শেষ এসএসসি-তদন্ত, যে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সিবিআইয়ের হাতে

SSC Scam: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতায় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দেয় ইডি। চারটি চার্জশিটেই নাম রয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।

Sohini Das
২ মিনিট
শেষ এসএসসি-তদন্ত, যে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল সিবিআইয়ের হাতে

যে এসএসসি মামলা ঘিরে বাংলার রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়, সেই নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত তদন্ত শেষ। তেমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এবার কলকাতা হাইকোর্টের কাছে সেই সংক্রান্ত সমস্ত রিপোর্টও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম – দশম ও একাদশ – দ্বাদশ নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ করে নিম্ন আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। গত নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, হাইকোর্টে বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করে দুর্নীতি মামলার শুনানি করতে হবে। পাশাপাশি দু-মাসের মধ্যে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত তদন্ত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতোই তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে তদন্তরিপোর্ট জমা দিল সিবিআই।

মঙ্গলবার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত মামলার তদন্ত শেষ, হাইকোর্টে জানাল সিবিআই। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শাব্বার রশিদীর ডিভিশন বেঞ্চে জমা দেওয়া হয় এই রিপোর্ট। ওদিকে এদিনই ভুয়ো প্রার্থীদের তালিকা পেশ করে বিচারপতি বসাকের এজলাসে হলফনামা পেশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৫ তারিখ থেকেই এই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা বলে জানিয়েছে আদালত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত্যিই এসএসসি মামলা থেকে সরলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? যে সত্যি চাপা পড়ে যাচ্ছে

জনপ্রিয়তায় এই মুহূর্তে যে কোনও সেলিব্রিটিকে দশ গোল দেওয়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিচার্য বিষয়ে বদল ঘটানো হয়েছে‌। জানানো হয়েছে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে ৬ জুন থেকে SSC-সংক্রান্ত নতুন কোনও মামলার আর শুনানি হবে না।

গত ৯ নভেম্বর নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। ২ মাসের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থাকে সমস্ত মামলার তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই মামলাগুলি বিশেষ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সঙ্গে ৬ মাসের মধ্যে যাবতীয় মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

এ দিন সিবিআইয়ের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত তদন্ত শেষ। ফাইনাল চার্জশিট সোমবার নিম্ন আদালতে (আলিপুর আদালতে) জমা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী আরও বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং গ্রুপ সি-এর রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে । এসএসসির সমস্ত ক্ষেত্রের তদন্ত আমাদের শেষ হয়ে গিয়েছে । গতকাল একটা চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে । আদালত যেমন যেমন নির্দেশ দিয়েছে, এতদিন সেই মতো রিপোর্ট জমা দিয়েছি।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উচ্চমাধ্যমিকের পরেই সরকারি চাকরি! SSC-র CHSL পরীক্ষায় বসতে গেলে মাথায় রাখতে হবে যা

SSC CHSL Exam 2023: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর নেগেটিভ মার্কিং রয়েছে। গত বছর নেগেটিভ মার্কিং ছিল ০.২৫।

এর পর বিচারপতি বসাক জানতে চান, রিপোর্ট সবপক্ষকে দিলে সিবিআইয়ের কোনও সমস্যা আছে কিনা? তার উত্তরে সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিট পাবলিক ডকুমেন্ট নয় । সেটা বাদে, শুধু রিপোর্ট সবপক্ষকে দিলে তাদের তরফে কোনও সমস্যা নেই ।".

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতায় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দেয় ইডি। চারটি চার্জশিটেই নাম রয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সেই সঙ্গেই পার্থ ঘনিষ্ঠ এক আমলা ও এএসএসসি এক প্রাক্তন চেয়ারপার্সনের নামও রয়েছে বলে খবর।এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রধান মাথা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের নাম। পার্থ ছাড়াও আরও ৬ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে।

সিবিআই চার্জশিটে আরও জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কলকাতার বড়বাজার, মানিকতলা, আলিপুর, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, নারকেলডাঙা সহ মোট ১০ টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। সেখান থেকেই আর্থিক লেনদেন সহ প্রায় ৩ হাজার পাতার নথি উদ্ধার করেছে সিবিআই। সঙ্গে রয়েছে কিছু নগদ টাকা ও জমির দলিল, ১৪ টি মোবাইল, ৪ টি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি হার্ড ডিস্ক। সিবিআইয়ের সমস্ত তদন্ত তো শেষ। শেষ চার্জশিট-সহ সমস্ত প্রমাণ আদালতের কাছে জমা করাও। এবার আদালতে কোন পথে যায় এসএসসি দুর্নীতি মামলা। আপাতত সেদিকেই চোখ গোটা দেশের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।