কালো বিড়ালকে নিয়ে হাজারো কুসংস্কার, কীভাবে ছড়াল?

Black Cat Superstition: নীলনদের দেশের অধিশ্বরী ছিলেন ব্যাস্টেট। তখন কালো বিড়াল কেউ হত্যা করলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো। পূজিত হতো কালো বিড়াল।

Subir Paul
৫ মিনিট
কালো বিড়ালকে নিয়ে হাজারো কুসংস্কার, কীভাবে ছড়াল?

"অ্যাই মেঘনা একটু দাঁড়া বলছি। আগে কাউকে রাস্তা দিয়ে পেরিয়ে যেতে দে। দেখছিস তো কালো বিড়ালটা রাস্তা দিয়ে পেরোল।" কথাগুলো নিজের কিশোরী মেয়েকে বলছিলেন বছর পঁয়ত্রিশের এক বেশ ঝকঝকে সুন্দরী ভদ্রমহিলা। জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল, তিনি বারাসাতের বাসিন্দা। কয়েকদিন আগে এক সকালে স্থানীয় সার্কুলার রোড ধরে মেয়ের সঙ্গে হাঁটছিলেন বামুনপাড়ার অভিমুখে। বললেন, "কালো বিড়ালকে অশুভের প্রতীক হিসেবে শুনেছি বহুজনের মুখে। হয়তো সবই কুসংস্কার। তবু আমি যে মেয়ের মা। তাই একজন মা হয়ে মেয়ের ব্যাপারে যেচে কোনও অশুভের ঝুঁকি নিতে চাইনি পথিমধ্যে।"

অন্য ঘটনাটি দুর্গাপুরের। মাস ছয় আগে রেলস্টেশন লাগোয়া একটি খাবার হোটেলে থিকথিক করছে খদ্দেরের ভিড়। তারই মধ্যে হোটেলে ঢোকার এক কোণে রীতিমতো ভূরিভোজ করছে একটি পূর্ণবয়স্ক কালো বিড়াল। হোটেল মালিক জানালেন, নিজে হাতে রোজ তাকে তিনি খেতে দেন। অনেকে অনেক কিছু বলতে পারে। কিন্তু এটি তাঁর কাছে শুভের ইঙ্গিত। এই কালো বিড়াল প্রকৃতই ওঁর সৌভাগ্য ডেকে এনেছে। সেই কারণে তিনি তাকে যত্ন করে পোষেন। আদর করেন খুব। কোলে নেন। আবার নিয়ম করে সময়মতো নিয়মিত খেতেও দেন দুই বেলা।

সত্যি আজব হতে হয় বৈকি! বিষয়বস্তু এক। অথচ নানাজনের মনে সংস্কার ও কুসংস্কারের রকমারি মনযুদ্ধের ঠেলায় এই চারপেয়ে ম্যাঁও বাবাজীবনের প্রাণ যে প্রায় ওষ্ঠাগত। কারও মতে, যতসব অলক্ষ্মীর বাস। অন্যজনের দাবি আবার পুরোপুরি উল্টো। সৌভাগ্যের ঠিকানা পোষণ করেন মনের গভীরে। সৌজন্যে, সেই বহুল কথিত কালো বিড়াল। এই কৃষ্ণ মার্জার প্রাণীটিকে নিয়ে এহেন দ্বন্দ্ব আমাদের চেনাজানা দুই একটি ঘটনার মধ্যে শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ নয়। এই সুসংস্কার ও অপসংস্কারের দ্বিচারি ব্যাপ্তি আমাদের দেশের নানা প্রান্ত স্পর্শ করে বিশ্বের নানা সমাজে গ্রোথিত হয়েছে সুগভীর পর্যায়ে। এমনকী রাজনৈতিক গণ্ডি অতিক্রম করে সাহিত্য, চিত্রকলা থেকে ইতিহাসের অলিন্দেও ঘটেছে এর অবাধ প্রবেশ। চিনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ বিষয়ে দার্শনিক উদ্ধৃতিটি দিয়েছেন, "কালো বা সাদা যে রঙেরই বিড়াল হোক না কেন, যদি ইঁদুর ধরতে সক্ষম হয় তবেই সেটি উত্তম প্রজাতির বেড়াল।" সুতরাং তাঁর যে এমন কৃষ্ণকায় বিড়াল সম্পর্কে কোনও ছুঁতমার্গ নেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। চিনা প্রেসিডেন্টের কাছে রঙ বড় কথা নয়। দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতাই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে আদরণীয়। আসলে এটাই চিনা প্রধানের লৌহ কঠিন ব্যক্তিত্ব যেখানে কুসংস্কার কোনওমতেই প্রশ্রয় পায় না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষ নয়, ৩৬ বছর ধরে বিড়াল, ইঁদুরদের জন্য বর্ম তৈরি করেন এই শিল্পী! কেন?

Cat and Mouse Armour: একটি ইঁদুরের বর্ম তৈরি করার জন্য প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

অপরদিকে, ইতালিতে একসময়ের জাতীয়তাবাদী জনপ্রিয় নেতা ছিলেন জুসেপ্পে গ্যারিবল্ডি। তিনিও জীবনে কোনওধরনের কুসংস্কারের তোয়াক্কা করতেন না। একদা একটি কালো বিড়াল পুষে ছিলেন। ওটির নাম দিয়েছিলেন দ্য ব্ল্যাক ক্যাট। ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিশ্বাস করতেন না যে কালো বিড়াল অশুভের প্রতীক। বরং বলতেন, 'দ্য ব্ল্যাক ক্যাট' হলো তাঁর প্রকৃত বন্ধু।

ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও কালো বিড়াল খুব পছন্দ করতেন। এমনকী তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে একটি কালো বিড়াল পুষতেন। এমন প্রাণীকে নিজের প্রচেষ্টায় পোষ মানিয়ে ছিলেন প্রথিতযশা ফরাসি সাহিত্যিক আলেকজান্ডার দুমা। তিনি এতটাই ভালোবাসতেন যে সেই বিড়াল তাঁর বাসভবনে সবসময় থাকত। ব্রিটিশ লেখক অস্কার ওয়াইল্ডও কালো বিড়ালের খুব ভক্ত ছিলেন। এই প্রাণীর প্রতি তাঁর এত বেশি প্রীতি ছিল যে তাঁর রচনাতেও কালো বিড়াল জায়গা করে নিয়েছিল অনায়াসে।

বিশ্ববন্দিত সাহিত্যিক এডগার অ্যালান পো কালো বিড়াল নিয়ে রচনা করেছিলেন অন্যতম পৃথিবীখ্যাত গল্পের বই 'দ্য ব্ল্যাক ক্যাট।' কালো বিড়াল সম্পর্কে একাংশ মানুষের ভিতরে কী ভয়ঙ্কর রকমের কুসংস্কার আঁকড়ে আছে তা এই বইটিতে উল্লেখ করা রয়েছে সবিস্তারে। আবার প্রবাদপ্রতিম চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর কাছেও থাকত এক আদুরে কালো বিড়াল। খুব ভালোবাসতেন তাকে। তিনি একটি বিখ্যাত ছবি এঁকে ছিলেন, যাতে একটি কালো বিড়ালের অবয়ব রঙতুলির ক্যানভাসে জায়গা করে নেয়। ছবিটির নাম ছিল 'ব্ল্যাক ক্যাট উইথ বার্ড।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পোষ্য বিড়াল থাকলে স্কিজোফ্রেনিয়া হতে পারে আপনার! ভয়াবহ তথ্য গবেষণায়...

Schizophrenia : স্কিজোফ্রেনিয়া এক জটিল মানসিক রোগ। কোনও ব্যক্তির আচরণ, অনুভূতি এবং চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে এই রোগ।

স্কটল্যান্ডের একটি প্রাচীন লোককথায় উল্লেখিত আছে, ডাইনির সর্বক্ষণে সঙ্গী হলো কালো বিড়াল। ডাইনি জাদু করে এলাকার লোকদের ক্ষতি করত, আর এই বাহনটি এসব কুকর্মের সঙ্গ দিত। এমন বিশ্বাসের জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা আজও পারতপক্ষে কালো বিড়ালকে অলুক্ষুণে ভেবে এড়িয়ে চলে। ফ্রান্স ও জার্মানিতেও কিছু কিছু লোকগাথায় উল্লেখ রয়েছে, এখানকার ডাইনিরা নাকি কালো বিড়ালকে কালোজাদুর 'মিডিয়াম' হিসেবে বশ করে রাখত সবসময়। ফলে ওইসব অঞ্চলে বহু মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হতো এই প্রাণীর কারণে।

ব্রিটেনের কিছু মানুষ এমন ধারণা আজও বহন করেন যে কালো বিড়াল নাকি আদতে শয়তানের প্রতীক। এমনকি তাঁদের এও বিশ্বাস যে কোনও ভ্রমণের আগে আচমকা কালো বিড়াল দেখা গেলে সেই যাত্রা শেষমেশ অশুভ ঘটনার সাক্ষী থাকবেই।

ইতালি ও স্পেনে ১৩০০ ও ১৪০০ শতাব্দীতে মানুষের সমাজ ব্যবস্থায় কালো বিড়ালের অবস্থা আরও শোচনীয় ছিল। এখানকার কিছু অধিবাসীদের বিশ্বাস ছিল, কালো বিড়াল মানেই দুষ্ট প্রেতাত্মার সঙ্গে সেটি হরিহর আত্মা। তাই এলাকাবাসীর কল্যাণে কালো বিড়াল দেখলেই খতম করো, এমনই ছিল সেখানকার অন্ধ কুসংস্কার। এই ডিজিটাল যুগেও আফ্রিকা মহাদেশের একাধিক রাষ্ট্র সহ ইজিপ্ট, চিন, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের বহু গোষ্ঠী একে অপবিত্রের ছায়া হিসেবে গণ্য করে এবং প্রয়োজনে নির্বিচারে মেরেও ফেলে প্রতিশোধের স্পৃহায়।

এবিষয়ে অবশ্যই পিছিয়ে ছিল না ভারতও। ওড়িশা, তামিলনাড়ু, রাজস্থানের বিভিন্ন প্রান্তিক গ্রামাঞ্চলে একদা কালো বিড়াল নির্বিচারে হত্যা করার নিদর্শন রয়েছে। স্থানীয় মানুষেরা প্রাচীনকালে কোনও অশনি সমস্যা নিরসনে ফকির বা ওঝার উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল ছিলেন। সেই ফকির বা ওঝাও সুযোগ বুঝে কালোজাদুর নাম করে কালো বিড়াল নৃশংসভাবে নিকেষ করতেন।

তবে কয়েক হাজার বছর আগে উল্টোপুরাণ হিসেবে মিশরে কালো বিড়াল ছিল মর্যাদার প্রতীক। তদানীন্তন সময়ে নীলনদের দেশের অধিশ্বরী ছিলেন ব্যাস্টেট। তখন কালো বিড়াল কেউ হত্যা করলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো। পূজিত হতো কালো বিড়াল। এমনকী মরে গেলে সেই প্রাণীটির মমিও তৈরি করে রাখা হতো স্মারক হিসেবে। এমনই ছিল সেখানকার সেদিনের কালো বিড়ালের কদর। কিন্তু সেই সৌভাগ্য বেশিদিন কপালে জোটেনি। পোপ গ্রেগরি (নবম) ১২৩৩ সালে আকস্মাৎ ঘোষণা করেন, কালো বিড়ালের মধ্যে শয়তানের আত্মা আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। আর সেইসময় থেকেই ক্রমান্বয়ে সারা বিশ্বে কালো বিড়াল সম্পর্কে নানা কুসংস্কার বাসা বাঁধতে থাকে।

আমাদের দেশের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে কালো বিড়ালকে আজও অমঙ্গলের সংকেত হিসেবে মানা হয়। একইসঙ্গে মণিপুর, মিজোরাম, গোয়া, রাজস্থান, তামিলনাড়ু সহ অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একে আবার শ্রীবৃদ্ধির ও শুভর প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাহ্য করা হয়। এমনকী কেরলের একাংশ উপজাতি কালো বিড়ালকে দেবতার প্রতিভূ হিসেবে পুজোও করে থাকে বংশানুক্রমে। অন্যদিকে বৈশ্বিক নিরিখে জাপান, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্সের একাংশ নাগরিকদের মনে এতটাই সুখের ইঙ্গিত বহন করে যে তাঁরা একে অপরকে কালো বিড়াল উপহারও দেন।

প্রাচীন ভারতের বহুচর্চিত শকুন শাস্ত্রে এই কালো বিড়াল সম্পর্কে শুভ ও অশুভের নানা প্রবচন উল্লিখিত থাকলেও জাপানের হিমেজি শহরে এটি কিন্তু নির্দ্বিধায় এক অবাক করা বিনোদনের উপাদান। এখানে বিশ্বে প্রথম ও একমাত্র কালো বিড়ালের ক্যাফে রয়েছে। যেখানে উপভোক্তারা নামমাত্র মূল্যে অদ্ভুত পরিষেবা পেতে পারেন। কালো বিড়ালের সঙ্গে খেলা করা ও সময় কাটানোর পাশাপাশি এদের সাময়িক পোষ্য হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব। সেখানে খদ্দের হিসেবে ঢুকে ওদের খাওয়ানোও যায় পরিমিত পর্যায়ে। এই ক্যাফের অন্দর দুনিয়ায় কালো বিড়াল তাই ভালো মন্দের বেড়াজাল ছিন্ন করে কেবলমাত্র মানুষকে প্রমোদ দেয় ও আমোদ নেয়।

লিখেছেন
Subir Paul
Subir Paul
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?

Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?

দেশভাগের ইতিহাসকে নারীর চোখে দেখা: অংশুমান করের ‘হিরণবালা’

Hiranbala Novel Review: বাংলা উদ্বাস্তু-আখ্যানের বড় অংশে দেশভাগের অভিজ্ঞতা এসেছে পুরুষের জীবন, তার মনস্তত্ত্ব ও তার গতিবিধির ভিতর দিয়ে। ‘হিরণবালা’ প্রথমেই এই কাঠামো ভেঙে দেয়। উদ্বাস্তু পরিবারের গল্পে একজন নারীকে নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ ভূমিকায় না দেখিয়ে, উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতাটিকে প্রত্যক্ষভাবে বুনে দেয় নারীটির জীবন। দেশভাগকে প্রায় অদৃশ্য করে হিরণকে উদ্বাস্তু করা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, বিয়ের মধ্য দিয়ে।

সুকুমার রায়ের সঙ্গে চার্লি চ্যাপলিনের ভীষণ মিল পাই: স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Sukumar Ray Literature: কেউ যদি অনেক বড় বয়সেও ছোট থাকতে চায়— যেমন আমি বলি যে আমার বয়স বাড়েনি— আর যদি নিজের বয়সটাকে একই জায়গায় ধরে রাখতে ইচ্ছে করে, তবে মনে হয় সুকুমার রায়ের সমগ্র তাঁর সারাজীবন বিছানার পাশে গীতবিতানের মতোই চিরসঙ্গী হয়ে থাকতে পারে।

বাংলার দেশি খাসির মাংস থেকে চিংড়ি শুঁটকি, জিআই তকমার অপেক্ষায় কোন কোন খাবার?

GI Tag Registration: বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশের বিভিন্ন পণ্য ও চিংড়ি শুঁটকি জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা। কিন্তু জিআই তকমা কী এবং এই স্বীকৃতি পেলে বাংলার উৎপাদকদের কী লাভ হবে?