পাকিস্তানের চেয়েও দ্বিগুণ! বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ ভারতেই, জানাচ্ছে রিপোর্ট

Highest Poverty in India: ভারতে মোট ২৩৪ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।

inscript
৩ মিনিট
পাকিস্তানের চেয়েও দ্বিগুণ! বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ ভারতেই, জানাচ্ছে রিপোর্ট

ভারতবর্ষে অমৃতকাল চলছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী ভারত বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশগুলির অন্যতম। ভারতের অর্থনীতির দিকেই সারা বিশ্বের নজর! এই ভারতবর্ষ, যা নাকি জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনের সঙ্গে কানামাছি খেলছে, সেই ভারতবর্ষের আসল চেহেরা কেমন? বিভিন্ন মাপকাঠিতে বিচার সম্ভব। আপাতত আসা যাক ধনী-দরিদ্রের কথাতেই। ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং অক্সফোর্ড পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ভারতে মোট ২৩৪ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বাস আমাদের সোনার ভারতে!

২০২৪ সালের গ্লোবাল মাল্টিডায়মেনশনাল পভার্টি ইন্ডেক্স রিপোর্ট তৈরি হয়েছে বিশ্বের ১১২টি দেশের সবচেয়ে সাম্প্রতিক তুলনামূলক তথ্য নিয়েই। এই ১১২টি দেশের মধ্যে ২১টি নিম্ন-আয়ের দেশ, ৪৭টি নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ, ৪০টি উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ এবং ৪টি উচ্চ-আয়ের দেশ। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানের ১০টি সূচকের উপর ভিত্তি করে প্রতিটি পরিবার এবং ব্যক্তির বঞ্চনার তালিকা তৈরি করেই দারিদ্র্য পরিমাপ করা হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কারও পকেটে ৭০০ কোটি তো কারও ৩০ হাজার! মোদি-মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ধনী ও দরিদ্রতম সদস্য কারা জানেন?

Modi cabinet 3.O: একদিকে যেখানে মোদির মন্ত্রিসভায় রয়েছে চন্দ্রশেখর পেম্মাসানির মতো ধনীতম ব্যক্তি, তেমনই রয়েছে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রীও। খাতায়-কলমে যার সম্পত্তির পরিমাণ সবচেয়ে কম।

১১২টি দেশ এবং ৬.৩ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে ১.১ বিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ১৮.৩% মানুষ তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। আর এই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারীদের অর্ধেকের বেশিই হচ্ছে শিশু।

পাকিস্তানে, ৯৩ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছে। ইথিওপিয়ায় ৮৬ মিলিয়ন, নাইজেরিয়ায় ৭৩ মিলিয়ন এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ৬৬ মিলিয়ন। ভারতকে জুড়ে নিলে এই পাঁচটি দেশেই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী ১.১ বিলিয়নের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৮.১% মানুষের বাস। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দরিদ্র সাব-সাহারান আফ্রিকায় (৫৫৩ মিলিয়ন) এবং দক্ষিণ এশিয়ায় (৪০২ মিলিয়ন) এক তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ বাস করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপুষ্টিতে ভুগে মরছে লাখো লাখো শিশু, এই ভারত চেয়েছিলেন নেতাজি?

Malnutrition in India: নেতাজি থাকলে দেশ বদলে যেত কী না, দেশে ঘৃণার চাষ আদৌ সম্ভব হতো কী না, দেশের বাচ্চারা না খেতে পেয়ে কাতরাতো কী না সেই তর্ক দেওয়ালে ঘা খেয়ে ফিরে আসে।

ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় ৪০% অর্থাৎ ৪৫৫ মিলিয়ন মানুষ সেই সব দেশে দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন যেখানে যুদ্ধ চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, "এর মধ্যে ২১৮ মিলিয়ন মানুষ যুদ্ধরত দেশে বসবাস করছে, ৩৩৫ মিলিয়ন মানুষ অস্থির বা সংঘাতে জেরবার দেশগুলিতে বাস করছে এবং ৩৭৫ মিলিয়ন মানুষ অশান্তির দেশে বসবাস করছে। ২৮৯ মিলিয়ন (২৫.১%) মানুষ এই তিনটি অবস্থার মধ্যে দু'টি বা তার বেশি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন, আর ১৮৪ মিলিয়ন (১৬%) মানুষ এই তিনটি অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছেন।

যুদ্ধপ্রভাবিত দেশগুলিতে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ৩৪.৮%। সংঘাত বা যুদ্ধ নেই এমন দেশগুলিতে এই হার ১০.৯% মাত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বিগ্রহে আক্রান্ত এবং অশান্তিপূর্ণ দেশগুলিতে এই দারিদ্র দ্বিগুণেরও বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যুদ্ধ ও হিংসা তীব্র হয়েছে, তা বহুগুণ বেড়েছে। হতাহতের সংখ্যা নতুন নতুন রেকর্ড গড়েছে। কোটি কোটি মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। জীবন ও জীবিকার ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে বিশ্বজুড়েই। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অ্যাচিম স্টেইনার বলছেন, দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষদের ব্যাপক ও কার্যকরীভাবে সমর্থন জোগাতে এবং দারিদ্র্যের চক্রটি ভাঙতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে উন্নয়ন দরকার। সম্পদ বৃদ্ধি এবং সেই সম্পদ ব্যবহারের জন্য সমান সুযোগ দরকার এই মানুষদের।

প্রতিবেদন অনুসারে, ৮৩ শতাংশেরও বেশি দরিদ্র মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বাস করেন। গ্রামে দারিদ্র্যের হার শহরাঞ্চলের তুলনায় বেশি। বিশ্বব্যাপী, শহুরে জনসংখ্যার মাত্র ৬.৬% মানুষ গরিব। গ্রামীণ জনসংখ্যার ২৮% মানুষই দরিদ্র। বিশ্বের এই ১.১ বিলিয়ন মানুষের বাঁচার প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলিরই অভাব রয়েছে। ৮২৮ মিলিয়নের পর্যাপ্ত স্যানিটেশন নেই, ৮৮৬ মিলিয়নের ঠিকঠাক বাড়ি নেই এবং ৯৯৮ মিলিয়নের রান্নার জ্বালানি নেই। মোট ৬৩৭ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন। ভারত অমৃতকালে তাহলে দারিদ্র্যের নিরিখে জগৎসভায় পরিচিত হলো তবে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।