৭ অক্টোবরের স্মৃতি উস্কে ফের প্রত্যাঘাত, ইজরায়েলে আঘাত ফেরাল হামাস হিজবুল্লাহ

Israel-Hamas War: এক বছর পরেও সেই যুদ্ধের স্মৃতিতে প্রলেপ পড়া তো দূর, বরং লাগাতার যা ঘটছে আশেপাশে, তাতে সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতিই যেন ফের তাজা হয়ে উঠছে ইজরায়েলের বাসিন্দাদের জন্য।

Sohini Das
৩ মিনিট
৭ অক্টোবরের স্মৃতি উস্কে ফের প্রত্যাঘাত, ইজরায়েলে আঘাত ফেরাল হামাস হিজবুল্লাহ

ঠিক এক বছর আগের কথা। ইজরায়েলকে নিশানা করে রকেট হামলা করে বসেছিল ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তার পর এক বছর ধরে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। দেখতে দেখতে সেই যুদ্ধের এক বছর পার। সেদিন ইজরায়েলে ঢুকে হামলার পর হামলা চালিয়েছিল হামাস জঙ্গিরা। অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়। অপহরণ করা হয় বহু নিরীহ ইজরায়েলিকে। এখন ইজরায়েলের প্রতিপক্ষ আর শুধু হামাস নয়। একই সঙ্গে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের জঙ্গিগোষ্ঠী হাউথি এবং তাদের মদতদাতা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে ইজরায়েলের। সেই হামলার বছরপূর্তিতেও ইজরায়েলে চলল লাগাতার হামলা। হিজবুল্লাহ তো বটেই, ফের পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালাল হামাসরা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস জঙ্গিরা একসঙ্গে প্রায় পাঁচ-ছ'হাজার রকেট হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল জুড়ে। তবে সেসব ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে ইজরায়েলকে বাঁচিয়েছিল সেদিন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম। সোমবার গত বছরের স্মৃতি উস্কে রাজধানী তেল আভিভকে নিশানা করে একগুচ্ছ রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহরাও। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে হিজবুল্লাহের ছোড়া রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে প্রতিহত করতে এ বার ব্যাহত হয়েছে আয়রন ডোম। হাইফাতে ইজরায়েলি সেনার দুটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে মোট আঠেরোটি হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহরা। শুধু কি তাই, রবিবার ভোটে টাইবেরিয়াসের নিমরা ঘাঁটিতে সালভো নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যার একটিও ঠেকাতে পারেনি ইজরায়েলের আয়রন ডোম। এখনও পর্যন্ত এই হামলাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

এদিকে, সোমবার থেকে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এলাকায় ভারী বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইজরায়েল। সেই হামলায় অন্তত ৯টি ফিলিস্তিনি শিশু-সহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ অক্টোবরের পর থেকেই গাজায় হামলার পর হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। যে হামলায় এতদিনে গাজা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। অন্তত ৪১,৯০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। জখম পেরিয়ে গিয়েছে এক লক্ষের হিসেব।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক কক্ষপথ পার, নতুন সূর্যের অপেক্ষায় আজও যুদ্ধক্লান্ত গাজা

War-torn Gaza: মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতবস্থা ঘেঁটে যখন প্রবল হয়ে উঠছে দুই অক্ষশক্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা, সেই সময়েও কিন্তু গাজাবাসীর মাথার উপর ঘাই মেরে চলেছে ইজরায়েলের বোমারু বিমান।

রবিবারই লেবাননের রাজধানী বেইরুটের দক্ষিণ শহরতলিগুলোকে নিশানা করে বিমান হামলা চালায় ইজরায়েল। মূলত ওই এলাকাতেই রয়েছে হিজবুল্লাহের ঘাঁটিগুলি। ইরান সমর্থিত ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের পাশাপাশি তাদের গোয়েন্দা সদর দফতরকেও নিশানা করে ইজরায়েলি সেনা। তারই পাল্টা হিসেবে ইজরায়েলকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করতে থাকে হিজবুল্লাহ। ঠিক সেই দিনেই, যে দিন হামাসের আক্রমণকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের পথে এগিয়ে গিয়েছিল দেশটি। হিজবুল্লাহের তরফে জানানো হয়েছে, ফাদি ১ নামক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে এদিন নিশানা করা হয়েছিল ইজরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হাইফার দক্ষিণের একটি সামরিক ঘাঁটিকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত্যু উপত্যকা গাজা | এত লাশ রাখব কোথায়?

Gaza War: প্যালেস্তাইনের নিরস্ত্র জনতার উপর যখন বোমা পড়ছে, রকেট বৃষ্টি হচ্ছে, ঝলসে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুর দল, সেই অপরূপ মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য তখন উঁচু পার্বত্য এলাকায় ইজরায়েলিদের ভিড়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফের হুঙ্কার দিয়েছেন, জয় অধিকার করেই ছাড়বে তাঁর দেশ। তবে সেই লড়াই এখন আর শুধু হামাস বা হিজবুল্লাহতে সীমিত নেই। কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতবস্থাকে ঘেঁটে বিরাট আকার নিয়েছে সেই লড়াই বর্তমানে। আর ইজরায়েল এই মুহূর্তে গাজার পাশাপাশি লেবানন, ইরান এবং ইয়েমেনের সঙ্গেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত ৭ অক্টোবরের স্মৃতিকে উস্কেই এই বছরেও ইজরায়েলে গুনে গুনে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। গত বছর ভোর সকাল সাড়ে ৬ টা তখন, নোভা সঙ্গীত উৎসবের রেশ নষ্ট করে ইজরায়েলে ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়েছিল হামাস। সঙ্গীতের ওই উৎসবে খোলামখুচি গুলি চালায় তারা। হত্যা করা হয় চারশো ইজরায়েলি। সব মিলিয়ে সেই আক্রমণে অন্তত ১৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল সেদিন।

এক বছর পরেও সেই যুদ্ধের স্মৃতিতে প্রলেপ পড়া তো দূর, বরং লাগাতার যা ঘটছে আশেপাশে, তাতে সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতিই যেন ফের তাজা হয়ে উঠছে ইজরায়েলের বাসিন্দাদের জন্য। কবে থামবে এই প্রাণঘাতী যুদ্ধ, কীভাবেই বা থামবে, তার উত্তর নেই কারওর কাছেই। যদিও এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর শোলজ। গত বছর হারিয়ে ফেলা মানুষগুলোর স্মৃতির উদ্দেশ্যে দেশের চারপাশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয়রা। কবরস্থান, স্মৃতিশৌধে জড়ো হয়ে শত শত নিহতদের স্মরণ করেন তাঁরাই। পালন করেন নীরবতা। আর যুদ্ধশান্তির প্রার্থনা করেন সম্ভবত। আর যেন এমন দিন দেখতে না হয় কোনও দেশকে, সেই প্রার্থনায় একজোট হন। কিন্তু যেভাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিরতা ঘেঁটে ক্রমাগত যুদ্ধের দিকেই এগিয়ে চলেছে ইজরায়েল, তাতে শান্তি কতদূর, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।