মানুষের মতো করেই ব্যথা পায় গাছ || যুগান্তকারী আবিষ্কার বাঙালি বিজ্ঞানীদের

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
মানুষের মতো করেই ব্যথা পায় গাছ || যুগান্তকারী আবিষ্কার বাঙালি বিজ্ঞানীদের

"ছেলেবেলা থেকেই চুপচাপ চেয়ে চেয়ে দেখাই তার অভ্যেস, নড়ে-চড়ে বেড়ানো নয়। পুবদিকের আকাশে কালো মেঘ স্তরে স্তরে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়ায়, ওর সমস্ত মনটাতে ভিজে হাওয়া যেন শ্রাবণ অরণ্যের গন্ধ নিয়ে ঘনিয়ে ওঠে; ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ে, ওর সমস্ত গা যেন শুনতে পায় সেই বৃষ্টির শব্দ। ছাদের উপর বিকেল-বেলাকার রোদদুর পড়ে আসে, গা খুলে বেড়ায়; সমস্ত আকাশ থেকে কী যেন একটা সংগ্রহ করে নেয়।"

যদিও রবিঠাকুর একথা লিখেছিলেন তাঁর চরিত্র বলাই সম্পর্কে, গাছ সম্পর্কে নয়। কিন্তু কোথাও গিয়ে বলাই এবং গাছের অনুভূতিকে এক করে দেখেছিলেন তিনি। তার প্রায় তিন দশক আগে চার্লস ডারউইন, তাঁর লেখা 'পাওয়ার অফ মুভমেন্টস ইন প্ল্যান্টস' বইতে লিখেছিলেন, গাছও আলো, স্পর্শ, আঘাত, কিংবা অন্যান্য বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। ডারউইনের বহু পরে ১৯০১ সাল নাগাদ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম প্রমাণ করেন, গাছের প্রাণ আছে; শুধু তাই-ই নয়, বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেয় তারাও।

জগদীশ বসুর অনেক পরে, ১৯৭০ সালে, চিলির জীববিজ্ঞানী এবং দার্শনিক হামবার্টো ম্যাচ্যুরানা প্রাণী ও উদ্ভিদের চেতনা বা কনশাসনেস সম্পর্কে মত প্রকাশ করে বলেন, বেঁচে থাকার পদ্ধতিতেই প্রাণী ও উদ্ভিদের চেতনা প্রকাশের পদ্ধতি লুকিয়ে রয়েছে। এবং এটি মস্তিষ্কযুক্ত এবং মস্তিষ্কবিহীন জীব, দুইয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই চেতনাই কোনও জীবকে তার বাহ্যিক জগৎ- অর্থাৎ আলো, জল, বাতাসের উপস্থিতি, শত্রুর আঘাত থেকে রক্ষা, খাদ্যের উৎস ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন করে। এবং সেই মতো কোনও কোনও জীব তার বেঁচে থাকা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেখায়।

আর যখনই উদ্ভিদের বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে, তখনই সেই অবধারিত প্রশ্ন মনের কোণে উঁকি দেয়। তাহলে গাছেরও কি ব্যথা লাগে? গাছেরও কি শারীরিক কষ্ট হয়, যখন আমরা তার পাতা ছিঁড়ি বা ডাল কেটে দিই? সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিন বিজ্ঞানী- ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের ড. পবিত্র পাল চৌধুরি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তরা সেনগুপ্ত এবং নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের শুভদীপ চক্রবর্তী। জানালেন, প্রাণীদের মতো উদ্ভিদও ব্যথা অনুভব করে। শারীরিক আঘাতে সাড়া দেয় তারাও। এবং মজার বিষয় হল, এই ব্যথা অনুভূত হওয়ার জন্য উদ্ভিদের মস্তিষ্ক এবং মানুষের মতো স্নায়ুতন্ত্র না থাকলেও, মানুষ ও উদ্ভিদ দুই-ই কিন্তু একই জৈবরাসায়নিক পদ্ধতির সাহায্যে ব্যথা অনুভব করে।

গামা-অ্যামাইনো বিউটারিক অ্যাসিড বা গাবা মানুষ ছাড়াও একাধিক প্রাণীর শরীরে নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে। নিউরোট্রান্সমিটারকে সহজে বোঝাতে গেলে বলতে হয়, এরা নিউরোন বা নার্ভকোশ থেকে ক্ষরিত রাসায়নিক। যারা নার্ভের মাধ্যমে পরিবাহিত হলে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক অনুভূতি আমরা টের পাই। গাবা আদতে ব্যথার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে মানুষের শরীরে। এদিকে দেখা গেল, কড়া রোদে যে গাছটি নুয়ে পড়েছে বা পর্যাপ্ত রোদে যে গাছটি ঝলমলিয়ে উঠেছে, কিংবা প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে গাছের ডিম্বাণুর দিকে যখন ফুলের রেণু ধাবিত হচ্ছে তাকে নিষিক্ত করবে বলে, সেখানেও গাবার হাত আছে।

এদিকে এই সাম্প্রতিকতম আবিষ্কারের বহু আগেই গাবা-র পাশাপাশি মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরে বিজ্ঞানীরা সন্ধান দিয়েছিলেন আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টরের। দেখা গেল, আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অর্থাৎ মস্তিষ্ক এবং শিরদাঁড়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপনা পরিবহন করে। শুধু তাই নয়, নতুন কিছু শেখা এবং মনে রাখার নেপথ্যেও এর অবদান অনস্বীকার্য। অন্যদিকে আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টর উদ্ভিদের শরীরে দেখা না গেলেও, ঠিক একইরকমের রিসেপ্টর আছে তার শরীরেও; যার সাহায্যে সে আলো, ছায়া, তাপ-উত্তাপ, জলের অভাব ইত্যাদি নানান বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতি সাড়া দেয়। একে বলে রিসেপ্টর। অর্থাৎ মেরুদণ্ডীদের দেহের গ্লুটামেটের মতো এই গ্লুটামেটের মতো রিসেপ্টর। রিসেপ্টরকে যদি সহজ ভাষায় বোঝানো যায়, তাহলে বলতে হয়, এটি একটি দরজা, যার সাহায্যে কোশে কোনো রাসায়নিক পদার্থ এবং বিভিন্ন আয়ন কোশে ভেতর ঢোকে এবং কোশ থেকে বেরিয়ে যায়।

পুরোনো গবেষণা থেকে জানা গেছিল, বিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণীদের আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টর এবং উদ্ভিদের গ্লুটামেট-লাইক রিসেপ্টর আদতে নিকটাত্মীয়। গ্লুটামেট হলো গ্লুটামিক অ্যাসিডের লবণ। অন্যদিকে গ্লুটামিক অ্যাসিড হলো এক প্রকার অ্যামাইনো অ্যাসিড। গ্লুটামিক অ্যাসিডের মতো এরকম আরও উনিশটি অ্যামাইনো অ্যাসিড পাশাপাশি পরস্পরের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে প্রোটিন তৈরি করে। সহজ কথায়, অ্যামাইনো অ্যাসিড আসলে প্রোটিনের গঠনগত একক।

এরকম একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে উন্নত মস্তিষ্ক-সম্পন্ন প্রাণীদের দেহে। যার মধ্যে গ্লুটামেট একটি। আর ঠিক এখানেই এসে এই তিন গবেষকের মাথায় খেলে যায় নতুন এক প্রশ্ন- তাহলে আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টর এবং গাবা রিসেপ্টর প্রোটিন যে যে অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি, সেগুলোর মানুষ ও উদ্ভিদের দেহে কতটা সাদৃশ্য আছে? মানুষ ও উদ্ভিদের শরীরে এই দুই রিসেপ্টরে কীভাবেই বা এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলি সাজানো আছে?

এই তিন গবেষক দেখলেন, গবেষণায় দেখা গেল, মানুষ ও উদ্ভিদ, দুইয়ের ক্ষেত্রেই কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ প্রোটিন রয়েছে, যারা ব্যথার মতো অনুভূতিতে সাড়া দিতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, আগেও দেখা গিয়েছে প্রাণীদের শরীরে এই জাতীয় রিসেপ্টরকে ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যথার উপশম এবং অ্যানাস্থেশিয়া করা হয়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে তা হয় কি না, তা যদিও এখনও গবেষণাসাপেক্ষ।

সৃষ্টির আদিকাল থেকে যে ব্যথা অপ্রকাশিত ছিল, যে কান্নার শব্দ নিহিত ছিল গহিন অরণ্যের ভেতর, তা বোধহয় মানবসভ্যতার এত বছর পরে কান পেতে শোনা গেল, বিজ্ঞানের হাত ধরে। এই তিন গবেষকের ধারণা, নতুন এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে উদ্ভিদের এবং প্রাণীর বিভিন্ন শারীরিক পদ্ধতি জানতে সাহায্য করবে, যা এতকাল আমাদের কাছে অধরা ছিল।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।