আরজি কর কাণ্ড: ভেতরে অনেকে আছে, মেনে নিলেন মমতাও

Mamata Banerjee Visits RG Kar Victim's home: সোমবার তরুণীর বাড়িতে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন জানান, নির্যাতিতার বাবা-মা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ভিতরের কেউ জড়িত।

inscript
৩ মিনিট
আরজি কর কাণ্ড: ভেতরে অনেকে আছে, মেনে নিলেন মমতাও

আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে এক তরুণী চিকিৎসককে। সেই ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। সোমবার তরুণীর বাড়িতে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর পৌনে একটা নাগাদ ওই মহিলা চিকিৎসকরে সোদপুরের নাটাগড়ের বাড়িতে যান তিনি। সূত্রের খবর, মৃতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরজি করের ঘটনার পরে পরেই মৃতার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময়েই তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কার্যত এ দিন তিনি এ-ও মেনে নিয়েছেন যে এই ঘটনার নেপথ্যে ভিতরের কেউও জড়িয়ে থাকতে পারে।

তিনি এদিন জানান, নির্যাতিতার বাবা-মা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ভিতরের অনেকে থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, "যদি ভিতরের কেউ থাকে, কারও প্রতি সন্দেহ হয়। সেদিন রাতে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে বন্ধুবান্ধব বা যাঁরা ছিলেন, তাঁদের ডেকে কথা বলা হবে। এমনকী প্রথম যেদিন বাড়িতে ফোন করেছিলেন, তাকেও ডেকে পাঠানো হবে।"

শুক্রবার সকালে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেমিনার রুমে ওই ট্রেনি চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, শুধু খুন নয়, ধর্ষণও করা হয় ওই তরুণী চিকিৎসককে। সেই ঘটনা সামনে আসার পরেই কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী অভিযুক্তদের ফাঁসির পক্ষেও সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আন্দোলনের জের না উপরমহলের চাপ? কেন পদত্যাগ আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের?

R G Kar Rape Case: সোমবার পদত্যাগ করেছেন সন্দীপ ঘোষ! বলেছেন, ‘নৈতিক দায়িত্ব’-এর কারণেই পদত্যাগ করেছেন তিনি।

ওই ঘটনায় ওই বিভাগের ডিউটিতে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে মূল অভিযুক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার করে শুরু হয়েছে মামলা। শুক্রবার এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুখ্যমন্ত্রী মৃতার বাবাকে ফোন করেছিলেন। শনিবার এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “জুনিয়র ডাক্তাররা যে দাবি জানাচ্ছে, তা সঙ্গত। এর মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। ওঁরা যে ডিমান্ডগুলো করছে, তার প্রত্যেকটির সঙ্গে আমি একমত। পুলিশও প্রত্যেকটি মেনে নিয়েছে।”

সোমবার নির্যাতিতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি এ-ও জানান, রবিবারের মধ্যে পুলিশ তদন্ত শেষ করতে না পারলে সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হবে। সোমবারও অপরাধীর ফাঁসির শাস্তি চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারও একই দাবি জানালেন তিনি। মমতা এদিন জানান, ‘‘পুলিশ তদন্ত করছে। রবিবারের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে সিবিআইকে তদন্তভার তুলে দেওয়া হবে।’’ এর পরেই জুড়ে দেন, ‘‘যদিও সিবিআইয়ের সাফল্যের হার খুব কম। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার চুরি যাওয়ার মামলাও সিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার কিনারা হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষের সন্তুষ্টির জন্য সিবিআইকে তদন্তভার দেব।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি করের তরুণীকে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ! কী এই বিরল অসুখ 'নেক্রোফেলিয়া'?

RG Kar Necrophilia: 'বাধা দেবে না' এমন যৌন সঙ্গী পাওয়ার আশায় মৃত দেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে থাকা ব্যক্তিদের 'নেক্রাফাইল' বলা হয়।

শুক্রবার ওই ঘটনা ঘটার পরেই মমতা বলেছিলেন, এই ঘটনায় ফাস্টট্র্যাক আদালতে ফাঁসির আবেদন জানানো উচিত। সোমবারও সে কথা জানান মমতা। মমতা এর আগে জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারের তদন্ত সংস্থায় ভরসা না থাকলে অন্য কোনও এজেন্সির তদন্তেও তাঁর আপত্তি নেই। কারণ, সরকার চায় ওই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত হোক। সোমবার পুলিশকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেন মমতা।

চিকিৎসকের মৃত্যুকে ‘ন্যক্কারজনক এবং অমানবিক’ বলে মন্তব্য করে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের পাশেও দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। বলেছিলেন, ‘‘জুনিয়র চিকিৎসকেরা যে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তা সঙ্গত বলেই আমি মনে করি। আমি ওঁদের দাবির সঙ্গে একমত। আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, দোষীদের চিহ্নিত করে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ফাস্টট্র্যাক আদালতে এই মামলা তুলতে এবং প্রয়োজনে ফাঁসির আবেদন জানাতে। কিন্তু এই অপরাধের কোনও ক্ষমা নেই।’’

এদিকে, এদিন সকালেই আরজি কর কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ পদত্যাগ করেছেন। মমতা সে প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন এদিন। তিনি জানান, এদিন প্রিন্সিপ্যাল নিজে এসে পদত্যাগ করেন। মানসিক চাপেই এই পদত্যাগ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে অন্যত্র সরানো হয়েছে বলেও জানান। একই সঙ্গে চেস্ট ডিপার্টমেন্টের এইচওডি থেকে শুরু করে ওই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিকে অপসারিত করা হয়েছে বলে জানান মুখ্য়মন্ত্রী। খুনি যাতে তাড়াতাড়ি গ্রেফতার হয় এবং শাস্তি পায়, তার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও এদিন দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।