সকালে স্বাভাবিক, রাত হলেই একেবারে নিথর! যে পাকিস্তানি ভাইদের কাহিনি এখনও রহস্যে ভরা

Solar Kids of Pakistan : আজও সেই রহস্যের কূলকিনারা হয়নি। কিন্তু ঠিক কী হয়েছিল? তা জানতে একবার ফিরে যেতে হবে পাকিস্তানে।

inscript
৩ মিনিট
সকালে স্বাভাবিক, রাত হলেই একেবারে নিথর! যে পাকিস্তানি ভাইদের কাহিনি এখনও রহস্যে ভরা

গরমের মধ্যে সারাদিন স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসের চাপে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার পর রাতের বেলা অনেকেরই আর শক্তি থাকে না। মনে হয়, বাড়ি ফিরে বিছানায় গা এলিয়ে দিলেই শান্তি। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আচ্ছা যদি এমন হয়, দিনের বেলা আপনি অন্যান্যদের মতোই কাজকর্ম করছেন, দিব্যি খাচ্ছেন দাচ্ছেন। কিন্তু রাত হলেই অন্য মূর্তি। একটু একটু করে শরীর যেন সিমেন্টের ভাস্কর্য হয়ে যাচ্ছে। নড়াচড়ারও ক্ষমতা থাকছে না। আবার পরদিন সকালবেলায় সব ঠিকঠাক। এমন কোনও অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন কখনও? মাত্র কয়েক বছর আগেও এমন কোনও ঘটনার কথা গোটা বিশ্বও সেভাবে জানত না। কিন্তু এমন এক কাহিনি সামনে এল, যার পর তাবড় তাবড় গবেষকরাও হাঁ হয়ে গেলেন। আর সাধারণ মানুষরা ভাব্ল, এ নিশ্চয়ই কোনও অলৌকিক ঘটনা! সাধারণভাবে তো এমনটা কখনও ঘটে না! আজও সেই রহস্যের কূলকিনারা হয়নি। কিন্তু ঠিক কী হয়েছিল? তা জানতে একবার ফিরে যেতে হবে পাকিস্তানে।

পাকিস্তান – নামটা বললেই অনেকের মনের ভেতর অনেক কিছু চলে। কিন্তু সেসব দূরে সরিয়ে রেখে আসা যাক এক অদ্ভুত ঘটনার দিকে। পাকিস্তানেরই দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে বালুচিস্তান প্রদেশ। নানা ঘটনায় আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে উঠে আসে এই প্রদেশটির নাম। তারই প্রধান শহর কোয়েটা। এমনিতে ছবির মতো সুন্দর এই জায়গা। অনেকের কাছেই ভ্রমণের উৎকৃষ্ট পরিবেশ। সেই কোয়েটারই কাছে এক গ্রামে বাস করেন মহম্মদ হাশিম। নিতান্ত ছাপোষা একটি পরিবার, স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন। এই দম্পতির মোট ছয়টি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই জন্মের পর দুজন মারা যায়। এখন বাড়িতে চার সন্তান।

এই চারজনেরই দুজন হল আব্দুল রশিদ এবং শোয়েব আহমেদ। ২০১৬ সাল। সেই সময় আব্দুলের বয়স মাত্র নয়, আর শোয়েব ১৩ বছরের কিশোর। হঠাৎই এই দুই পাক বালকের খবর গোটা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেন? আব্দুল আর শোয়েবের মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখা যায় ছোট থেকেই। দুজনেই দিনের বেলা আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার মতোই একদম ফিট থাকে। খেলে, ঘোরাঘুরি করে, পড়াশোনা করে। ঠিকমতো খায় দায়। কিন্তু এটা ততক্ষণই থাকে, যতক্ষণ সূর্য আকাশে থাকে। পশ্চিম দিগন্তে যেই সূর্যাস্ত হয়, অমনি পরিস্থিতি একেবারে বদলে যায়। একটু একটু করে নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় দুই ভাইয়ের। দিনের ছটফটে আব্দুল-শোয়েব রাতে একেবারে জড় পদার্থের মতো হয়ে যায়। একেবারে অবশ হয়ে যায় গোটা শরীর। খাবারটুকুও খেতে পারে না। আবার ভোরে সূর্য উঠলে সব ঠিকঠাক!

এ আবার কেমন রোগ! এমন কথা তো এর আগে কখনও শোনা যায়নি! দুই ভাইয়ের বাবা মহম্মদ হাশিম সামান্য এক নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সহজ সরল মন্তব্য, সূর্যদেবের থেকে সরাসরি শক্তি পায় তাঁর এই দুই ছেলে। তাই রাত হলেই ঝিমিয়ে পড়ে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? রহস্য আর ফিসফিসানি ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। কিন্তু ডাক্তাররাও এর কোনও তল খুঁজে পেলেন না। তবে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলেন যে, সূর্যের সঙ্গে এর কোনও যোগাযোগ নেই। কারণ, দিনের বেলা অন্ধকার ঘরে রেখে দিলেও আব্দুল আর শোয়েব স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতোই আচরণ করে। যত সমস্যা সূর্যাস্তের পরই।

২০১৬ সালে পাকিস্তানের বালুচিস্তানের এই দুই ভাইয়ের এমন অদ্ভুতুড়ে কাহিনি সামনে আসার পর গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানী, চিকিৎসকদের মধ্যে শুরু হয় উত্তেজনা। তার আগে অবধি এই ধরনের বাচ্চাদের নিয়ে সেরকম কোনও গবেষণা হয়নি। কী করে হবে? কালেভদ্রে এক আধজনের ক্ষেত্রেই এমন দেখা যায়। এরকম বাচ্চাদের নাম দেওয়া হল ‘সোলার কিড’। আর ২০১৬ সাল থেকেই এই ব্যাপারে বিস্তারে গবেষণা ও চর্চা শুরু হল। যার কেন্দ্রে আব্দুল রশিদ আর শোয়েব আহমেদ।

অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, পাকিস্তান সরকার এই শিশুদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার গ্রহণ করল। পাকিস্তানের তাবড় ডাক্তাররা তো বটেই, বিদেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও জড়িয়ে পড়লেন এই ঘটনায়। শুরু হল গবেষণা। ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে দুই ভাইকেই ভর্তি করা হয়। ওখানেও একই অবস্থা। কেবল দুই ভাইয়ের শরীর থেকেই নয়, বালুচিস্তানের ওই গ্রাম থেকে মাটি, জল, বাতাসের নমুনাও সংগ্রহ করেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে পাঠানো হয় সেসব। সেইসঙ্গে চলতে থাকে আব্দুল আর শোয়েবের চিকিৎসা।

পরের দিকে ডাক্তারদের চেষ্টায় সুস্থ হয় এই দুই কিশোর। বাড়িও ফিরে যায়। কিন্তু গবেষণা থামেনি আজও। কেন এমন সমস্যা হয়েছিল? দিনের বেলায় তরতাজা, সন্ধ্যা হলেই নিথর, আবার পরদিন সব ঠিকঠাক! এমন রোগের কথা তো এর আগে শোনা যায়নি। চিকিৎসাই বা হবে কী করে! কী করেই বা হয় এই রোগ? সোলার কিডরা কি এখনও আছে এই পৃথিবীতে? গবেষণা জারি রয়েছে এখনও। কিন্তু রহস্য এখনও পর্দার আড়ালেই থেকে গিয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।