কেন হঠাৎ বন্ধ হল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম?
Facebook and Instagram users report outage: মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত এই ফেসবুক-বিপত্তি চলেছে। কাজ করেনি ইনস্টাগ্রামও। এরই মধ্যে আবার ইউটিউবেও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকে।

অম্বানিপুত্রের প্রি-ওয়েডিং উপলক্ষে ভারতে ফেসবুক-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। সেই বিয়ের ছবি-ভিডিওতে মজে সোশ্যাল মিডিয়া। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধে বেলা হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গেল ফেসবুক। দেহ রাখল ইনস্টাগ্রামও। প্রতিটি ইউজারের অ্যাকাউন্ট নিজে থেকেই লগআউট হয়ে গেল। না, কোনও একটি বা দু'টি জায়গায় নয়। বিশ্বজুড়ে একই সমস্যায় পড়লে প্রতিটি ব্যবহারকারী। একবার লগআউট হয়ে যাওয়ার পর ফের ফেসবুকে লগইন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াল। কেউ কেউ তো ভয়ে পাসওয়ার্ডও পাল্টে ফেললেন। তবু লগইন হল না।
ইতিমধ্যেই মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন তাঁর এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে জানান, তারা এই সমস্যার বিষয়ে সচেতন। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে ফেসবুকের তরফে। এদিকে ততক্ষণে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের অ্যাকসেস হারিয়ে অথৈ জলে বিশ্বের সমস্ত ব্যবহারকারী। তারপর অবশ্য প্রায় ঘণ্টাখানেক স্তব্ধ হয়ে যায় ফেসবুক।
জানা গিয়েছে, লোহিত সাগরে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কগুলির পরিষেবা ব্যাহত হয়। যার ফলে এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ট্র্যাফিকের একটা বড় অংশে তার প্রভাব পড়ে। হংকংয়ের টেলিকম সংস্থা এইচজিসি গ্লোবাল কমিউনিকেশনের তরফে জানানো হয়, মোট চারটি প্রধান টেলিকম নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নেটওয়ার্ক পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। এইচজিসির রিপোর্ট বলছে, এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ ট্র্যাফিক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থাও তথৈবচ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel-Hamas war: ইচ্ছা করেই প্যালেস্টাইনের কণ্ঠস্বর রোধ করার চেষ্টা করছে মেটা। সম্প্রতি এমনই অভিযোগ এনেছে মালয়েশিয়ার কমিউনিকেশন মন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল।
We're aware people are having trouble accessing our services. We are working on this now.
— Andy Stone (@andymstone)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bengali Spelling Mistakes: শব্দ তো আর একালের রাজনৈতিক জোট নয় যে যাকে খুশি যতজনকে খুশি জুড়ে দেবে।’
এই পরিস্থিতিতে বিপাক এড়াতে ট্র্যাফিককে রিরুট করার কাজ শুরু হয় জরুরি ভিত্তিতে। মঙ্গলবার ফেসবুক পরিষেবা বিঘ্নিত হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ফিরে আসে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ব্যবহারকারীরা। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তড়িঘড়ি সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হলেও মূল সমস্যা কিন্তু এখনও রয়েই গিয়েছে। আর তা মেরামতের কাজ সময়সাপেক্ষ। তার উপর ওই সব অঞ্চলে কাজ শুরু করতেও ভালোই সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অনুমতি সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।

বিশেষ সূত্রের খবর, ২০০৬ সালে তাইওয়ান ভূমিকম্পের পর নাকি আন্ডারওয়াটার কেবলগুলি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়াটার কেবলের পিছনে মাইক্রোসফ্ট, আমাজন, মেটার মতো সংস্থাগুলি সাবসি নেটওয়ার্কের পিছনে প্রচুর অর্থ ঢেলেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ইয়েমেনি সরকারের তরফ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, হাউথি জঙ্গিরা ওই সাবসি কেবলগুলিকে নিশানা করতে পারে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে বহু হামলা চালিয়েছে তারা, যার ফলে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যথেষ্টই। এবার কি তবে নেটওয়ার্ক সিস্টেমের উপর আঘাত হানাই নয়া নিশানা হাউথিদের। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, লোহিত সাগরে আন্ডারওয়াটার কেবল ধ্বংসে হাত রয়েছে হাউথিদের। যদিও ইয়েমেনি বিদ্রোহী নেতা আবদেল মালেক আল-হাউথি সেই অভিযোহ অস্বীকার করে। বরং মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনীর উপরেই দায় চাপাতে তেয়েছে তারা।
যতদূর জানা যাচ্ছে, ওই সব কেবলগুলিকে সম্পূর্ণ ভাবে মেরামতের জন্য ইয়েমেনি মেরিটাইমের অনুমতি লাগবে। আর তা পেতে পেতে অন্তত ৮ সপ্তাহ সময় তো লাগবেই। ততদিন পর্যন্ত ট্র্যাফিক রিরুটিং করে করেই পরিষেবা অব্যহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে মেটার মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি। এই বিপত্তির জন্য সমস্যায় পড়েছে একাধিক টেলিকম সংস্থাও।
মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত এই ফেসবুক-বিপত্তি চলেছে। কাজ করেনি ইনস্টাগ্রামও। এরই মধ্যে আবার ইউটিউবেও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকে। সেখানেও নিজে থেকে লগ আউট হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তবে মেটারই আরও একটি সোশ্যাল মিডিয়া হোয়াটসঅ্যাপে কিন্তু তেমন কোনও সমস্যার মুখে পড়েননি ইউজারেরা। বর্তমান জীবনে মানুষের জীবন সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই সম্পৃক্ত যে এক মুহূর্তও ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ছাড়া থাকার কথা কল্পনা করতে পারে না তারা। আর এ কথা যে মিথ্যে নয় একরত্তিও, তা প্রমাণ করে দিল মঙ্গলবারের সন্ধে। ফেসবুক ধরাধামে ফিরতেই সেখানে শুরু হয়ে গেল জোর চর্চা। ঘুরতে লাগত এই সংক্রান্ত নানাবিধ মিমও। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে ফের যে ফেসবুক এমন কোনও বিপত্তির মধ্যে পড়বে না, তা কিন্তু হলফ করে বলা যাচ্ছে না। যে ভাবে লোহিত সাগরে সমুদ্রতলদেশের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত না করা পর্যন্ত কিন্তু ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্ধকার নামতেই পারে বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।







