একদিনের শিশু, ৩০০০ ভ্রুণকে হত্যা ইজরায়েলের! গাজায় আর শিশুদিবস আসবে?

Gaza Children Death Toll: জাতিসংঘের শিশু সংস্থার মতে, প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ গাজার জনসংখ্যার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই বাস্তুচ্যুত এবং তাঁদের অর্ধেকই হচ্ছে শিশু।

inscript
৩ মিনিট
একদিনের শিশু, ৩০০০ ভ্রুণকে হত্যা ইজরায়েলের! গাজায় আর শিশুদিবস আসবে?

মাথার উপরে ছাদ আছে, উইকেন্ডে স্পেশাল খাবার আছে। স্কুলে রকমরকম টিফিনের বায়না আছে, একসঙ্গে কোথাও পুকুরে স্নান আছে, জন্মদিনে রিটার্ন গিফট আছে, একসঙ্গে মেলা ঘুরতে যাওয়াও আছে। শিশুদের জীবন কোথাও নিরাপদ, আর কোথাও চরম সঙ্কটে। গাজাতে গণহত্যা চলছে, একবছরের বেশি হয়ে গেল। টিফিন শব্দটির মানে ভুলতে বসেছে বাচ্চারা, মাথার উপর অভিভাবক নেই, কারও হয়তো হাত-পা নেই, চোখ নেই। কিচ্ছু নেই, নেই নেই! ক্যালেন্ডারে শিশুদিবস আসে, অথচ তাঁদের স্পর্শ করে না। গাজায় মাটিতে পা দিলে, গাজার বাতাসে শ্বাস নিলে ১৪০০০ শিশুর গোঙানি ভেসে আসে। একবছরে গাজায় মেরে ফেলা হয়েছে ১৪ হাজারের কাছাকাছি শিশুকে! এখানেই শেষ না। ইজরায়েলি বাহিনী গাজার বৃহত্তম ফার্টিলিটি ক্লিনিকে সংরক্ষিত ৩,০০০ ভ্রূণও হত্যা করেছে। ক্যালেন্ডারে ১৪ নভেম্বর এসেছে তবু, নিজস্ব নিয়মে।

কয়েক মাস আগে গাজার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ১০ বছরের তালা আবু আজওয়ার। শরীর একটি সাদা কাফনে মোড়ানো, পড়ে রয়েছে তাঁর গোলাপি রঙের রোলার স্কেট। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের হাজার হাজার শিশুর প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই ছবি। গাজার শিশুরা বাঁচতে চেয়েছিল। স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিল। মৃত্যুর খুব কাছে দাঁড়িয়ে ভয়াবহ বাস্তবতা পালাতে চেয়েছিল। একটা ইচ্ছেও পূরণ হয়নি। ইজরায়েল খুন করেছে শিশুদের। আধো-আধো কথা বলা, পুতুল খেলা, লুকোচুরি খেলা, দুধের শিশুদের খুন করেছে নেতানিয়াহুর দেশ। বদলা নিয়েছে দেশ। হাজারো হাজারো লাশের ভিড়ে নিজের সন্তানকে চিনতে হাতে পায়ে শিশুর নাম লিখে দিতে হয়েছে মা-বাবাদের! কোন শব্দেই বা এই তীব্র যন্ত্রণা লেখা সম্ভব?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেরুদণ্ড টুকরো টুকরো করে দিয়েছে ইজরায়েলি বোমা! যেভাবে অথর্ব হচ্ছে গাজার শিশুরা

Gaza Children Paralyzed : মেলিসার কশেরুকার টি১২-এর একাধিক টুকরো হয়ে গিয়েছে। মেরুদণ্ডও একাধিক জায়গায় ভাঙা।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরলস যুদ্ধের মুখোমুখি গাজা। নিশানায় সাধারণ মানুষ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অনুমান, গাজায় কমপক্ষে ১৪,০০০ শিশু নিহত হয়েছে। আরও হাজার হাজার শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থার মতে, প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ গাজার জনসংখ্যার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই বাস্তুচ্যুত এবং তাঁদের অর্ধেকই হচ্ছে শিশু। হাজার হাজার শিশু অনাথ, তাদের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। যুদ্ধ এখন গাজার গণ্ডি ছাপিয়ে লেবাননে। অর্থাৎ আরও ধ্বংস, আরও মৃত্যু, আরও ছোট ছোট লাশ। গাজাকে প্রায় শেষ করে দেওয়া হছে মানচিত্র থেকে। আশঙ্কা, গাজার মতো ধ্বংস হয়ে যাবে লেবাননও। গত সপ্তাহ পর্যন্ত, লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রক হিসেব দিয়েছে যে, সেই দেশে ১৯২ জন শিশু নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১,২৫৫ জন আহত হয়েছে।

ক্রমাগত বোমাবর্ষণের পাশাপাশি খাবার, পানীয় জল, নিকাশী এবং বিদ্যুতের মতো মৌলিক বিষয়গুলির তীব্র ঘাটতিতে বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে। যারা কোনওক্রমে বেঁচে যাচ্ছেন, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইউএন হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস একটি প্রতিবেদনে বলছে, গাজায় ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে নিহত ৩৪,৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি ছিল নারী আর শিশুই। সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স ছিল মাত্র একদিন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত্যু উপত্যকা গাজা | এত লাশ রাখব কোথায়?

Gaza War: প্যালেস্তাইনের নিরস্ত্র জনতার উপর যখন বোমা পড়ছে, রকেট বৃষ্টি হচ্ছে, ঝলসে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুর দল, সেই অপরূপ মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য তখন উঁচু পার্বত্য এলাকায় ইজরায়েলিদের ভিড়।

সামগ্রিকভাবে দেখা গিয়েছে, এই যুদ্ধের শিকারদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ শিশু ছিল। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় শ্রেণির বয়স পাঁচ থেকে নয় বছরের মধ্যে। তারপরে রয়েছে ১০-১৪ বছর বয়সি এবং তারপরে ৪ বছর বয়সি। সবচেয়ে কনিষ্ঠ শিকার একদিনের এক পুত্রসন্তান এবং সবচেয়ে বয়স্ক ৯৭ বছর বয়সি একজন মহিলা৷ তথ্য বলছে, ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে, একই আক্রমণে পাঁচ বা তার বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শুধু ইজরায়েলি হামলা নয়, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলেও কিছু মৃত্যু ঘটেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা-ইজরায়েলের যুদ্ধে কমপক্ষে ৪৩,৪৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১০২,৫৬১ জন আহত হয়েছে।

শিশুর টুকরো দেহ কবর দিয়েছেন বাবা-মা। স্কুলে-হাসপাতালে, শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। যুদ্ধের কোনও নিয়ম মানেনি। গত ২৬ মে রাতে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ইজরায়েলকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে সামরিক অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর মাত্র দুই দিন পর, ইজরায়েল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থলে অস্থায়ী তাঁবুতে প্রায় আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ফেলেছিল। এমনটা ইজরায়েল বারেবারেই করেছে। সবকিছুই তো 'ফেয়ার ইন ওয়ার'। তবু প্রশ্ন ওঠে, ইজরায়েলের এই যুদ্ধ আসলে কার বিরুদ্ধে? এত হাজারে হাজারে শিশুর লাশ দিয়ে কোন যুদ্ধ জিততে চাইছে ইজরায়েল?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।