উঠে এসেছে গুজরাত দাঙ্গার ভয়াবহতা, মোদিকে নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র ফের তৈরি করল বিতর্ক

BBC Documentary on Narendra Modi protest : এটি নিয়েই আপাতত জলঘোলা চরমে। কারণ, বিবিসির এই বিশেষ তথ্যচিত্র নিয়েই প্রতিবাদে মুখর হয়েছে বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকার।

Aritra Som
৩ মিনিট
উঠে এসেছে গুজরাত দাঙ্গার ভয়াবহতা, মোদিকে নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র ফের তৈরি করল বিতর্ক

‘নেশন ওয়ান্টস টু নো’ – ভারতের সংবাদমাধ্যম তো বটেই, জনজীবনেও ছড়িয়ে পড়েছে এই একটি বাক্য। কী করে, কার মুখ থেকে এই কথাটি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে সেটা বলার নিশ্চয়ই দরকার নেই। বরং অন্য একটি প্রসঙ্গে আসা যাক। এখানেও প্রসঙ্গটি সেই ‘প্রশ্ন’ নামক শব্দে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এটি ‘নেশন ওয়ান্টস’-এর বিষয় নয়। এখানে শিরোনামটি হল ‘ইন্ডিয়া : দ্য মোদি কোয়েশ্চেন’ (India : The Modi Question)। এই মুহূর্তে ভারতের সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতিতে এই প্রসঙ্গটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যার অবতারণা করেছে বিবিসি।

জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিবিসি সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানিয়েছে। যার নাম India : The Modi Question। মূলত মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া, এবং দুই রাজত্বেরই বিভিন্ন ঘটনা সেখানে উঠে এসেছে। রিচার্ড কুকসন এবং মাইক র্যা ডফোর্ডের প্রযোজনায় এই তথ্যচিত্রটি তৈরি হয়েছে। এটি নিয়েই আপাতত জলঘোলা চরমে। কারণ, বিবিসির এই বিশেষ তথ্যচিত্র নিয়েই প্রতিবাদে মুখর হয়েছে বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গুজরাত দাঙ্গার লজ্জার অতীত ভুলিয়ে দিতেই ছাড়া পেল ধর্ষকরা? প্রশ্নে দু'ভাগ দেশ

বিলকিস বানোকে ধর্ষণই নয়, তাঁর দুই বছরের শিশুকন্যা-সহ পরিবারের ১৪ জনকে সেদিন খুন করেছিল হিন্দু গুন্ডারা। এই নৃশংস হত্যায় কীভাবে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নিল গুজরাত সরকার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই ডকুমেন্টারিকে ‘প্ররোচনামূলক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে অরিন্দম বাগচি জানিয়েছেন, এই তথ্যচিত্রটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বানানো হয়েছে। বিশেষ কোনও এজেন্ডা রয়েছে এর পিছনে। এই তথ্যচিত্রের মধ্যে দিয়ে ঔপনিবেশিক মনোভাবই বারবার ব্যক্ত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই ব্যাপারটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না। খোদ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকও বিবিসির এই তথ্যচিত্রের বিরোধিতা করেছেন। যদিও এটি ভারতে এখনও মুক্তি পায়নি। অন্যদিকে বিবিসিরও পাল্টা দাবি, অত্যন্ত পড়াশোনা করে, গবেষণা করে এই তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। সম্পাদনার কাজও খুব নিষ্ঠার সঙ্গে করা হয়েছে। ভারত সরকারকে আগেই বলা হয়েছিল, এই তথ্যচিত্র দেখে মন্তব্য করার জন্য। তখন তো তারা কিছু বলেনি!

যেটা নিয়ে এত বিতর্ক, সেই India : The Modi Question-এ আদতে কী দেখানো হয়েছে? সেখানে উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়ের কথা। উঠে এসেছে ২০০২ সালের ভয়াবহ গুজরাত দাঙ্গার কথা। যেখানে অজস্র সংখ্যালঘু মুসলিম মারা গিয়েছিলেন। পাশাপাশি সেই সময় থেকে আজ অবধি যে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে ভারতে, সেটাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখানো হয়েছে। সংখ্যাগুরু হিন্দুদের সঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সংঘর্ষ, তাদের মধ্যের অসহিষ্ণুতা, ক্লেশ, দ্বন্দ্ব – সেটাও দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৪ থেকে বর্তমান সময় অবধি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন নীতির কথাও উঠে এসেছে। সামনে এসেছে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা রদ, এনআরসি, সিএএ প্রসঙ্গও। বিবিসির বক্তব্য, সবটাই করা হয়েছে অজস্র নথি, তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। সেইসঙ্গে অজস্র মানুষের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"তুমি আমার সঙ্গে গিয়ে করবে টা কী,” কেন যশোদাবেনকে বিয়ের কথা স্বীকার করতে চাননি মোদি?

Narendra Modi Wife Jashodaben Modi: স্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, "আমি সারা দেশ ঘুরব, যেখানে খুশি সেখানে যাব; তুমি আমার সঙ্গে গিয়ে করবে টা কী?”

এই সমস্ত ঘটনা তো সত্য। চোখের সামনে দেশজুড়ে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। গুজরাত দাঙ্গা তো গল্পকথা নয়! এনআরসি নিয়ে আজও সংঘাত চরমে। তাহলে আপত্তি কীসের সরকারের? ভয়? কীসের ভয়? ঔপনিবেশিকই বা বলা হচ্ছে কেন? কারণ, বিবিসির তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রশাসন গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিল। তারা রিপোর্টও পেশ করেছিল। সেখানে নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি গুজরাত দাঙ্গার জন্য দায়ী করা হয়েছে। তাহলে কি আপত্তির জায়গা এখানে? যাই হয়ে যাক, নরেন্দ্র মোদিকে খারাপ দেখানো যাবে না?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্কুলে যাননি কোনওদিন, তবু চিকিৎসা করতেন! মোদির প্রয়াত মা হীরাবেনের যে জীবন অজানাই

Heeraben Modi Passes Away: নরেন্দ্র মোদির মা নিজে কখনও স্কুলে যাননি, তবুও তিনি তাঁদের গ্রামের একজন ডাক্তার ছিলেন।

অনেকে আবার এও বলছেন, বিবিসির আরও একটা তথ্যচিত্র করা উচিত উইনস্টন চার্চিলকে নিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখনও ভারত স্বাধীন হয়নি। ১৯৪৩ সালে এই দেশ দেখেছিল মন্বন্তর। দেখেছিল অজস্র মানুষের মৃত্যু, শকুনে ছিঁড়ে খাচ্ছে সেসব দেহ, দরজায় দরজায় ‘ফ্যান দাও’ আবেদন। এই নৃশংস, ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ যে মনুষ্যসৃষ্ট, সেটা একবাক্যে স্বীকার করে ইতিহাস। আর তার জন্য চার্চিলের দায় যে অনেকখানি সেটাও স্বীকার করেন ঐতিহাসিকরা। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, চার্চিল আর ‘৪৩-র দুর্ভিক্ষ নিয়ে একটা তথ্যচিত্র বানাক বিবিসি!

প্রশ্নটি সঙ্গত, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে মোদির প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলে তো চলবে না! আসছে বছর ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচন। নরেন্দ্র মোদির ইমেজে যাতে কোনও ‘কালি’ না পড়ে, তারই কি প্রচেষ্টা গেরুয়া শিবিরের? কেন্দ্র সরকারও কি সেই পথেই হাঁটছে? গুজরাত দাঙ্গাকে ‘আড়াল’ করা, উন্নয়ন ছেড়ে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বকে সামনে আনা – এসব কি সত্যিই আজকাল অস্বীকার করা যায়? করা উচিত?

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।