গাজাকে ঘিরে ফেলেছে ইজরায়েল সেনা? কী অপেক্ষা করছে বাসিন্দাদের জন্য?

Israel-Palestine conflict: গত কয়েকদিনে গাজার প্রধান শহরগুলিকে ঘিরে ফেলেছে ইজরায়েলি সেনা। সমস্ত রকমের যুদ্ধবিরতির ডাক অগ্রাহ্য করেছে তারা।

Sohini Das
২ মিনিট
গাজাকে ঘিরে ফেলেছে ইজরায়েল সেনা? কী অপেক্ষা করছে বাসিন্দাদের জন্য?

গাজা ভূখণ্ডকে একেবারে শেষ করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ইজরায়েল। রাষ্ট্রপুঞ্জে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে যে তারা শুধু অগ্রাহ্য করেছে তাই নয়, তার পরেই আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। গত কয়েকদিনে গাজার প্রধান শহরগুলিকে ঘিরে ফেলেছে ইজরায়েলি সেনা। সমস্ত রকমের যুদ্ধবিরতির ডাক অগ্রাহ্য করেছে তারা। বরং ক্রমশ দাঁতের চাপ বাড়াচ্ছে ইজরায়েল। আর গাজায় পাহাড় চড়ছে মৃত্যুসংখ্যা।

গাজার সমস্ত প্রধান শহর এখন ইজরায়েলি সেনা দিয়ে ঘেরা। ইজরায়েলের সেনা মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছে, মোটামুটি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরেই গাজায় পরিস্থিতি ঠিক এমনই। হামাসদের ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ইজরায়েলি সেনা। আর এই পরস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির কোনও ভাবনাই নেই বলেই জানিয়েছে ড্যানিয়েল।

গত সপ্তাহেই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়েছিলেন, হামাসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধে প্রবেশ করছে ইজরায়েল। আর তার পর থেকে ক্রমাগত আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েই চলেছে তারা। ৭ অক্টোবর ইজরায়েল থেকে বহু সাধারণ মানুষকে বন্দি বানিয়েছিল হামাস সেনা। তাঁদের তুলে আনা হয়েছিল গাজায়। প্রায় ২৫০ জনের কাছাকাছি বন্দি এখনও হাতে রয়েছে হামাসদের। তাদের মুক্তির জন্য নির্বিচারে গাজাবাসী হত্যা ছাড়া এখনও তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি ইজরায়েল সেনা। সম্প্রতি ইজরায়েল সেনার তরফে একটি সোশ্যাল মিডিয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামাসের হাতে বন্দিদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের অগ্রাধিকার। তবে একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে হামাস যেন আর ইজরায়েলের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৫০ হাজার গর্ভবতী মহিলা যুদ্ধের শিকার! প্রিম্যাচিওর শিশুদের মৃত্যু দেখবে গাজা?

Gaza Premature Babies : ইউএনএফপিএ-র অনুমান গাজায় ৫০,০০০ গর্ভবতী মহিলা এই যুদ্ধের শিকার। প্রতিদিন ১৬০ টিরও বেশি প্রসব হচ্ছে গাজায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব অবস্থান! কেন বলিভিয়ার পথে হাঁটছে না অন্য দেশগুলি?

Bolivia Against Israel : লাতিন আমেরিকার বামপন্থী দেশগুলি ফিলিস্তিনের প্রতি যেমন সহানুভূতি দেখিয়েছে

হামাসও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। পাল্টা হুমকি দিয়েছে তারাও। জানিয়ে দিয়েছে গাজার ছিটমহলে যে সব ইজরায়েলি সেনা প্রবেশ করবে, তাদের দেহ ফিরবে কালো ব্যাগে। তবে দু'পক্ষের এই হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুঁশিয়ারির মাঝে শুধু শুধু মরে যাচ্ছে অসংখ্য গাজাবাসী। দিন দুয়েক আগেই যে মৃত্যুসংখ্যা ছুঁয়েছিল আট হাজারের সীমা, তা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে ৯ হাজার। একের পর এক আকাশপথে হামলা চালিয়েই চলেছে ইজরায়েল। এমন ভাবে গাজাকে ঘিরে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে বাঁচার রাস্তা নেই গাজাবাসীর। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিকতম হামলায় অন্তত ৪ জন ফিলিস্তিনির নতুন করে খবর মিলেছে।

এরই মধ্যে ফের ইজরায়েলে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছেন মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিংকেন। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিন-তিন বার ইজরায়েলে গেলেন তিনি। এই গোটা যুদ্ধপরিস্থিতিতেই নেতানিয়াহুর পাশে থেকেছে আমেরিকার রিপাবলিকান সরকার। ইজরায়েলকে সব রকম সাহায্য করারও চেষ্টা করছে তারা। বাড়ানো হয়েছে সাহায্যের পরিমাণও। আর বাইডেন সরকারকে পাশে পেয়ে আরও কোমর বেঁধে গাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে ইজরায়েল।

গত ৭ অক্টোবরের পর থেকেই ইজরায়েলের লাগাতার হামলায় কোণঠাসা ফিলিস্তিনিরা। এখনও পর্যন্ত ৯,০৬১ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে গাজায়। আর এই সংখ্যাটা যে এখানেই থামার নয়, তা একরকম বলে দিচ্ছে ইজরায়েলের আগ্রাসন। ৭ অক্টোবর হামাসের আচমকা হামলায় অন্তত ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল ইজরায়েলে। তার বদলা নিতে সেই থেকে যে ভাবে যুদ্ধের পারদকে চড়িয়েছে ইজরায়েল, তা কার্যত যুদ্ধের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ঠিক কতদূরে গিয়ে যে থামবে ইজরায়েলের এই ভয়ঙ্কর খিদে, তাও বোধহয় জানা নেই কারওর।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।