গোপনে প্রস্তুত করা হয় চকলেট, ৭৭ বছর পেরিয়ে এসেও যেভাবে বাজার ধরে রাখল ‘ফেরেরো রোচার’

Ferrero Rocher : চকলেট জগতে পরিচিত সদস্য ফেরেরো রোচার, কীভাবে দিনে দিনে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল এটি?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
গোপনে প্রস্তুত করা হয় চকলেট, ৭৭ বছর পেরিয়ে এসেও যেভাবে বাজার ধরে রাখল ‘ফেরেরো রোচার’

ফেরেরো রোচার, চকলেট জগতের এক পরিচিত নাম। বেশ পুরনো সদস্যও বটে। সোনালি রঙের রাংতায় মোড়া গোলাকার এই চকলেটের স্বাদ এখন বিশ্বজুড়ে। এদেশেও যথেষ্ট জনপ্রিয় এই চকলেটের স্বাদ। তবে এর প্রথম শুরুটা অবশ্য হয়েছিল ইতালিতে। আজ থেকে প্রায় ৭৫ বছরেও বেশি সময় আগে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র চকলেটের ভিড়ে ফেরেরো রোচার চকলেটের লোগোটি বিলাসবহুল চকোলেট ব্র্যান্ড হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয়। ফেরেরো রোচার হল ফেরেরো কোম্পানির তৈরি অন্যতম পণ্যগুলির মধ্যে একটি। চকলেট মানেই সম্পর্কের মধ্যে একটা নতুন মিষ্টতা প্রদান, ফেরেরোও তার ব্যতিক্রম নয়।

যদিও চকলেট প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিতি লাভ করার অনেক আগে থেকেই ডেজার্ট কোম্পানি হিসেবে জনপ্রিয়তা পাকা করে নিয়েছিল ফেরেরো কোম্পানি। ১৯৪৬ সালে ইতালিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে পথ চলা শুরু করে এই বিশেষ চকলেট। ইতালীয় ব্র্যান্ড চকলেট এবং হ্যাজেলনাট, এই দুই ধরন হিসেবে কম দিনের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে “ফেরেরো”। পাশাপাশি কিন্ডার সারপ্রাইজ, নুটেলা এবং কিন্ডার বুয়েনোর মতো অন্যান্য সুপরিচিত আইটেমগুলিও একে একে বাজারে আনতে শুরু করে তারা। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে উপহার হিসেবে অনেকেই চকলেটকে বেছে নেন, আর সেই সূত্রেই মিষ্টি মুখের জগতে এক আইকন হয়ে উঠেছে ফেরেরো রোচার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০০ বছর আগেও ছিল ‘চকলেট ডে’-এর রেওয়াজ, ইতিহাস জানলে অবাক হবেন আপনিও

Chocolate Day history : ভিক্টোরিয়া যুগেও প্রেম বিনিময়ের মাধ্যম ছিল এই চকলেট

ফেরেরো কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা পিট্রো ফেরেরো প্রথম সাধারণ হ্যাজেলনাট এবং কোকোর অনন্য ক্রিম তৈরি করে সারা ইতালিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র মিশেল ফেরেরো, বাবার দেখানো পথ অনুসরণ করে ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারিত করার কথা ভাবেন। তিনিই প্রথম বাজারে নিয়ে আসেন বিশেষ ফেরেরো রোচার চকলেট ব্র্যান্ডটি। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সাল নাগাদ মিশেলের হাত ধরে ব্যবসা আরও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ইতালি থেকে ইউরোপের অন্যান্য অংশেও প্রথমবারের মতো ফেরেরো রোচার চালু করেন তিনিই। যদিও মাঝে লেবেল প্রিন্টিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রাথমিক লঞ্চের পরে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বেশ কিছুদিন।

তবে সবথেকে মজার বিষয় হল, এই বিশেষ চকলেট তৈরির সমস্ত প্রক্রিয়াই বেশ গোপন। যাতে সহজে কেউ তা অনুকরণ করতে না পারে। শুধু তাই নয়, উৎপাদনের সময় কোনও নোটবুক বা স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয় না। খুব কমজনই এই বিশেষ উৎপাদন প্রক্রিয়াটি অন্বেষণ করার সুযোগ পেয়েছেন। চকলেট তৈরির মূল প্রক্রিয়াটি শুরু হয় একটি চকোলেট হ্যাজেলনাট ক্রিম দিয়ে ভরা ওয়েফারের ফ্ল্যাট শীট দিয়ে, যা পিট্রো রোচার দ্বারা প্রবর্তিত হয়েছিল। এরপর ওই চকলেটকর বলার মতো আকৃতি দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ওয়েফার যোগ করার আগে ক্রিমটি একটি হ্যাজেলনাটের অংশের সাথে যোগ করা হয়। সম্পূর্ণ ত্রিস্তরীয় চকোলেটটি দুধের চকোলেট, কাটা হ্যাজেলনাটের একটি স্তর এবং চকলেটের আরেকটি স্তর দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মায়া সভ্যতার মানুষও চকোলেট খেত! কেমন স্বাদ ছিল? কতটা বদলেছে কয়েক হাজার বছরে?

Chocolate : ভালোবাসায়, বিপ্লবে, রেশনে অথবা মুদ্রায় বিবর্তিত হয়েছে চকোলেটের ইতিহাস

নামটি ফরাসি হলেও, ফেরেরো রোচার চকোলেটটি মূলত ইতালীয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ফেরেরো পরিবার ইতালিতে প্রথম মিষ্টির নতুন কোম্পানি তৈরি করেন। নাম ফেরেরো। পরে সেই কোম্পানিই নিয়ে আসে ফেরেরো রোচার চকোলেট।এর লোগো থেকে শুরু করে সুন্দর সোনার ফয়েল যা দিয়ে চকলেটগুলিকে মুড়িয়ে পরিবেশন করা হয়, সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে একটা বিশেষত্ব। যা সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম। শুধু তাই নয় এই বিশেষ ধরনের প্যাকেজিং ব্র্যান্ডের সামগ্রিক চিত্রকে শক্তিশালী করতেও সহায়তা করে। জানা যায়, এই বিশেষ চকলেটটির নামকরণ করা হয়েছিল লর্ডেস রোমান ক্যাথলিক মন্দিরের একটি শিলার নাম অনুসারে। “Rocher” নামের অর্থ ফরাসি ভাষায় “শিলা” বা “বোল্ডার”, যা চকোলেটের অনন্য গোল আকৃতিকে চিহ্নিত করে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ফেরেরো রোচার চকোলেটটির জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। এর পিছনে অবশ্য একটা বড় ভূমিকা রয়েছে কোম্পানির সতর্ক বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিং কৌশলের। ক্রিসমাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এটি। আজ, সারা বিশ্ব জুড়ে বিক্রি হয় এই চকলেট। বিলাসবহুল উপহার হিসেবেও অনেকে দেখেন ফেরেরো রোচারকে।

বছরের পর বছর ধরে চকলেট জগতে আইকনিক নাম হয়ে উঠেছে ফেরেরো রোচার। পাশাপাশি এর বিশেষ লোগোটিও বজায় রেখেছে কোম্পানির ঐতিহ্য এবং ইতিহাস। যা সময়ের সঙ্গে ব্যবসার চেহারাকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে। আজ, বিশ্বব্যাপী বিলাসবহুল চকলেট হিসেবে প্রথম সারিতে আসে এই চকলেটের নাম। আজ এতগুলো বছর পেরিয়ে এসেও অজেয় ফেরেরো রোচার।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।