে। তারপর নানা অংশে হিংসার খবরও আসে। সে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা প্রধানদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ইউনূস। বলেছেন, "আমাদের ততটাই সতর্ক থাকতে হবে যেন আমরা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এই বছরটি দেশের জন্য অত্যন্ত সংকটময়। আমাদের কাউকে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেওয়া উচিত নয়।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গণঅভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধদের জন্য যে বিশেষ পদক্ষেপ মহম্মদ ইউনূসের

Bangladesh Interim Government: এখনও পর্যন্ত চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ১০৭৪ জন চিকিৎসা করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৯ জনের দুই চোখের দৃষ্টিই চিরতরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ইউনূসের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সহযোগীরা, আওয়ামী লীগের কর্মীরা বাংলাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির কাজ করছে, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশকে আবারও অস্থির করে তোলার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা তাঁর।

ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন, প্রতি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষিত হবে। এর জন্য নিরাপত্তা প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর যেকোনও হামলা নস্যাৎ করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ইউনূস। রমজান মাসে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে তোলাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্যও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন ইউনূস। পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করার পর রাজধানীতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা কমেছে বলেই দাবি পুলিশের।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, জুলাই ও অগাস্ট মাসে হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ ১০টি দল গঠন করেছে। পুলিশকে এই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির এবং এই মামলাগুলির ফলে কোনও নিরপরাধ মানুষের যাতে হয়রানি না হয় তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন ইউনূস।

ইউনূসের মতে, পুলিশের একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর থাকা উচিত যাতে অভিযোগকারীরা দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকেই অন্তত একটি এফআইআর দাখিল করতে পারেন। পুলিশকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অনলাইন এফআইআর দায়েরের জন্য একটি নতুন ফোন নম্বর চালু করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি অনলাইনে মামলা দায়েরের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য একটি কল সেন্টার স্থাপনের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি যাতে অনলাইনে মামলা দায়ের করতে সমস্যা হলে আম জনতা সহজেই কল সেন্টার থেকে সাহায্য নিতে পারেন। পুলিশ প্রধান বাহারুল আলম জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতে পালিয়ে আসা শেখ হাসিনার বিষয়ে রেড নোটিশ জারির জন্য বাংলাদেশ ইন্টারপোলের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।