কর্ণাটকে আতঙ্কে বিজেপি! কোন মন্ত্রে ব্যাপক জয়ের পথে কংগ্রেস?

Karnataka Assembly Polls 2023: কর্ণাটক বিধানসভার ভোটে সম্ভবত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে মোদি-শাহের দল।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
কর্ণাটকে আতঙ্কে বিজেপি! কোন মন্ত্রে ব্যাপক জয়ের পথে কংগ্রেস?

কর্ণাটক বিধানসভার আসন ২২৪টি। সরকারে আসতে গেলে একক কোনও দল বা কোনও জোটকে ১১৩ টি আসনের ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতেই হবে। তবে এই ম্যাজিকে এবার শিকে নাও ছিঁড়তে পারে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের। কর্ণাটক বিধানসভার ভোটে সম্ভবত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে মোদি-শাহের দল। এক্সিট পোলের এক বড় অংশই বলছে, কংগ্রেস কর্ণাটকে ফিরবে, তাও আবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে। রাজ্যে ১২২-১৪০ টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে দেশের মোদি বিরোধিতার অন্যতম মুখ কংগ্রেস দলকে। দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে ব্যাপক প্রচার চালিয়েও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নাকি ৬২-৮০ টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার জনতা দল (ধর্মনিরপেক্ষ) কংগ্রেস বিজেপির ধারে কাছে নেই। তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারে এই দল, যদিও তাঁদের হাতে আসন থাকতে পারে মাত্র ২০-২৫টি। অন্যান্য দলগুলির ক্ষেত্রে একেবারেই কোনও আসন জেতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, পেলেও লহান তিনেক আসন জুটতে পারে এই দলগুলির। অর্থাৎ লড়াই স্পষ্ট, মোদি অথবা মোদি নয়।

পুরনো মাইসুরু অঞ্চল

পুরনো মাইসুরু অঞ্চলে কংগ্রেস ৬৪ টি আসনের মধ্যে ৩৬ টিতে জেতার সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে বলে আশা। জেডি(এস) ১৮ টি আসন পেতে পারে এই অঞ্চলে। বিজেপির অবস্থা এই অঞ্চলে শোচনীয়। ছয়টি আসনে জিতে পারে বিজেপি এবং অন্যান্য দলগুলির চারটি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোট ভাগের পরিপ্রেক্ষিতে, কংগ্রেস এই অঞ্চলে ৪০% ভোট পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, জেডি(এস) ২৮% ভোট টানতে পারে। বিজেপির ভাগে আসতে পারে ২৫% ভোট। অন্যান্য দলগুলি ৭% ভোট কাটতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল! কেন এই দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের?

BJP Most Important Party : সামনের বছরই লোকসভা নির্বাচন। তৃতীয়বারের জন্য সিংহাসনে বসবেন নরেন্দ্র মোদি, নাকি উঠে আসবে কোনও বিকল্প শক্তি?

উপকূলীয় কর্ণাটক অঞ্চল

এই অঞ্চলে গেরুয়া বাহিনী দাপট দেখাতে পারে বলে ধারণা। ১৯টি আসনের মধ্যে ১৬ টিতেই জয়ী হতে পারে বিজেপি। কংগ্রেসের হাতে আসতে পারে মাত্র তিনটি আসন, আর খাতা খোলার কোনও সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না জেডি(এস)-এর ক্ষেত্রে। বিজেপি এখানে ৫০ শতাংশ ভোট পেতে পারে, কংগ্রেস ৪০%। জেডিএস মোট ভোটের ৬% আর অন্যান্য দলগুলি ৪% ভোট পাবে বলে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

হায়দরাবাদ-কর্ণাটক অঞ্চল

এই অঞ্চল কংগ্রেসের হস্তগত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। হায়দরাবাদ-কর্ণাটক অঞ্চলে ৪০ টি আসনের মধ্যে ৩২টি আসন জিততে পারে কংগ্রেস। বিজেপি পেতে পারে ৭ টি আসন। জেডি(এস) এই অঞ্চলে মাত্র ১ টি আসন জিতবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কংগ্রেস ৪৭% ভোট নিজের দিকে টানতে পারে। বিজেপি ৩৬% এবং জেডি(এস) ১৩% ভোট পেতে পারে। অন্যরা ৪% ভোট পেতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপিকে রুখতে কেন কংগ্রেস ও কমিউনিস্টদের বাদ দিয়ে তৈরি হবে তৃতীয় ফ্রন্ট?

Third Front: কংগ্রেসিদের দাদাগিরি মানব না বলে বিজেপিরই সুবিধা করে দিচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলি।

মুম্বই-কর্ণাটক অঞ্চল

মুম্বই-কর্ণাটক অঞ্চলের ৫০ টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে কংগ্রেস বিজয়ী হতে পারে। এই অঞ্চলে বিজেপি ২১টি আসন জিতবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং জেডি(এস) পেতে পারে মাত্র ১ টি আসন।

কংগ্রেস মোট ভোটের ৪৫% পেতে পারে এখানে এবং বিজেপি পেতে পারে ৪২%। জেডি(এস) এই অঞ্চলে ৮% এবং অন্যান্য দলগুলি ৫% ভোট পাবে বলে আশা।

বেঙ্গালুরু অঞ্চল

কংগ্রেস বেঙ্গালুরু অঞ্চলে ২৮ টি আসনের মধ্যে ১৭টিতেই জিততে পারে, বিজেপি পেতে পারে ১০টি আসন। জেডি(এস) এখানেও মাত্র ১ টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস ৪৪% ভোট পাওয়ার দিকে এগোচ্ছে, আর বিজেপির দখলে আসতে পারে ৪০% ভোট। এই অঞ্চলে জেডি(এস) ১৫% ভোট পেতে পারে।

কেন্দ্রীয় কর্ণাটক অঞ্চল

কংগ্রেস কেন্দ্রীয় কর্ণাটকের ২৩ টি আসনের মধ্যে ১২ টি জিততে পারে। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিজেপির সঙ্গে, কারণ বিজেপি ১০ টি আসন পেতে পারে। এই অঞ্চলেও জেডি(এস) মাত্র একটি আসন জিতবে বলে ধারণা। ভোট ভাগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কর্ণাটকে, কংগ্রেস ৪১%, বিজেপি ৩৫% ভোট টানবে। জেডি(এস) ১৭% ভোট এবং অন্যান্য দলগুলি এই অঞ্চলে ৭% ভোট পেতে পারে।

বুধবার ২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভার ভোটগ্রহণে ভোট পড়েছে ৬৫.৬৯%। এবছর প্রার্থী ছিলেন ২,৬১৫ জন। এই কর্ণাটকে রেকর্ড ভোট পড়েছিল ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, ৭২.৩৬%। কর্ণাটকে মূলত ক্ষমতাসীন বিজেপি, কংগ্রেস এবং জেডি(এস)-এর মধ্যেই লড়াই ছিল। যদিও বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে লড়াইয়ে নেই জেডি(এস)। মোদি ঝড় থামিয়ে কংগ্রেস সত্যিই ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে কিনা তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৩ মে ভোট গণনা অবধি৷

যদিও কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিজেপির হার দুই বিষয়কেই নস্যাৎ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোমাই। বিজেপির দাবি, গেরুয়া দল ফের রাজ্যে সরকার গঠন করবে। বোমাই বললেও, বুধবার কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বেশিরভাগ বুথ ফেরত সমীক্ষা কংগ্রেসকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রেই অবস্থা খারাপ জেডি(এস)-এর। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলটি ৩৭টি আসন জিতেছিল। এবার খুব মেরে কেটে ২০-২৫।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।