যত্রতত্র ফেলেন, কমোডে ফ্লাশ করেন? মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে আসলে যা করা উচিত

Date Expired Medicines: মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সঠিক নিষ্পত্তি কীভাবে করতে হয় তা অধিকাংশ মানুষই জানেন না। ফলে মানুষ হয় তা আবর্জনার গাদায় ফেলে দেন বা কমোডে ফেলে ফ্লাশ করে দেন।

inscript
৪ মিনিট
যত্রতত্র ফেলেন, কমোডে ফ্লাশ করেন? মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে আসলে যা করা উচিত

আমাদের ওষুধ নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি অঙ্গের জন্য এক একটি ওষুধ। এবার মুশকিল হচ্ছে, ডাক্তার দেখিয়ে প্রেসক্রিপশনে লিখিত ওষুধ কেনার পর অনেক সময়ই পুরোটা আর শেষ করে ওঠা হয় না। রোগের উপসর্গ কমলেই, বিপদের দিনে পাশে থাকা ওষুধটিকে আমরা সরিয়ে রেখে দিই। ভাবি, আবার এমন দুর্দিন এলে নাহয় কাজে লাগানো যাবে। এই করে ওষুধ আমাদের জমতেই থাকে। আবার অনেকসময় বেশ কিছুদিন একটি ওষুধের কোর্সের পর, হঠাৎ চিকিৎসক ওষুধ বদলে দিলেন হয়তো। আধখাওয়া ওষুধের পাতা রয়েই গেল বাক্সে। তারপর বহুকাল পরে আবার অসুস্থ হয়ে দাওয়াই খুঁজতে গিয়ে আপনি আবিষ্কার করলেন, ওষুধ স্টকে আছে ঠিকই কিন্তু তার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। ওই ডেট এক্সপায়ার্ড ওষুধ খেয়ে নিজেরই এক্সপায়ার করার আশঙ্কা বাড়ে! তাহলে উপায়? ওই ওষুধের ভবিষ্যৎ কী? ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সঠিক নিষ্পত্তি কীভাবে করতে হয় তা অধিকাংশ মানুষই জানেন না। ফলে বিশ্বের বহু দেশেই মানুষ হয় তা আবর্জনার গাদায় ফেলে দেন বা কমোডে ফেলে ফ্লাশ করে দেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এভাবে ফেলে দিলে তা স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া কেন বিপজ্জনক?

স্থিতিশীলতা পরীক্ষার মাধ্যমে ওষুধের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখটি নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন সংরক্ষণ পরিস্থিতিতে কতক্ষণ ওষুধটি নিরাপদ এবং কার্যকর থাকে তা মূল্যায়ন করা হয়। প্রস্তুতকারকরা সাধারণত ওষুধের গুণমান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখটি অবশ্যই উল্লেখ করে থাকেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের অবনতি হয়। এর মানে হচ্ছে, ওষুধ মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখে পৌঁছলে, ওই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আর কাজ নাও করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ওষুধের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। সাবথেরাপিউটিক ডোজ (সঠিকভাবে কাজই করে না এবং তাই অসুস্থতা বা সংক্রমণও সম্পূর্ণ সারে না) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়ায়! তবু কেন অ্যাসিডিটির এই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ভারতে?

Zantac Medicine Cancer: ভারতে র‍্যানিটিডাইন বিক্রি বন্ধ করার জন্য সরকার গত পাঁচ বছরে কাজ করেনি কেন, বিশেষ করে যখন অন্যান্য ওষুধের যথেষ্ট বিকল্প বাজারে রয়েছে!

যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক ওষুধে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয় তখনই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ঘটে। সংক্রমণের চিকিত্সা করাই তখন কঠিন হয়ে যায়। উল্টে, রোগের বিস্তার, গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ইনসুলিন বা হার্টের ওষুধের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ওষুধের ক্ষমতা হ্রাস হওয়াও উদ্বেগের বিষয়, কারণ এটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ক্ষতিকারক যৌগে ভেঙে যেতে পারে। এর একটি উদাহরণ হলো সিপ্রোফ্লক্সাসিন। এই অ্যান্টিবায়োটিকটি সাধারণত মূত্রনালীর এবং উপরের এবং নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়দ ফুরিয়ে গেলে এটি বিষাক্ত যৌগে পরিণত হতে পারে যা কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এই ওষুধের সঠিক নিষ্পত্তি না হলে তা পরিবেশের জন্যও বিপজ্জনক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুঠো মুঠো ব্যথার ওষুধ খাচ্ছেন? পেইনকিলার নিয়ে যে আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে সরকার

Health Alert: মেফটাল নামক পেইনকিলার তথা ব্যথানাশক ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করল সরকার। ওষুধটির মূল উপাদান মেফেনামিক অ্যাসিডটি বেশ কয়েকটি অসুবিধার তৈরি করতে পারে শরীরে।

তাপ, আর্দ্রতা এবং আলো সংস্পর্শে এলে ওষুধের সক্রিয় উপাদানগুলিতে ভাঙন ধরতে পারে। প্যারাসিটামল খুব সাধারণ এক ওষুধ। ব্যথা এবং জ্বরের জন্য সকলেই এই ওষুধ কেনেন। এক বছরের পুরনো প্যারাসিটামল ট্যাবলেট বিপজ্জনক নাও মনে হতে পারে কিন্তু যদি ওষুধটি পচে যেতে থাকে তাহলে ব্যথা বা জ্বরের চিকিৎসায় তা আর কাজ করবে না, রোগ সারবে না। সারছে না বলে, অনেকেই বেশি মাত্রায় ওষুধ খেতে থাকেন, যার ফল ভালো নাও হতে পারে।

কেবল ট্যাবলেট এবং ক্যাপসুল নয়, কাশির সিরাপ, চোখের ড্রপ, কানের ড্রপেরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা দূষণ ঘটায় কারণ এতে থাকা প্রিজারভেটিভগুলি তাদের শক্তি হারিয়ে ফেলে। এটি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়, যার থেকে আবার সংক্রমণ হতে পারে। বাড়িতে রেখে দেওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ভুল করে শিশুরা খেয়ে ফেললে বিপদ চরম।

কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সময় পেরিয়ে গেলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তবে তা খেয়ে নিলে নিরাপত্তার কোনও গ্যারান্টি নেই। মানুষ এবং পরিবেশ দুইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতি রোধ করার জন্য তাই এই ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের নিরাপদ নিষ্পত্তি অপরিহার্য। মেয়াদোত্তীর্ণ বা উদ্বৃত্ত ওষুধ আবর্জনার গাদায় ফেলে দিলে বা টয়লেটে ফ্লাশ করে দিলে তা পরিবেশের জন্য খারাপ। গৃহস্থালির আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেওয়া ওষুধগুলির মধ্যে থাকা সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানগুলি মাটি এবং ভূগর্ভস্থ জলকে দূষিত করতে পারে।

বেসিনের সিঙ্ক বা টয়লেটে ওষুধ ফ্লাশ করার ফলে এই পদার্থগুলি সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। সেগুলি জলে মিশে জলজ বাস্তুতন্ত্রে ঢুকে পড়ে। বন্যপ্রাণীদের ব্যাপক ক্ষতি হয় এতে। আর পানীয় জলে যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মিশে যায় তাহলে মানুষের সরাসরি বিপদ। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের পাশাপাশি এবং এন্ডোক্রিন সমস্যাও বাড়ে। এই সমস্যা দেখা দিকে মানব দেহের প্রাকৃতিক হরমোনগুলি প্রভাবিত হয় যার ফলে স্বাস্থ্যে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা দেখা যেতে পারে।

তাহলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সবচেয়ে নিরাপদভাবে কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়?

অব্যবহৃত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের নিষ্পত্তির সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো ড্রাগ টেক-ব্যাক প্রোগ্রাম। এতে অনুমোদিত কর্মীরা, যেমন ফার্মাসিস্ট বা মনোনীত কর্মকর্তারা ওষুধের নিষ্পত্তি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে জনসাধারণকে ওষুধ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা দিয়ে যেতে হয়। তবে এই ব্যবস্থা সব দেশে নেই। সেক্ষেত্রে ব্যবহৃত কফি গ্রাউন্ড বা বিড়ালের লিটারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে দিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে তা রেখে ভালো করে বন্ধ করে ফেলা যেতে পারে যারে কোনও শিশু বা অন্য প্রাণী তা খুলে না ফেলতে পারে। এতে অন্তত ওষুধগুলি টয়লেট বা ড্রেন থেকে দূরে থাকছে, যার ফলে জল দূষণ এবং জলজ জীবনের ক্ষতি কম হয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।