মৃতকে জ্যান্ত করার দাবি, শ্মশান থেকে লাশ ছিনতাই! হাথরাসের ভোলে বাবার বুজরুকির খতিয়ান

Hathras Stampede: সেটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা। আগ্রার শাহগঞ্জের এক ক্যানসারে মৃত কিশোরীকে যোগবলে বাঁচিয়ে তোলার দাবি করেন নারায়ণ সাকার বিশ্ব হরি ভোলে বাবা।

Sohini Das
৩ মিনিট
মৃতকে জ্যান্ত করার দাবি, শ্মশান থেকে লাশ ছিনতাই! হাথরাসের ভোলে বাবার বুজরুকির খতিয়ান

একই দেহে বিশ্ব হরি ও ভোলে বাবা! ব্রহ্মা-বিষ্ণুর এমন ভয়ঙ্কর মিশেল এই কলি যুগে যে দু-একটাই মেলে, তা-ই প্রমাণ করে দিয়েছেন হাথরাস কাণ্ডের স্বঘোষিত বাবা নারায়ণ সাকার বিশ্ব হরি ভোলে বাবা। তাঁর সৎসঙ্গে গিয়েই পদপিষ্ট হন শতাধিক মানুষ। জখম অসংখ্য। সৎসঙ্গ শেষ হওয়ার মুহূর্তে ভক্তদের মধ্যে যখন তুমুল বিশৃঙ্খলা, হুড়োহুড়ি, মানুষকে চাপা দিচ্ছে মানুষ, তখন কী করছেন এই স্বঘোষিত বাবা? সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে তড়িঘড়ি ছাড়ছেন অনুষ্ঠানস্থল। বলা ভালো, ঝোলা গুটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন ভোলা থুড়ি ভোলে বাবা। ঠিক যেন সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'মহাপুরুষ' ছবির শেষ দৃশ্য। এই ভোলে বাবার কীর্তিগাথা কিন্তু আজকের নয়। বছর বিশেক আগে নাকি এক মৃত কন্যাকে বাঁচিয়ে তোলার দাবি করেছিলেন এই বাবা। তার জন্য সপরিবারে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি।

সেটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা। আগ্রার শাহগঞ্জের এক ক্যানসারে মৃত কিশোরীকে যোগবলে বাঁচিয়ে তোলার 'আশ্চর্য' দাবি করে বসেন নারায়ণ সাকার বিশ্ব হরি ভোলে বাবা। পঙ্কজ কুমার নামে এক ব্যক্তি জানান, তাঁর বছর ষোলোর ভাগ্নীর ক্যানসার ধরা পড়ে। একদিন হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় সে। সে সময় ওই বাবা দাবি করেন, তিনি নাকি 'মৃত' মেয়েটিকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলবেন। এরপরে বাবার তুকতাকে জ্ঞান তো ফিরে পায় সে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। না, এখানেই শেষ হয় না বাবার খেল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তাঁকে দেখতে গিয়েই পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১২১! কে এই হাথরাসের ভোলে বাবা?

Hathras stampede Bhole Baba: ভোলে বাবা নিজেকে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) প্রাক্তন কর্মচারী বলে দাবি করেন।

এরপরে ভোলে বাবা তথা সূরজপাল প্রায় দুশো জন লোক জড়ো করে শ্মশানে পৌঁছয় এবং মৃত মেয়েটির পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করে, ওই মৃত শরীরকে ফের জীবিত করার ক্ষমতা রয়েছে ভোলে বাবার। এমনকী মেয়েটির মৃতদেহ জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করলে ভোলে বাবার সমর্থকদের ইট-বৃষ্টির মুখে পড়তে হয় তাদের। পরে সূরজপাল, তাঁর স্ত্রী এবং ওই ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আইপিসি ধারা ১০৯ এবং ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমেডিস আইনের অধীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যোগীরাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা! হাথরসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু শতাধিকের

Hathras Stampede Incident: হাথরসের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে।

দু'দিন আগে হাথরসের ওই ঘটনায় অন্তত ১২৩ জনের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম অগণিত। ঘটনার তদন্তে নেমে ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে একাধিক অনিয়মের ছবি চোখে পড়েছে। যে সংখ্যক লোকসমাগমের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এসে জড়ো হন অনুষ্ঠানে। তার জন্যই এত বড় দুর্ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় খোঁজ নেই সেই স্বঘোষিত বাবার। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ১০৫, ১১০, ১২৬ (২), ২২৩ এবং ২৩৮ ধারার অধীনে এফআইআর দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত কেউ-ই গ্রেফতার হয়নি।

নারায়ন সাকার বিশ্ব হরি ভোলে বাবার এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু হয়ে ওঠার আগে নাম ছিল সূরজপাল। উত্তরপ্রদেশেক কাসগঞ্জ জেলার বাহাদুর নগরের বাসিন্দা সূরজকুমার নাকি একসময় ছিলেন পুলিশ। কৃষক পরিবারে জন্ম, বাবার সঙ্গে চাষবাস থেকে অল্প বয়সে পুলিশবাহিনীতে যোগ দেওয়া। নব্বইয়ের দশকে হঠাৎ করেই পুলিশের চাকরি ছেড়ে হয়ে যায় স্বঘোষিত বাবা। শুরু হয় সৎসঙ্গ পরিচালনা। সেই কাজে তাঁর সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী। সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে জনপ্রিয়তা, বাহাদুরনগরে আশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং ক্রমে লক্ষ লক্ষ অনুসারীর 'ভোলে বাবা' হয়ে ওঠা। এই হয়ে ওঠার নেপথ্যে যে মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করার ভুয়ো দাবির মতো আরও কত 'অপরাধ, বুজরুকি', তার হিসেব নেই। যে স্বঘোষিত বাবা নাকি দরিদ্র, বঞ্চিতদের তারণ, তিনি কেন ভক্তদের বেঘোরে মরতে দেখে পালিয়ে গেলেন গুটি গুটি, সেই প্রশ্ন তো ওঠেই। অবশ্য তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। মইনপুরীতে সূরজপাল ওরফে ভোলে বাবার মোবাইল ফোনের লোকশন মিলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। মইনপুরিতে সূরজকুমারের বাড়ির ক্যাম্পাসে তল্লাশিও চালানো হয় বলে খবর।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।