কেন হঠাৎ বন্ধ হল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম?

Facebook and Instagram users report outage: মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত এই ফেসবুক-বিপত্তি চলেছে। কাজ করেনি ইনস্টাগ্রামও। এরই মধ্যে আবার ইউটিউবেও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকে।

Sohini Das
৩ মিনিট
কেন হঠাৎ বন্ধ হল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম?

অম্বানিপুত্রের প্রি-ওয়েডিং উপলক্ষে ভারতে ফেসবুক-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। সেই বিয়ের ছবি-ভিডিওতে মজে সোশ্যাল মিডিয়া। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধে বেলা হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গেল ফেসবুক। দেহ রাখল ইনস্টাগ্রামও। প্রতিটি ইউজারের অ্যাকাউন্ট নিজে থেকেই লগআউট হয়ে গেল। না, কোনও একটি বা দু'টি জায়গায় নয়। বিশ্বজুড়ে একই সমস্যায় পড়লে প্রতিটি ব্যবহারকারী। একবার লগআউট হয়ে যাওয়ার পর ফের ফেসবুকে লগইন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াল। কেউ কেউ তো ভয়ে পাসওয়ার্ডও পাল্টে ফেললেন। তবু লগইন হল না।

ইতিমধ্যেই মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন তাঁর এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে জানান, তারা এই সমস্যার বিষয়ে সচেতন। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে ফেসবুকের তরফে। এদিকে ততক্ষণে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের অ্যাকসেস হারিয়ে অথৈ জলে বিশ্বের সমস্ত ব্যবহারকারী। তারপর অবশ্য প্রায় ঘণ্টাখানেক স্তব্ধ হয়ে যায় ফেসবুক।

জানা গিয়েছে, লোহিত সাগরে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কগুলির পরিষেবা ব্যাহত হয়। যার ফলে এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ট্র্যাফিকের একটা বড় অংশে তার প্রভাব পড়ে। হংকংয়ের টেলিকম সংস্থা এইচজিসি গ্লোবাল কমিউনিকেশনের তরফে জানানো হয়, মোট চারটি প্রধান টেলিকম নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নেটওয়ার্ক পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। এইচজিসির রিপোর্ট বলছে, এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ ট্র্যাফিক এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থাও তথৈবচ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফিলিস্তিনি কণ্ঠস্বরকে চেপে রাখছে ফেসবুক, টিকটক! কতটা সত্যি মালয়েশিয়ার অভিযোগ?

Israel-Hamas war: ইচ্ছা করেই প্যালেস্টাইনের কণ্ঠস্বর রোধ করার চেষ্টা করছে মেটা। সম্প্রতি এমনই অভিযোগ এনেছে মালয়েশিয়ার কমিউনিকেশন মন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল।

We're aware people are having trouble accessing our services. We are working on this now.

— Andy Stone (@andymstone)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফেসবুকে বাংলা লেখেন? যে যে বানানগুলি ভুল করছেন রোজ...

Bengali Spelling Mistakes: শব্দ তো আর একালের রাজনৈতিক জোট নয় যে যাকে খুশি যতজনকে খুশি জুড়ে দেবে।’

এই পরিস্থিতিতে বিপাক এড়াতে ট্র্যাফিককে রিরুট করার কাজ শুরু হয় জরুরি ভিত্তিতে। মঙ্গলবার ফেসবুক পরিষেবা বিঘ্নিত হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ফিরে আসে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ব্যবহারকারীরা। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তড়িঘড়ি সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হলেও মূল সমস্যা কিন্তু এখনও রয়েই গিয়েছে। আর তা মেরামতের কাজ সময়সাপেক্ষ। তার উপর ওই সব অঞ্চলে কাজ শুরু করতেও ভালোই সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অনুমতি সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।

বিশেষ সূত্রের খবর, ২০০৬ সালে তাইওয়ান ভূমিকম্পের পর নাকি আন্ডারওয়াটার কেবলগুলি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়াটার কেবলের পিছনে মাইক্রোসফ্ট, আমাজন, মেটার মতো সংস্থাগুলি সাবসি নেটওয়ার্কের পিছনে প্রচুর অর্থ ঢেলেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ইয়েমেনি সরকারের তরফ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, হাউথি জঙ্গিরা ওই সাবসি কেবলগুলিকে নিশানা করতে পারে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে বহু হামলা চালিয়েছে তারা, যার ফলে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যথেষ্টই। এবার কি তবে নেটওয়ার্ক সিস্টেমের উপর আঘাত হানাই নয়া নিশানা হাউথিদের। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, লোহিত সাগরে আন্ডারওয়াটার কেবল ধ্বংসে হাত রয়েছে হাউথিদের। যদিও ইয়েমেনি বিদ্রোহী নেতা আবদেল মালেক আল-হাউথি সেই অভিযোহ অস্বীকার করে। বরং মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনীর উপরেই দায় চাপাতে তেয়েছে তারা।

যতদূর জানা যাচ্ছে, ওই সব কেবলগুলিকে সম্পূর্ণ ভাবে মেরামতের জন্য ইয়েমেনি মেরিটাইমের অনুমতি লাগবে। আর তা পেতে পেতে অন্তত ৮ সপ্তাহ সময় তো লাগবেই। ততদিন পর্যন্ত ট্র্যাফিক রিরুটিং করে করেই পরিষেবা অব্যহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে মেটার মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি। এই বিপত্তির জন্য সমস্যায় পড়েছে একাধিক টেলিকম সংস্থাও।

মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত এই ফেসবুক-বিপত্তি চলেছে। কাজ করেনি ইনস্টাগ্রামও। এরই মধ্যে আবার ইউটিউবেও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অনেকে। সেখানেও নিজে থেকে লগ আউট হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তবে মেটারই আরও একটি সোশ্যাল মিডিয়া হোয়াটসঅ্যাপে কিন্তু তেমন কোনও সমস্যার মুখে পড়েননি ইউজারেরা। বর্তমান জীবনে মানুষের জীবন সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই সম্পৃক্ত যে এক মুহূর্তও ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ছাড়া থাকার কথা কল্পনা করতে পারে না তারা। আর এ কথা যে মিথ্যে নয় একরত্তিও, তা প্রমাণ করে দিল মঙ্গলবারের সন্ধে। ফেসবুক ধরাধামে ফিরতেই সেখানে শুরু হয়ে গেল জোর চর্চা। ঘুরতে লাগত এই সংক্রান্ত নানাবিধ মিমও। তবে পরিস্থিতি যা, তাতে ফের যে ফেসবুক এমন কোনও বিপত্তির মধ্যে পড়বে না, তা কিন্তু হলফ করে বলা যাচ্ছে না। যে ভাবে লোহিত সাগরে সমুদ্রতলদেশের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত না করা পর্যন্ত কিন্তু ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্ধকার নামতেই পারে বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।