বিজেপি হারলে শেয়ার বাজারে বিপুল পতন! কী করা উচিত এখন?

BJP and Stock Market: বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে অস্থিরতা আরও বাড়তে চলেছে। ফলে, এই মুহূর্তে ভেবেচিন্তে বিনিয়োগ না করতে পারলে সমূহ ক্ষতি।

inscript
৩ মিনিট
বিজেপি হারলে শেয়ার বাজারে বিপুল পতন! কী করা উচিত এখন?

প্রায় দু' মাসের লোকসভা নির্বাচন শেষের মুখে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিতে তৃতীয় দফার জন্য নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কিনা তার উপর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর তো করছেই, দেশের স্টক মার্কেটের সমস্ত ওঠা নামাও দাঁড়িয়ে আছে বিজেপির জয় অথবা হারের উপর। এই মুহূর্তে যারা শেয়ারবাজার, স্টক কেনাবেচায় জড়িত, তাদের তাই বেশি সতর্ক থাকতে হবেই। কোন খাতে বিনিয়োগ করলে ভরাডুবি আর কোন খাতে বিনিয়োগে লাভ তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে বিশেষজ্ঞ মহলে। কোটাক অল্টারনেট অ্যাসেট ম্যানেজারের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট জিতেন্দ্র গোহিল যেমন বলছেন, এনডিএ জোট পরবর্তী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে স্টক মার্কেট ২০ শতাংশেরও বেশি পড়ে যেতে পারে এবং তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ দীর্ঘ সময় লাগবে। অবশ্য এই ধরনের ফলাফলের সম্ভাবনা যে ক্ষীণ তাও বলছেন জিতেন্দ্র। তবে বিনিয়োগকারীদের আগেভাগেই সতর্ক হতে বলছেন তিনি যাতে নির্বাচনের ফলাফলের আগেই ঝুঁকি কমানো যায়।

জিতেন্দ্র গোহিল বলছেন, বিজেপি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে এবং এনডিএ সরকার গঠন করবে এই সম্ভাবনাই প্রবল। নির্বাচন ১ জুন শেষ হবে এবং ৩ জুন এক্সিট পোল হবে। বিগত দু'টি নির্বাচনেই, নির্বাচনী ফলের পূর্বাভাসের তুলনায় বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আসন পেয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির কথা শুনতে চাইছে না মানুষ! কেন সোশ্যাল মিডিয়াতে হু হু করে কমছে মোদির 'ভিউ'?

PM Modi Social Media Popularity: দু’-চার বছর আগেও মোদির কোনও ভিডিও বা সাক্ষাৎকার দেখতে ইউটিউবে হত্যে দিতেন লক্ষ লক্ষ মানুষ কিন্তু বর্তমানে মোদির কথা শোনার সেই আকর্ষণ কমেছে।

বেকারের সংখ্যা বাড়া, শিক্ষার বেহাল দশা, কট্টর হিন্দুত্ববাদকে আরও চড়িয়ে দেওয়া, সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো এবং ইডি-সিবিআইয়ের মতো সরকারি সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগের খানিক ফল যে ভুগতে হবে না বিজেপিকে, তা নয়। তবে, এবার আরও বেশি মহিলা ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপির, কঠিন সময়ে অর্থনীতিকে পরিচালনা করা, কঠোর বিদেশী নীতির জন্য কিছু ভোট বাড়বে এবং সর্বোপরি দুর্বল বিরোধীদের ভোটের শেয়ার বিজেপিতে যাবে এবার, বলছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

জিতেন্দ্র গোহিলের দাবি, গতবারের ৩০৩ আসন সংখ্যার তুলনায় ১০-২০ টা আসন বিজেপির এদিক ওদিক হলেও জয়ের পার্থক্যে বাজারে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না, কারণ বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা চান এবং স্থিতিশীল সরকার চান। সুতরাং, বিজেপির পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাজারের জন্য সর্বোত্তম। এবার যদি বিজেপি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে কম আসন পায় এবং এনডিএ শরিকদের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে তবে কী হবে? এই পরিস্থিতিতে বাজারে ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রভাব পড়বে বলে ব্যাখ্যা শেয়ার বিশেষজ্ঞদের। এনডিএ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বাজার ২০ শতাংশের বেশি প্রভাব পড়বে যা স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাঁটা উপড়ে ফেলতে দক্ষ মোদি! ক্ষমতায় আসতে কাকে কাকে পথ থেকে সরিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি?

Narendra Modi: ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে একে একে কত নেতাকে সরিয়েছেন পথ থেকে, তালিকা দীর্ঘ! নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সালে কেশুভাই প্যাটেলের জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নেন।

বিজেপি হেরে গেলে, পিএসইউ, মূলধনী পণ্য, উৎপাদন (বিশেষ করে পিএলআই স্কিম সম্পর্কিত সেক্টর), প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত স্টকগুলিতে বড় প্রভাব পড়বে। তবে আইটি এবং এফএমসিজি সেক্টরে শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখা যেতে পারে। এই মুহূর্তে শেয়ার বাজার অস্থির তা বলাই বাহুল্য। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে অস্থিরতা আরও বাড়তে চলেছে। ফলে, এই মুহূর্তে ভেবেচিন্তে বিনিয়োগ না করতে পারলে সমূহ ক্ষতি। স্টক বিশেষজ্ঞ সঞ্জীব ভাসিন বলছেন, এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের উচিত স্টক বিক্রি করে প্রফিট বুক করা। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অন্তর্ভুক্ত কিছু স্টক বিক্রি করে দেওয়া উচিত। পরিকাঠামো, রেল, প্রতিরক্ষা এবং পিএসইউ খাতের বাজার বেশ ভালো চলেছে ঠিকই, তবে, এবার এই স্টকগুলি বিক্রি করে মুনাফা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। তাই এই খাতের স্টক কেনা থাকলে এখুনি তা বিক্রি করে দেওয়া উচিত। স্টক বিক্রি করে নগদ ধরে রাখতে হবে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ কেটে গেলেই বাজারের ভাবগতিক বোঝা যাবে।

তবে ভোটকালীন ও ভোটপরবর্তী অস্থিরতা সত্ত্বেও কিছু খাতে বিনিয়োগের ভালো সুযোগও আছে, যেমন, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, এফএমসিজি, রিয়েল এস্টেট। ভোডাফোন, ইন্ডিয়াবুলস রিয়েল এস্টেটের স্টকগুলির অবস্থাও বাজারে খুবই ভালো। তবে, আগামীতে এফএমসিজি, বেসরকারি ব্যাঙ্ক ও স্পেশালিটি কেমিক্যাল- এই তিনটি খাত আউটপারফর্ম করতে পারে বলেও মনে করছেন সঞ্জীব ভাসিন। তাই বিনিয়োগকারীরা রিটার্ন পাওয়ার জন্য এই খাতগুলির স্টকের উপর লক্ষ্য রাখতে পারেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?