হলিউড-বলিউড নয়, কোন জাদুতে তরুণ প্রজন্ম মজছে কোরিয়ান সংস্কৃতিতে?

রক, নাচ, গান, ঝলমলে পোশাক আর লক্ষ লক্ষ অনুরাগী কে-সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। বিটিএস, ব্ল্যাকপিঙ্ক, এক্সও হল কে-পপের সবচেয়ে বর উদাহরণ।

Sretama Basak
৪ মিনিট
হলিউড-বলিউড নয়, কোন জাদুতে তরুণ প্রজন্ম মজছে কোরিয়ান সংস্কৃতিতে?

অল্প হলেও বিটিএস ব্ল্যাক পিঙ্ক-এর নাম অথবা স্কুইড গেম কে-ড্রামার নাম শোনেননি, এমন মানুষ কিন্তু এখন খুবই কম পাওয়া যায়। কিন্তু কে-ড্রামা, কে-কালচার বা হ্যালউ ওয়েভ আসলে কী? দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদনের জনপ্রিয় ধারা কে-পপ কালচার মন জয় করছে পুরো বিশ্বের। তরুণ ও বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে হ্যালউ ওয়েভ নিয়ে উন্মাদনা দিন দিন বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। কিছুদিন আগে প্রকাশ পাওয়া স্কুইড গেম কে-ড্রামাটি যেন সেই আগুনে আর ঘি ঢেলেছে। অতিমারীতে এই কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রভাব ছড়িয়েছে প্রায় কয়েকগুণ বেশি।

রক, নাচ, গান, ঝলমলে পোশাক আর লক্ষ লক্ষ অনুরাগী কে-সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। বিটিএস, ব্ল্যাকপিঙ্ক, এক্সও হল কে-পপের সবচেয়ে বর উদাহরণ। তবে আধুনিক কে-পপের উৎপত্তি ঘটেছিল ১৯৮৭ সালে। আটের দশকের শেষ ও নয়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমি সংস্কৃতির প্রভাবে, যথা রক, জ্যাজ, হিপহপের সংমিশ্রণে দক্ষিণ কোরিয়াতেও কে-পপের বিস্তার শুরু হয়। নয়ের দশকে Seo Taiji & Boys তাদের গান ‘I Know’ প্রকাশ করলে তা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৭ সপ্তাহ ধরে এই গানটি কোরিয়ান মিউজিক চার্টের শীর্ষে থাকে। জন্ম নেয় আইডল সংস্কৃতির, তবে বিশ শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত এই কে-পপ শুধুমাত্র দক্ষিণ কোরিয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৩ থেকে তা বিশ্বের দরবারে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা লাভ শুরু করলেও তা বেগ পায় ২০১৫ সাল থেকে বিখ্যাত বয় ব্যান্ড বিটিএসের হাত ধরে। তাদের ‘Love Yourself’ অ্যালবাম ও ওয়ার্ল্ড ট্যুর কয়েক বিলিয়ন আয় করে। তাই কে-পপকে এই বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা দেওয়ার নেপথ্যে অন্যতমভাবে দায়ী হল বিটিএস ও ব্ল্যাকপিঙ্ক। তবে শুধুই কিন্তু কে-পপ নয়, কে-ড্রামাও তাল মেলাচ্ছে কোরিয়ান বিনোদনকে জনপ্রিয় করতে।

কিন্তু কেন হলিউড, বলিউড ছেড়ে সকলের নজর কাড়ছে এই হ্যালউ? তার নেপথ্যেও অবশ্য অনেক কারণ আছে। যেমন সুদৃশ্য আইডল, ঝলমলে পোশাক, গান, নাচ আকৃষ্ট করেছে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে, আদর্শ পুরুষত্ব, ফ্যানদের প্রতি ভালবাসা, ফ্যানদের এত প্রশ্রয় দেওয়া, তাঁদের কমনীয় ব্যবহার, সাধারণ মানুষকে আপন করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ‘স্কুইড গেম’, ‘অল অফ আস আর ডেড’-এর মতো কে-ড্রামাগুলি অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছে, এছাড়াও আছে ‘ট্রেন টু বুসান’, ‘প্যারাসাইট’, ‘মিনেরি’-র মতো পুরস্কারজয়ী সিনেমা। গল্পের চিত্রনাট্য, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সাজসজ্জার নিখুঁত উপস্থাপনা যে কোনও মানুষকে কে-ড্রামার প্রতি আকৃষ্ট হতে বাধ্য করছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গানের জন্য টাইপরাইটার বিক্রি করেছিলেন, চোখে জল আনবে কেকে-র লড়াইয়ের গল্প

কেউই মেনে নিতে পারছেন তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যু। তবে সবথেকে আবেগঘন বার্তা এসেছে কে কে-র বন্ধু গৌতম চিকার তরফ থেকে।

সিনেমার হিরোদের মতো জীবনসঙ্গী চাই, বহু মেয়েরই এমন বাসনা থাকে, কোন নারী না চায় যে তার প্রেমিক বা স্বামী হবে ঠিক শাহরুখ খান বা লিওনার্দো ডি-ক্যাপরিওর মতো! তাই কে-কালচারে তরুণ প্রজন্ম মজলেও, তাতে সংখ্যা বেশি তরুণীদের, কিন্তু কেন? এর পিছনে কারণগুলির মধ্যে প্রধান হল- পুরুষ আইডল, বা অভিনেতা। পশ্চিমি হিরোদের প্রতি বিশ্বের নারীদের টান বরাবরই বেশি। এমনকী, ভারতেও তাই। কিন্তু আস্তে আস্তে সেই আকর্ষণ কাড়ছে কে-ড্রামার হিরোরা। ‘রোম্যান্টিক’, ‘ভদ্র’, ‘সুদর্শন’, ‘চকচকে বর্মে নাইটস’ এমন কিছু শব্দ দিয়েই তরুণীরা তাদের আদর্শ কোরিয়ান পুরুষকে বর্ণনা করে। অনেক মহিলাই দক্ষিণ কোরিয়া পাড়ি জমাচ্ছে প্রেমিকের টানে, যদি সত্যিই সেখানে গিয়ে ঠিক কে-ড্রামার হিরোদের মতো জীবনসঙ্গী মেলে!

ফ্যানসাইন, অনুরাগীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন, লাইভ, আইডলদের জীবনের ছোটখাটো তথ্য প্রদান ইত্যাদি সবই আইডল বা অভিনেতারা করে থাকেন দর্শককে আকর্ষণ করার জন্য ও অনুরাগীদের ধরে রাখার জন্য। এমনিতেই তারকাদের জীবন নিয়ে সকলেরই কৌতূহল থাকে। কোন তারকা কখন কী খায়, কোথায় যায়- সবেতেই কিন্তু সাধারণ মানুষের, বিশেষত নতুন প্রজন্মের এক অমোঘ টান থাকে‌। এইসব প্রশ্নের উত্তরে যখন বাকি দেশের হিরোরা পাত্তা না দিয়ে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার আইডল ও হিরোরা কী খাচ্ছেন, তাও তাঁরা অনুরাগীদের লাইভ করে দেখান। অনুরাগীদের এমন প্রাধান্য আর কোনও দেশের তারকারা দেন কি না, তা সত্যি সন্দেহের! আইডলদের ওপর ব্যক্তিগত দাবি কায়েম করতে পেরে খুশিও হয় দর্শকরা। এহেন উপায়ে জনপ্রিয়তা বাড়ে আইডলদের, বাড়ে অনুরাগীর সংখ্যা। শুধুই লাইভ নয়, ফ্যানসাইনের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিটা ফ্যানের থেকে উপহার গ্রহণ করে ও অটোগ্রাফ দিয়ে থাকে। ব্যক্তিগত কথোপকথনও চালায়। যেখানে আমাদের দেশে অনেক অনুরাগীকেই তারকাদের বডিগার্ডদের হাতে হেনস্থা হতে হয়, সেখানে একবার বয় ব্যান্ড এক্সও-র এক মেম্বার এক অনুরাগীর হাতে চড় খেয়েও চুপ থেকেছে, এবং নিজের ভুলের জন্য উল্টে ক্ষমা চেয়েছে সে। আইডল এবং অনুরাগীদের মধ্যে এমন সম্পর্কই কে-সংস্কৃতির বৃদ্ধির জন্য অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কে-পপের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা অন্য কোনও পপ সংস্কৃতিতে দেখা যায় না। দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রত্যেকটি পপ গ্রুপে কিছু সদস্য থাকেন, তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু দায়িত্ব থাকে। কেউ হন লিড সিঙ্গার, কেউ ভিস্যুয়ালসের দায়িত্বে, আবার কেউ লিড ড্যান্সার। প্রত্যেকটি গ্রুপের নিজস্ব লাইট স্টিক থাকে‌। যেমন, বিটিএস-এর আর্মি বম্ব, ব্ল্যাক পিঙ্কের বিএল-পিং-বং, ট্যুয়াইসের জেড ইত্যাদি। এই লাইট স্টিকগুলির সাহায্যে কোন অনুরাগী কোন দলের ফ্যান, তা বোঝা যায়। এছাড়াও আছে অ্যালবামের সঙ্গে ফোটো কার্ড। আমাদের অনেকেরই শখ থাকে তারকাদের ছবি পেপার থেকে কেটে দেওয়ালে টাঙানো অথবা ডায়েরির পাতায় আটকে রাখার। আর ঠিক চাহিদা বুঝেই কে-পপ দলগুলি প্রচলন করে ফোটো কার্ড, যা অ্যালবাম কেনার হিড়িক আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রত্যেকটি কে-পপ গ্রুপের নিজস্ব অনুরাগীদের দলকে একটি করে নাম দেওয়া হয়, যেমন এক্সও-র এক্সও-এল, টিএক্সটি-র মুয়া, রেড ভেলভেটের রেভেলাভ ইত্যাদি ছাড়াও অসংখ্য গ্রুপের অসংখ্য ফ্যানডমের নাম আছে। শুনতে অবাক লাগলেও কে-পপের এহেন বৈশিষ্ট‍্যের জন্য প্রতি বছর প্রায় কয়েকগুণ করে অনুরাগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

কে-সংস্কৃতির এত বিপুল পরিমাণ বিস্তারের ফলে, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির প্রায় ১৬ বিলিয়ন অর্থ উঠে আসে তাদের বিনোদনের খাত থেকে। কে-পপ বা কে-ড্রামার কল্যাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সাজ-সজ্জা, খাবার ও পর্যটনের জনপ্রিয়তাও আকাশচুম্বী হচ্ছে দিনকে দিন। বিনোদনকে কাজে লাগিয়ে যে একটি দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এত জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে, তা দক্ষিণ কোরিয়াকে না দেখলে জানা যেত না কখনই।

লিখেছেন
Sretama Basak
Sretama Basak
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?

Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?

দেশভাগের ইতিহাসকে নারীর চোখে দেখা: অংশুমান করের ‘হিরণবালা’

Hiranbala Novel Review: বাংলা উদ্বাস্তু-আখ্যানের বড় অংশে দেশভাগের অভিজ্ঞতা এসেছে পুরুষের জীবন, তার মনস্তত্ত্ব ও তার গতিবিধির ভিতর দিয়ে। ‘হিরণবালা’ প্রথমেই এই কাঠামো ভেঙে দেয়। উদ্বাস্তু পরিবারের গল্পে একজন নারীকে নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ ভূমিকায় না দেখিয়ে, উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতাটিকে প্রত্যক্ষভাবে বুনে দেয় নারীটির জীবন। দেশভাগকে প্রায় অদৃশ্য করে হিরণকে উদ্বাস্তু করা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, বিয়ের মধ্য দিয়ে।

সুকুমার রায়ের সঙ্গে চার্লি চ্যাপলিনের ভীষণ মিল পাই: স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Sukumar Ray Literature: কেউ যদি অনেক বড় বয়সেও ছোট থাকতে চায়— যেমন আমি বলি যে আমার বয়স বাড়েনি— আর যদি নিজের বয়সটাকে একই জায়গায় ধরে রাখতে ইচ্ছে করে, তবে মনে হয় সুকুমার রায়ের সমগ্র তাঁর সারাজীবন বিছানার পাশে গীতবিতানের মতোই চিরসঙ্গী হয়ে থাকতে পারে।

বাংলার দেশি খাসির মাংস থেকে চিংড়ি শুঁটকি, জিআই তকমার অপেক্ষায় কোন কোন খাবার?

GI Tag Registration: বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশের বিভিন্ন পণ্য ও চিংড়ি শুঁটকি জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা। কিন্তু জিআই তকমা কী এবং এই স্বীকৃতি পেলে বাংলার উৎপাদকদের কী লাভ হবে?