যন্ত্রণা দিয়ে যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়, তবুও কেন 'গুড ফ্রাইডে' বলা হয় এই দিনটিকে?

Good Friday History : যিশু নিজের জীবন ত্যাগ করেছিলেন, অজস্র কষ্ট, যন্ত্রণা, অত্যাচার সহ্য করেছিলেন। তাঁকে স্মরণ করতেই গুড ফ্রাইডে-র এমন বিশেষ দিন।

inscript
৩ মিনিট
যন্ত্রণা দিয়ে যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়, তবুও কেন 'গুড ফ্রাইডে' বলা হয় এই দিনটিকে?

বছরে মোট ৩৬৫ দিন। আর এই এক বছরে অজস্র শুক্রবার আসে। কিন্তু সমস্ত কিছু বাদ দিয়ে একটি বিশেষ দিনের দিকেই নজর থাকে প্রত্যেক খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের। এপ্রিল মাসের সেই শুক্রবারকে গোটা পৃথিবী এক ডাকে চেনে ‘গুড ফ্রাইডে’ হিসেবে। প্রতিটি গির্জায়, ক্যাথিড্রালে মানুষের ভিড় জমে। মোমবাতি আর বাইবেলের মন্ত্রে স্মরণ করা হয় যিশু খ্রিস্টের আত্মবলিদানকে। মানবজাতির কল্যাণের জন্য যিশু নিজের জীবন ত্যাগ করেছিলেন, অজস্র কষ্ট, যন্ত্রণা, অত্যাচার সহ্য করেছিলেন। তাঁকে স্মরণ করতেই গুড ফ্রাইডে-র এমন বিশেষ দিন।

কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে নানারকম তথ্য বেরিয়ে আসে এই দিনটি সম্পর্কে। বেশিরভাগ জায়গায় এই দিনটি ‘গুড ফ্রাইডে’ নামে পরিচিত হলেও, কেউ কেউ অবশ্য ব্ল্যাক ফ্রাইডে-ও বলেন। আজ থেকে নয়, বহু জুগ আগে থেকেই গোটা বিশ্বের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি পালন করে আসছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, গুড ফ্রাইডে মানে বেশ শুভ দিন। কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। সেখানে লেখা থাকে রক্ত, অত্যাচারের দাগ, লেখা থাকে পৃথিবীর এক অধ্যায়ের সূত্রপাত। এই গুড ফ্রাইডের হাত ধরেই খ্রিস্ট ধর্ম এক অন্য দিগন্তে পৌঁছে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এখনও লেগে আছে যিশু খ্রিস্টের রক্তের দাগ! শ্রাউড অফ তুরিন কি সত্যিই ইতিহাস, না স্রেফ মিথ?

Shroud Of Turin Jesus Christ : অবয়বটির লম্বা চুল রয়েছে, সঙ্গে দাড়ি। হাত দুটো পেটের কাছে রাখা। দুটো হাত আর পায়ের পাতায় কীসের একটা ক্ষতচিহ্ন!

আসলে কী এই গুড ফ্রাইডে? বাইবেল অনুযায়ী বলা হয়, শুক্রবারের এই বিশেষ দিনেই ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল যিশু খ্রিস্টকে। অবশ্য তার আগে রয়েছে আরও বড় ইতিহাস। ইজরায়েল, জেরুসালেম তখন রোমীয়দের অধীনে। ইহুদি পুরোহিতরাও জোরজুলুম চালাচ্ছে। রোমানদের সেই আগ্রাসন থেকে মুক্তি দিতেই এম মসিহার অপেক্ষা করছিলেন ইজরায়েলবাসী। প্রথমে যোহন দ্য ব্যাপ্টিস্টের হাত ধরে সেই স্বপ্ন দেখার শুরু। পরে যিশু খ্রিস্টের আবির্ভাব। মানুষকে ভালোবাসার বাণী, মানবতার পৃথিবী গড়ার কথা বলতেন তিনি। শিষ্যের সংখ্যাও বাড়ছিল। আর এটাই যিশুর বিরোধীদের চক্ষুশূলের কারণ হয়।

বাকি গল্পটা মোটামুটি সবারই জানা। যিশুরই এক শিষ্য যুদাসকে দলে টেনে নেওয়া হয়। তারপর তাঁর গ্রেফতারি, এবং অত্যাচারের পালা শুরু। কাঁটার চাবুক দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে ফেলা হয় যিশুকে। তারপর শোনানো হয় ক্রুশবিদ্ধের শাস্তি। এমনই এক শুক্রবারের দিন গলগথ পাহাড়ের ওপরে দুই অপরাধীর সঙ্গে যিশু খ্রিস্টকেও ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। বলা হয়, টানা ছয় ঘণ্টা রক্তাক্ত, পেরেকবিদ্ধ অবস্থায় সেখানে ছিলেন যিশু। তারপর সেই শুক্রবারের দিনই প্রাণত্যাগ করেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুগ যুগ ধরে ভালোবাসার প্রতীক তিনি, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের হৃদয় আজও রাখা আছে এই জায়গায়

St. Valentine's Heart Valentines Day : জড়িয়ে রয়েছেন আরও একজন – সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। যার নামে, যার জীবনযুদ্ধের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ভালোবাসার দিনটি।

মূলত গুড ফ্রাইডে যিশুর সেই ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকেই স্মরণ করায়। কিন্তু একটা ব্যাপারে নিশ্চয়ই কিছু প্রশ্ন মনে আসতে বাধ্য। যিশুর যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু তো অবশ্যই শোকের, কষ্টের। সেটা তো খ্রিস্টানদের কাছে দুঃখের দিনই হবে। তাহলে কেন ‘গুড’ ফ্রাইডে বলা হয়? এ নিয়ে বেশ কয়েকটি তত্ত্ব রয়েছে। প্রথমত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য, সমস্ত পাপের কষ্ট সহ্য করে যিশু মৃত্যুবরণ করবেন – এমনটাই কথা ছিল। যিশুর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে সেই নতুন সূর্যেরই শুরু হয়। খ্রিস্ট ধর্মও একটু একটু করে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই যে নিজেকে প্রবল যন্ত্রণায় মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করা, এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের মঙ্গলের প্রার্থনা করা, এর জন্যই নাকি এটি গুড ফ্রাইডে।

এছাড়াও মনে করা হয়, মৃত্যুর আগে যিশু যে কথাগুলি বলে গিয়েছিলেন, সেগুলি স্মরণ করা হয়ে থাকে এই দিনে। গুড মানে স্রেফ ভালো নয়, পবিত্রও বটে। তাই শুক্রবারের এই দিনটিকে পবিত্রতম হিসেবে চিহ্নিত করে প্রার্থনা করেন মানুষ। আরও একটি মত হল, আগেকার দিনে শুক্রবারের এই দিনটিকে গডস ডে বা ভগবানের দিন বলা হতো। তাই এখনও গুড ফ্রাইডে-র রীতি প্রচলিত।

অবশ্য গুড ফ্রাইডের সঙ্গে জুড়ে আছে ইস্টার সানডেও। বাইবেলের কাহিনি অনুযায়ী, ক্রুশবিদ্ধে মৃত্যু হওয়ার পর যিশুর দেহটিকে একটি কাপড়ে মুড়ে একটি গুহায় পাথর চাপা দিয়ে রাখা হয়। তারপর হঠাৎই তাঁর দেহটি সেখান থেকে অদ্রিশ্য হয়ে যায়। ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তিনদিন পর, রবিবার যিশু পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠেন। সেই দিনটিই ইস্টার সানডে নামে পরিচিত।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।