আমাদের ভুলে চরম বিশৃঙ্খলা প্রকৃতিতে, ভয়াবহ মাশুল গুণতে হবে, বলছে গবেষণা

মানুষের কার্যকলাপের জন্যে প্রকৃতি ক্রমেই তুমুল বিশৃঙ্খলতার দিকে এগোচ্ছে, এমনই জানাচ্ছে পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অফ পোর্তোর গবেষকদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা। যেখান থেকে জানা যাচ্ছে, যত সময় এগোবে, প্রকট হবে সেই বিশৃঙ্খলতা।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
আমাদের ভুলে চরম বিশৃঙ্খলা প্রকৃতিতে, ভয়াবহ মাশুল গুণতে হবে, বলছে গবেষণা

মেঘনাদবধ কাব্যের ষষ্ঠ সর্গে ইন্দ্রজিৎ বিভীষণকে বলছেন-

তুমি! নিজ কর্মদোষে হায় মজাইলা এ কণক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি!

গবেষণা বলছে, ঠিক এমন জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা, এই মানবসভ্য়তা। মানুষের কার্যকলাপের জন্যে প্রকৃতি ক্রমেই তুমুল বিশৃঙ্খলতার দিকে এগোচ্ছে, এমনই জানাচ্ছে পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অফ পোর্তোর গবেষকদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা। যেখান থেকে জানা যাচ্ছে, যত সময় এগোবে, প্রকট হবে সেই বিশৃঙ্খলতা।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ইউনিভার্সিটি অফ পোর্তোর (University of Porto) পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড: অরফিউ বার্তোলামি (Dr. Orfeu Bertolami) ইন্সক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, "পরিবেশের উপর মানুষের যথেচ্চাচার যদি এই ভাবে চলতে থাকে বা আরও বিরূপ হয়, তাহলে এক সময়ে এসে প্রকৃতি অনিশ্চিত রূপ ধারণ করবে, গণিতের ভাষায় যাকে বলে (পরিবেশের) বিশৃঙ্খল আচরণ (Chaotic behaviour)"।

বিশৃঙ্খলতার মানে রাতারাতি মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া নয়, ধরণী দ্বিধা হয়ে যাওয়া নয়। প্রলয় এসে এক মূহুর্তে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এমনটাও নয়। ছন্দপতন হবে তিলে তিলে, আর যতই চরমে পৌঁছবে সেই বিশৃঙ্খলা, এমন একটা মুহুর্ত আসবে যখন মানুষ আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচার শক্তিটাই হারিয়ে ফেলবে। বলা ভালো বিপর্যয়ের সামনে নিজেকে আত্মসমর্পণ করে ফেলবে।

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ থেকেই নগরায়ণ, শিল্পের প্রসার, বৃক্ষচ্ছেদন প্রভৃতি বেড়েছে। যার প্রভাব যে সরাসরি গিয়ে পড়েছে পরিবেশের উপর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হলোসিন (Holocene) যুগ, যা স্থায়ী হয়েছিলো সুদীর্ঘ বারো সহস্রাব্দ জুড়ে, তার স্থান দখল করল অ্যান্থ্রোপোসিন (Anthropocene) যুগ। হলোসিন থেকে অ্যান্থ্রোপোসিন যুগে রূপান্তর - যাকে আবার বিজ্ঞান, বিশেষত পদার্থবিদ্যার ভাষায় ফেজ় ট্রানজি়শন বলা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেউ অ্যাসিড-আক্রান্ত, কেউ রূপান্তরকামী || বইয়ের বদলে মানুষ পড়া যাবে এই লাইব্রেরিতে

আপনারা নিশ্চয়ই ই-বুক, অডিওবুকের নাম শুনেছেন। কিন্তু কখনও এমন ‘বই'য়ের কথা শুনেছেন, যে মানুষের মতো কথা বলে?

"অ্যান্থ্রো",যার অর্থ হল মানুষ বা মানুষ-সম্বন্ধীয়। অ্যান্থ্রোপোসিন বলতে বর্তমান ভৌগোলিক সময়কালকে বোঝায়, যখন পরিবেশ-প্রকৃতি মূলত মানুষের কার্যকলাপের ফলে নিয়ন্ত্রিত হয়। পৃথিবীর প্রাকৃতিক সিস্টেমের ওপর মানুষের প্রভাব এতই বেশি, বর্তমানে প্রকৃতির চরিত্র ও তার ভবিষ্যত মানুষই নিয়ন্ত্রণ করছে। মানুষের ভবিষ্যত কার্যকলাপের সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায় লজিস্টিক ম্যাপের সাহায্যে।

ল্যান্ডাও-জিনজ়বার্গ থিওরির সাহায্যে হলোসিন থেকে অ্যান্থ্রোপোসিন যুগের যে ভাবে রূপান্তর ঘটেছে, তার গাণিতিক সমীকরণ নির্ণয় করা অনেক সোজা হয়েছে। করেছে, মানুষের আচার-আচরণের ভবিষ্যতদ্রষ্টা লজিস্টিক ম্যাপও।

ড: বার্তোলামির পাশাপাশি, ইউনিভার্সিটি অফ পোর্তোর পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের আরেক গবেষক এবং সাম্প্রতিকতম এই গবেষণায় অংশ গ্রহণকারী ড: ফ্রেডেরিকো ফ্রান্সিস্কো ২০১৯ -এর একটি গবেষণায় উল্লেখ করেছিলেন, পরিবেশের সার্বিক ভাবে যে পরিবর্তন ঘটছে - যে ভাবে তাপমাত্রার পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন, কিংবা বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে - তাকে থার্মোডায়নামিক্স দিয়ে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়।

সেই ব্যাখ্যার পেছনে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে অহরহ ঘটে চলা শক্তির আদান- প্রদান দায়ী। উদাহরণ হিসেবে তাপশক্তিকেই ধরা যায়, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা উত্তরোত্তর বাড়ছে। এই শক্তির আদান-প্রদান আমরা বৃহৎ পরিসরে (Macroscale) উপলব্ধি করলেও, তা কিন্তু ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র পরিসরে (Microscale) ঘটছে বলেই বৃহৎ আকার ধারণ করছে । ঠিক যেমন, পৃথিবীর অগুন্তি স্থানে মানুষের কর্মফলে তাপমাত্রা অল্প-অল্প করে বাড়তে বাড়তে, সার্বিক ভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েছে এবং ক্রমাগত বাড়ছেও বটে।

অধ্যাপক বার্তোলামি আরও জানাচ্ছেন, "প্রকৃতিতে বিশৃঙ্খলতা চরমে পৌঁছনোর আগে, প্রকৃতিতে একটি মুহুর্ত আসে, যাকে বলে স্টেবিলিটি পয়েন্ট বাইফারকেশন"। স্টেবিলিটি পয়েন্ট বাইফারকেশন হলে প্রকৃতির সাম্ভাব্য ভবিষ্যত ক্রমাগত দ্বিধাবিভক্ত হয়। ফলে পৃথিবীর বা প্রকৃতির জন্যে অসংখ্য ভবিষ্যত সম্ভাবনা তৈরি হয়। "ঠিক এই অবস্থায়, স্বাভাবিক ভাবেই পৃথিবীর ভবিষ্যত কী হবে, পুরোটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে", জানাচ্ছেন ড: বার্তোলামি।

আগামী দিনে পৃথিবীর বিশৃঙ্খলতার রূপ কেমন হবে তাহলে?

পৃথিবীর বিশৃঙ্খলতা বাড়ার সঙ্গে বাড়বে আরও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা, পরিবেশের তাপমাত্রা হবে অসহনীয়, ঝড়ের রূপ হবে আগ্রাসী, কোথাও বন্যা ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, কোথাও বা খরার ফলে ঊষর হয়ে যাবে ভূমি। বাস্তুতন্ত্রের কাঠামো ভেঙে পড়বে দ্রুত, একের পর এক জীবের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়,আরও কমবে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর, সমস্যা আরও প্রকট হবে যখন খাদ্য-সঙ্কট পাল্লা দিয়ে বাড়বে, পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে রোগ-সৃষ্টিকারী জীবাণুরা।

আমরা ইতিমধ্যেই খেয়াল করেছি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহ কালঘাম ছোটাচ্ছে। আমফান থেকে ইয়াসের মত সাইক্লোনের সংখ্যা শুধু বাড়েইনি, ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে ভারতের উপকূলবর্তী এলাকার একের তৃতীয়াংশ তলিয়ে গেছে সমুদ্রের গর্ভে এবং তার কারণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সুন্দরবন অঞ্চল। অন্য দিকে, স্রেফ ভারতেই ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর কমছে প্রতি বছর। মরুপ্রধান বা শুষ্ক দেশগুলির কথা না হয় বাদই দেওয়া হল।

তাহলে কি আমরা ধ্বংসের দিকেই এগোচ্ছি নিশ্চিত ভাবে? এই অবস্থায় পরিবেশ-প্রকৃতিকে কি কোনো ভাবেই আমরা রক্ষা করতে পারব না?

"অবশ্যই এখনও সময় আছে পৃথিবীর বেশ কিছু বাস্তুতন্ত্র এবং জীবকে রক্ষা করার”, ড: বার্তোলামি জানাচ্ছেন, “তবে যে হারে আমরা গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গত করছি বাতাসে, তা ভূমি থেকে সমুদ্র সর্বত্র ক্ষতিসাধন করবে। বাদ পড়বে না মানুষও এবং একদিন জনসংখ্যাও হ্রাস পাবে - ফলে পৃথিবীর বর্তমান যা জনসংখ্যা, তা-ও টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে"।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, "প্রকৃতির সেই অপূরণীয় ক্ষতি যাতে আমরা না করি, তাই এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নইলে বড্ড দেরি করে হয়ে যাবে"।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।