বাংলায় সন্দেশখালির জন্য কতটা আসন কমবে তৃণমূলের? প্রশান্ত কিশোর যা বলছেন

Prashant Kishore on Sandeshkhali : প্রধানমন্ত্রী ৩৭০ টি আসন জয়ের কথা বললেও বিজেপির একা এত আসন জেতার সম্ভাবনা শূন্য, বলছেন নির্বাচনী প্রকৌশলী পিকে।

inscript
২ মিনিট
বাংলায় সন্দেশখালির জন্য কতটা আসন কমবে তৃণমূলের? প্রশান্ত কিশোর যা বলছেন

মাস যত এগোচ্ছে, পারদ চড়ছে ততই। আবহাওয়ারও, রাজনীতিরও। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মরণপণ লড়াই করতে চাইছে সমস্ত বিরোধী দলই। মরিয়া বিজেপিও। তবে, "মোদি নেহি তো কৌন" প্রশ্নের যেহেতু সেভাবে সদুত্তর মেলেনি আজও, তাই বিরোধীদের লোকসভা আসন জয়ের সম্ভাবনা কতখানি, শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। রাজনীতির ময়দানের প্রতি ইঞ্চি চেনেন প্রশান্ত কিশোর। রাজনৈতিক প্রকৌশলী বলছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের উন্নতির কোনও আশা নেই। এই রাজ্যেও বিজেপির অবস্থা বেশ ভালোই। সন্দেশখালি তৃণমূলকে বিপাকে ফেলবেই, বলছেন প্রশান্ত।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে পিকে বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে অন্তত ১০০ আসন পেতেই হতো কংগ্রেসকে। কিন্তু ১০০ আসনও পার করতে পারবে না কংগ্রেস। এদিকে সংসদে নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, ৩৭০ টি আসন পাবেই বিজেপি। এতটাই কি নিশ্চিত মোদির ভবিষ্যদ্বাণী? পিকে বলছেন, বিজেপি প্রতি নির্বাচনেই কিছু না কিছু আসনের লক্ষ্যমাত্রা রাখেই। এর আগের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ২০০ টি আসন জেতার কথা বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ দিল্লিতে ৪০ টা আসন জেতার কথা বলেছিলেন, অথচ পেয়েছিলেন ৮ টা। এতটা ফারাক কেন? প্রশান্ত কিশোর বলছেন, কোনও মানুষ বা কোনও সংবাদমাধ্যমেরই ক্ষমতা নেই প্রশ্ন করার। "কেউই অমিত শাহ বা নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞেস করবেন না যে আপনারা আগে ৪০ টা বলেছিলেন পরে ৮ টা আসন পেলেন কেন”। অমিত শাহ একবার বলেছিলেন, এই আসনের লক্ষ্যমাত্রা বিজেপি নিজেদের কার্যকর্তাদের জন্য নির্ধারিত করা হয়। পিকে-র প্রশ্ন, তাহলে মোদি যে ৩৭০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা রাখছেন, তা কি কার্যকর্তাদের জন্যই?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফল কী, একবাক্যে যা জানালেন প্রশান্ত কিশোর

BJP Lok Sabha Polls 2024 : বিজেপিও ক্ষমতার জন্য যে কোনও দলকে একইভাবে ব্যবহার করতে জানে। বিজেপির এই চর্চা আরও গভীরে।

প্রশান্ত কিশোর বলছেন, যে কোনও নেতাই আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখতে পারেন। তার অর্থ এই নয় যে সেটাই ধ্রুব সত্য। হতেই পারে যে আসন ভাবা হয়েছিল জেতা যাবে তার চেয়ে কম আসনেই জয় মিলল। তাহলে স্বীকার করতে হবে বিজেপির হিসেবে সমস্যা হয়েছে। ২০১৪ সালের পর অন্তত ৮-৯ টা নির্বাচনে বিজেপির মুখোমুখি হয়েছিলেন পিকে। প্রশান্ত বলছেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিজেপি বলেছিল ২০০ আসন পাবে, পেয়েছিল মাত্র ৫৫। পঞ্জাবে অকালি-বিজেপি ধুয়ে মুছে যায়। এমন বহু উদাহরণই আছে। তাই বিজেপি নিজের ক্ষমতায় লোকসভায় ৩৭০ আসন পাবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। প্রধানমন্ত্রী ৩৭০ টি আসন জয়ের কথা বললেও বিজেপির একা এত আসন জেতার সম্ভাবনা শূন্য, বলছেন নির্বাচনী প্রকৌশলী পিকে।

পশ্চিমবঙ্গে তো ১৮ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবার কী হবে? সন্দেশখালি ইস্যু কি বিজেপিকে পালে হাওয়া দেবে? প্রশান্ত কিশোর এই রাজ্যে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন আগে। তাই রাজ্যের রাজনৈতিক ঘাত প্রতিঘাত তিনি জানেন, জানেন কোন অঞ্চলের কী সমীকরণ। প্রশান্ত কিশোর বলছেন, সন্দেশখালির ফল তৃণমূল ভুগবেই। তবে সন্দেশখালি ছাড়াও বিজেপির বাংলায় আরও অনেক জোরালো ক্ষেত্র আছে। দিল্লিতে বসে অনেকেরই মনে হয় বাংলায় বিজেপি শেষ, বাস্তব তা নয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে হারে বিজেপি প্রচার করতে সক্ষম হয়েছে তাতে তৃণমূল আরও সমস্যায় পড়বে ক্ষমতা ধরে রাখতে, বলছেন পিকে। বিধানসভার চেয়েও লোকসভায় বিজেপি বাংলায় ভালো ফল করবেই, ভালো সংখ্যায় আসন পাবে বিজেপি। প্রশান্তের হিসব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনাতে বিহার, বাংলা, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু আর কেরলে- মোটামুটি এই ২২০ টা লোকসভা আসনে নিজেদের ভোট এবার বাড়াবেই বিজেপি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।