করোনার পর নতুন মহামারীর আশঙ্কা বিশ্ব জুড়ে! কেন এত ভয়ঙ্কর 'জম্বি ডিয়ার' রোগ?

Zombie Deer Disease: মল, লালা, প্রস্রাব বা রক্ত- যে কোনও কিছুর মাধ্যমেই এক শরীর থেকে অন্য শরীর থেকে সংক্রমিত হয় অসুখটি। এখনও পর্যন্ত এর কোনও চিকিৎসা বা প্রতিষেধক খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
করোনার পর নতুন মহামারীর আশঙ্কা বিশ্ব জুড়ে! কেন এত ভয়ঙ্কর 'জম্বি ডিয়ার' রোগ?

ফের নতুন রূপ ধরে ফিরে এসেছে করোনা। ভয়ে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে নাকি নতুন করে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে আরও একটি মহামারির চোখরাঙানি। পশুপাখি থেকে রোগ সংক্রমণের ঘটনা কোনও নতুন ব্যাপার নয়। এর আগেও বাদুড়ের শরীর থেকে আসা নিপা ভাইরাসের কবলে পড়েছে কেরল-সহ একাধিক রাজ্যের বাসিন্দা। এমনকী হাঁস-মুরগির মতো পাখিদের থেকে বার্ড ফ্লু-র মতো রোগ সংক্রমণের ঘটনাও নতুন কথা নয়। তবে এবার বাদুড় কিংবা মুরগি নয়, হরিণদের থেকে ভয়ঙ্কর এক ব্যধিতে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্রমশ ছড়াচ্ছে ভয়াল 'জম্বি ডিয়ার ডিজিজ'। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকায় হঠাৎ করেই ক্রনিক ওয়েস্টিং ডিজিজ (CWD) নামক এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। যা নাকি জম্বি ডিয়ার ডিজিজ নামেও পরিচিত। গত কয়েক বছর ধরেই একটি দুটি করে এই জম্বি ডিজিজ সংক্রমণের খোঁজ মিলছিল। আমেরিকার একাধিক হরিণ, এলক, রেইনডিয়ার, সিকা হরিণ ও মুস এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত কয়েক মাসে মারাত্মক রকমের বেড়েছে এই ক্রনিং ওয়েস্টিং ডিজিজ। ইতিমধ্যেই আমেরিকার ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে একাধিক এই জম্বি ডিয়ার ডিজিজের সংক্রমণের খবর মিলেছে। প্রথম CWD কেসটি মিলেছিল ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে চলতি বছরের নভেম্বরে। তার পর দ্রুত হারে বেড়েছে এই রোগের সংক্রমণ। সেখানে ইতিমধ্যেই একটি হরিণের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এটা স্পষ্ট যে এই হরিণটি প্রিয়ন রোগে আক্রান্ত। এই ভাইরাসে হরিণের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়লোস্টোন ন্য়াশনাল পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ থেকে কোডি, ওয়াইমিং এলাকায় স্থানান্তরিত প্রায় ১০-১৫ শতাংশ হরিণের মধ্যেই এই ধরনের রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্রিসমাস আর নববর্ষের মাঝেই হার্ট অ্যাটাক? কেন হচ্ছে বিশ্বজুড়ে?

Heart attacks during Christmas, New Year: প্রতিবছরই নাকি ক্রিসমাস ও নতুন বছরের প্রাক্কালে হাজার হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মৃত্যুও হয় অনেকের।

শুধু আমেরিকা নয়, এই রোগ ক্রমশ ছড়িয়েছে কানাডাতেও। এমনকী উত্তর আমেরিকার বাইরে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনেও রেইনডিয়ার ও মুসগুলি এই CWD-রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এমনকী দক্ষিণ কোরিয়াতেও মিলেছে এই রোগের হদিস। ১৯৬৭ সালে কলোরাডোতে প্রথম এই রোগের হদিস মেলে। এতদিন যাবৎ হরিণ ও ওই জাতীয় প্রাণীর মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ হলেও ক্রমশ তাদের থেকে মানুষের শরীরেও সেই রোগ সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কী এই ক্রনিক ওয়েস্টিং ডিজিজ? কী-ই বা এর উপসর্গ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোথা থেকে এল ভয়াবহ নিপা ভাইরাস? জেনে নিন

কোথা থেকে এল ভয়াবহ নিপা ভাইরাস? জেনে নিন। কেরলে জারি হয়েছে সতর্কতা, কী রোগের লক্ষণ? বিস্তারিত পড়ুন।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই জম্বি ডিয়ার ডিজিজ নাকি যে কোনও রকম শারীরিক তরলের মাধ্যমের সংক্রমিত হতে পারে। মল, লালা, প্রস্রাব বা রক্ত- যে কোনও কিছুর মাধ্যমেই এক শরীর থেকে অন্য শরীর থেকে সংক্রমিত হয় অসুখটি। এখনও পর্যন্ত এর কোনও চিকিৎসা বা প্রতিষেধক খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞেরা জানান, ধীরগতিতে হলেও ক্রমশ আক্রান্তকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে থাকে অসুখটি। সব চেয়ে বিপজ্জনক দিকটি হল, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শরীরের ভিতরে ইনকিউবেশনে থাকতে পারে এই রোগের জীবাণুটি। ফলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংক্রমিতকে চিহ্নিত করাই কঠিন হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পেতে থাকে এই সংক্রমণের লক্ষণ।

এই জীবাণুর সংক্রমণ হলে ক্রমশ ওজন কমতে থাকে আক্রান্ত প্রাণীটির। আচরণগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত লালা ঝরা, নিউমোনিয়া, দুর্বলতা এবং ক্রমশ যা নিয়ে যায় মৃত্যুর দিকে। এখনও পর্যন্ত মানুষকে ছুঁয়ে ফেলেনি ভয়ঙ্কর এই অসুখটি। তবে বিশেষজ্ঞেরা আশঙ্কা করছেন, শেষপর্যন্ত মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে এই রোগ। CWD আক্রান্ত প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করলেও কিন্তু এই রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। বহু জায়গাতেই হরিণের মাংস খাওয়ার চল রয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে এই রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এমনকী সংক্রমিত এলাকা থেকে বয়ে আসা তরলের মাধ্যমেও কিন্তু মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে এই রোগের জীবাণু।

ইতিমধ্যেই ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) ৩৩টি রাজ্য ও কানাডার চারটি প্রদেশকে চিহ্নিত করেছে, যেখানে এই ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষত হরিণ, এলক এবং মুজের মস্তিষ্কেই প্রভাব বিস্তার করে এই অসুখটি, এবং স্নায়ুর ক্ষতি করতে শুরু করে। ক্যালিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, ক্রমাগত জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বদল করে করে একদিন মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে ভাইরাসটি। ইতিমধ্যেই CWD ভাইরাসটি নিয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন প্রশাসন। কোনও ভাবে যাতে সেটি মানবশরীরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতে গোড়া থেকেই সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।