"কারও চাকরি যাবে না": এসএসসি-র চাকরিহারাদের উদ্দেশে যা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Mamata Banerjee on SSC: সিপিএমকে আক্রমণ মমতা বলেন, ‘‘আমি অনেক কথা জেনেও সিপিএমের কারও কোনও চাকরি খাইনি। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কেন মামলা করলেন?"

inscript
৩ মিনিট
"কারও চাকরি যাবে না": এসএসসি-র চাকরিহারাদের উদ্দেশে যা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রায় ২৬ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। স্বামী স্ত্রীর চাকরি গেছে একসঙ্গে, বাকি পড়ে আছে ইএমআইয়ের টাকা, সন্তানকে বড় করবেন কীভাবে, বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাবেন কীভাবে, বাঁচবেন কীভাবে, কী খাবেন এই চিন্তায় রাজ্যের প্রায় ২৬০০০ মানুষের ঘুম উড়ে গেছে। শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে, সমাজের চোখে সম্মানটুকুও হারিয়েছেন তাঁরা। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রাজ্যে চরম দুর্নীতি হয়েছে। এমনই দুর্নীতি যে যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থী বাছতে না পেরে পুরো প্যানেল বাতিল করতে হয়েছে। আর চাকরিহারা এসএসসির সেই সমস্ত প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “ভুল করা অধিকার, ভুল শোধরানোর সুযোগ দিন।" শাসকের সহজতম উত্তর তিনি দিয়েছেন। স্বীকারও করেছেন ভুল হয়েছে, আবার সংশোধনের রাস্তাও চেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিরোধীদের উপর দায় চাপিয়ে কতদূর পর্যন্ত কান্না দমিয়ে রাখতে পারবেন? নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বৈঠকজুড়ে কখনও বিজেপি, কখনও সিপিএমকেই আক্রমণ করে গেলেন মমতা। আশ্বাসও দিলেন, কারও চাকরি যাবে না। তিনি সুপ্রিম কোর্টে রায়ের ব্যাখ্যা চাইবেন। নেতিবাচক উত্তর এলে তিনি যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে দেবেন। সুপ্রিম কোর্ট যেখানে আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে তিনি প্রায় ২৬০০০ মানুষের জন্য ঠিক কোন দুর্নীতিমুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা করে দেবেন? তা স্পষ্ট করেননি।

নেতাজি ইন্ডোরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে চাকরিহারারা নিজেদের বেশ কয়েকটি দাবি জানান। তাঁদের দাবি—

১। সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দিতে হবে। পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

২। পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া যাবে না।

৩। যে বিচারপতি রায় দিয়েছেন, তাঁর বেঞ্চে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা যাবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২৬ হাজার চাকরি বাতিলই! বিধানসভা নির্বাচনে অশনি সংকেত হবে শিক্ষকদের কান্না?

SSC Recruitment scam Verdict: সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভবই হয়নি। ফলে আবারও পরীক্ষা দিতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেই তাঁদের আবেদন করতে হবে।

৪। পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেখানে চাকরি করছেন তাঁরা, সেখানেই তাঁদের বহাল রাখতে হবে।

৫। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষার কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে যেতে চাইছেন না চাকরিহারারা।

৬। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, সিবিআইয়ের নথিতে যোগ্য এবং অযোগ্যের ভাগাভাগি রয়েছে। যোগ্যদের পরিচ্ছন্ন তালিকা নিয়ে রিভিউ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

৭। চাকরিহারাদের একজন দক্ষ আইনজীবীর ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সন্দেহভাজন প্রার্থীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করা গেল না?

SSC Supreme Court Verdict: স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও উত্তরপত্রের কোনও হার্ডকপি নিজেদের কাছে রাখেনি। ওএমআর শিটের মিরর ইমেজও এসএসসির সার্ভারে পাওয়া যায়নি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যত দিন না সরকারের কাছ থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ পাচ্ছেন, তত দিন স্কুলে গিয়ে চাকরিহারারা স্বেচ্ছা পরিষেবা দিতেই পারেন। আদালতের নির্দেশ না মেনে স্বেচ্ছায় পড়িয়ে আবার চাকরি ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা কি পাবেন এই স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকরা? এই অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে কোন মানসিকতা থেকে তাঁরা সুস্থ-শান্তভাবে পড়াতে পারবেন? এর উত্তর অবশ্য নেই। মমতা আরও বলেছেন, ‘‘আগে যোগ্যদের বিষয়টি মিটে যাক। তার পর যাদের ‘অযোগ্য’ বলা হচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী কী তথ্য আছে আমি দেখব। আবার আপনাদের ডাকব। সত্যি যদি তাঁরা ‘অযোগ্য’ বলে প্রমাণিত হন, আমার তখন কিছু করার থাকবে না। কিন্তু কাকে কেন অযোগ্য বলা হয়েছে, কে তদন্ত করেছে, আলাদা করে সেটা দেখতে হবে। আলাদা করে সেটা নিয়ে আমি কথা বলব। সকলে নিশ্চিন্তে থাকুন। যোগ্য-অযোগ্যের মধ্যে গোলমাল লাগাবেন না। নিশ্চিন্ত ভাবে আপনারা শিক্ষা দিন, শিক্ষিত করুন।’’

এদিকে, শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যাঁদের চাকরি পাওয়ার ন্যায্যতা নিয়ে সন্দেহের যাবতীয় উপাদান মজুত রয়েছে তাঁদের চার বছরের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। জানা যাচ্ছে, এখনও অবধি এই সন্দেহের তালিকায় থাকা প্রার্থীদের সংখ্যা ৫,৪০০ জনের মতো। এরা কীভাবে চাকরি পেলেন? মূলত

১) প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর চাকরি পেয়েছেন,

২) তালিকা বহির্ভূত প্রার্থী হয়েও চাকরি পেয়েছেন,

৩) সিবিআইয়ের উদ্ধার করা ওএমআর শিটে এদের নম্বর বাড়ানো হয়েছে

অথচ ওএমআর শিট মেলানো যায়নি কারণ রাজ্য সরকারের স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও উত্তরপত্রের কোনও হার্ডকপি নিজেদের কাছে রাখেনি। ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ বা ট্রেসিংও এসএসসির সার্ভারে পাওয়া যায়নি। সিবিআই গাজিয়াবাদে নাইসার এক আধিকারিকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে কিছু মিরর ইমেজ। সেখানে জানা যায়, ০ পাওয়া প্রার্থীর নম্বর বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৩! অধিকাংশ দুর্নীতির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানই পাওয়া যায়নি। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অযোগ্য খুঁজবেন কীভাবে? আবারও তদন্ত? মমতা আশ্বাস দিয়েছেন, ‘‘যাঁরা যোগ্য, তাঁদের চাকরি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।’’ দুর্নীতি রোধের দায়িত্ব কি সরকারের ছিল না?

নেতাজি ইন্ডোর থেকে আবারও বিজেপি আর সিপিএমকেই চাকরি দুর্নীতির নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন মমতা। সিপিএমকে আক্রমণ মমতা বলেন, ‘‘আমি অনেক কথা জেনেও সিপিএমের কারও কোনও চাকরি খাইনি। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কেন মামলা করলেন? উত্তর দিতে হবে। সিপিএমকে এর জবাব দিতে হবে।’’ বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলছেন, ‘‘চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা নেই, চাকরি কাড়ার ক্ষমতা আছে। তাঁদের ধিক্কার জানাই। যাত্রাপালার মাধ্যমে আপনাদের ভুল বোঝাচ্ছে। রাজ্য সরকার অনেক চেষ্টা করেছিল। ২০২২ থেকে নোংরা খেলা শুরু করেছে।’’

কিন্তু বৈঠকে স্পষ্ট হলো না, দুর্নীতি কি মমতা স্বীকার করে নিলেন। আদালতের রায়কে আবারও চ্যালেঞ্জ, আশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবার মধ্যে দিয়ে সত্যিই চাকরিহারারা বিচার পাবেন?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।