রিল তৈরিতেই ব্যস্ত! রেলের কবচের ব্যবস্থা কেন করতে পারলেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী?

Kanchanjunga Express Accident Kavach: মানুষের প্রাণের মূল্য নেই অথচ স্টেশনগুলিকে প্রায় শপিংমল করে তোলার যুক্তি কোথায়?

inscript
৩ মিনিট
রিল তৈরিতেই ব্যস্ত! রেলের কবচের ব্যবস্থা কেন করতে পারলেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী?

যে মৃত, তাঁর উপর দোষ চাপানো সহজ। কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য, আসল ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য সশরীরে যাকে পাওয়া যায় না তাঁর উপর দায় চাপানোর কাজটিই করেছিল ভারতীয় রেল। উত্তরবঙ্গে মালগাড়ি আর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মালগাড়ির মৃত চালককে দোষী প্রমাণ করে আসলে কোন গাফিলতি ঢাকতে চাইছিল রেল? রেল প্রথমে জানায়নি যে রানিপত্র থেকে ছাতারহাট জংশন পর্যন্ত খারাপ ছিল সিগনাল। TA 912 নামে একটি ম্যানুয়াল মেমো নিয়েই এগোচ্ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সকাল ৮ টা ২৭ মিনিটে রাঙাপানি স্টেশন পার করে কাঞ্চজনঙ্ঘা এক্সপ্রেস আর ৮ টা ৪২ মিনিটে পেরোয় ওই মালগাড়ি। একই লাইনে ঢোকার ছাড়পত্র মালগাড়িটি পেল কীভাবে?

সিগনাল খারাপ হলে এই ম্যানুয়াল মেমো অনুযায়ী, গাড়ির গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার থাকার কথা। একই ম্যানুয়াল মেমোতে দু'টি গাড়ি একই লাইনে আসতে পারে না। রেল প্রথমেই দায় চাপিয়ে দিয়েছিল মালগাড়ির চালকের উপর। তিনি সিগনাল দেখেননি। নিয়ম না মেনে এক লাইনে ঢুকে গেছেন। সিগনাল তিনি মানবেন কীভাবে? ভোর ৫ টা ৫০ থেকে সিগনাল খারাপ ছিল ওই লাইনে। ফলে পেপার সিগনালিং শুরু হয়। TA 912 নামের ম্যানুয়াল মেমো বা পেপার সিগনাল মোটরম্যানকে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট স্টেশনমাস্টারই এই কাগজ দেন। কী এই TA 912? এই ম্যানুয়াল মেমো দেওয়ার অর্থ, লাল সিগনাল থাকলেও ট্রেন এগোতে পারবে। তবে কিছু নিয়ম আছে তাতে। প্রতি রেড সিগনালে ১ মিনিট দাঁড়াবে ট্রেন, তারপর সিগনাল গ্রিন না হলেও পেরোতে পারবে। তাও গতি থাকতে হবে ১ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এদিন খারাপ আবহাওয়ার জন্য ট্রেনের গতিবেগ ১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় চলার নির্দেশ নেওয়া হয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস এই নিয়ম মেনে ঠিকই এগোচ্ছিল। তাহলে মালগাড়ি কীভাবে এল পিছনে? মালগাড়ির কাছেও কি TA 912 ছিল?

রেলমন্ত্রক ঘটা করে 'কবচ' ব্যবস্থার কথা বলেছে। রেল দাবি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তিতে দুর্ঘটনা কমবে। ২০২৩ সালে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাতেও এই প্রশ্নই উঠেছিল। কোথায় গেল কবচ? কবচ প্রযুক্তি এই অংশে রেলপথে নেই। তাহলে আপনা থেকেই বাধা পেত মালগাড়ি। প্রাথমিকভাবে রেলবোর্ডের চেয়ারম্যান বলছিলেন, সিগনালিং ওভারশ্যুট করছেন মালগাড়ির চালক। সিগনাল না দেখা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, চাকরি চলে যায়। রেলের সমস্ত চালকরা তা জানেন। জেনেবুঝেও সিগনাল ওভারশ্যুট করলেন মালগাড়ির চালক? তাহলে কি অন্যমনস্ক ছিলেন? কেবিনে লোকো পাইলট অর্থাৎ চালক ছাড়াও অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলটও থাকেন। তাহলে দু'জনেই ক্লান্ত? কেউই খেয়াল করলেন না সিগনাল? সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও, সেই সময় খুব খারাপ দৃশ্যমানতাও ছিল না যে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অঘটনের শুরুয়াত, দেশ বিদেশের প্রথম রেল দুর্ঘটনার ইতিবৃত্ত

First Train Accident of India: ১৮১৪ সালে প্রথম বার একটি লোকোমেটিভ তৈরি করলেন স্টিফেনসন। তবে সেটিও ছিল কয়লা নিয়ে যাওয়ার জন্যই।

Enhanced ex-gratia compensation will be provided to the victims;

₹10 Lakh in case of death,

₹2.5 Lakh towards grievous and ₹50,000 for minor injuries.

— Ashwini Vaishnaw (@AshwiniVaishnaw)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের 'সুরক্ষা কবচ' কোথায়? এত বড় দুর্ঘটনার দায় কার?

Kanchanjunga Express Accident: কবচ কাজ করলে তা দুই চালককেই সতর্ক করে দিতে পারত এবং ট্রেন থামিয়ে দিতে পারত।

রেলের আরেকটি গাফিলতির দিকেও প্রশ্ন উঠছে, কামরার ব্যবহার। এখন রেলে মূলত দুই ধরনের কোচ থাকে এলএইচবি আর আইসিএফ। এলএইচবি অত্যাধুনিক কোচ। ধাক্কা মারলেও কামরার ছিটকে যাওয়া বা উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা এখানে কম। এই কামরার ভারসাম্য ভালো। আইসিএফ কামরাতে লাইনচ্যুত হওয়ার ভয় থাকে। এখনও সব ট্রেনে এলএইচবি কোচ নেই। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, যে যে কামরা উল্টে গেছে সবই আইসিএফ কোচ। এলএইচবির খরচ বেশি, সব রাতারাতি পালটানো সম্ভবও না। তাহলে রেলের ব্যয় কোথায় হচ্ছে? ঝাঁ চকচকে হচ্ছে স্টেশন। বন্দে ভারতের মতো বিলাসবহুল ট্রেন হচ্ছে, তীর্থযাত্রা করানোর বন্দোবস্ত হচ্ছে। আর যাত্রী সুরক্ষা?

রেলের খরচ সঠিক খাতে হচ্ছে তো? সাধারণ মানুষের প্রাণের মূল্য নেই অথচ স্টেশনগুলিকে প্রায় শপিংমল করে তোলার যুক্তি কোথায়? মোদি ৩.০ সরকার ক্ষমতায় আসার দিন কয়েকের মধ্যে ঘটা এই দুর্ঘটনা ফের কেন্দ্র সরকারকে কাঠগড়াতেই দাঁড় করাল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার পরিকল্পিতভাবেই রেল মন্ত্রককে ‘ক্যামেরা চালিত’ আত্মপ্রচারের মঞ্চে পরিণত করেছে। গত ১০ বছরে মোদি সরকার রেল মন্ত্রকের চরম অব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দিয়েছে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। গতবছর করমণ্ডলের পর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা। তিনি একটি ভিডিওতে দু'টি খেলনা গাড়ি নিয়ে বুঝিয়েওছিলেন কীভাবে কবচ কাজ করলে দুর্ঘটনা কমবে। বাস্তবে, কবচের কথা বলা হলেও সব কবচের টেন্ডারই ডাকা হয়নি। ভারতীয় রেল ১০ হাজার কিমি রেললাইনের জন্য টেন্ডার ডেকেছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার কিমি পথের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-মধ্য রেলের ১৪৬৫ কিমি পথের ১৩৯টি ইঞ্জিনে কবচ লাগানো হয়েছে। কবচের বরাত পেয়েছে দিল্লি-মুম্বই (আমেদাবাদ-বদোদরা সেকশন) এবং দিল্লি-হাওড়া (লখনউ-কানপুর সেকশন) করিডর। পূর্ব রেল, পূর্ব-মধ্য রেল, উত্তর-মধ্য, উত্তর রেল, পশ্চিম-মধ্য রেল এবং পশ্চিম রেলের প্রায় ৩ হাজার রুটে কবচ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেল পথে যে কবচ ব্যবস্থা দেওয়া হলো না কেন? আদৌ টেন্ডার ডাকা হয়েছে তো?

ভুল ব্যবস্থাপনা, ভুল নীতি, ভুল পদক্ষেপের কারণেই রেলের নিরাপত্তা দিন দিন ক্ষীণ হচ্ছে বলে মত বিরোধীদের। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও বলছেন, রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুধু প্রচার আর সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে মেতে ছিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রী রিল বানান ঠিকই কিন্তু আমজনতার জীবন নিয়ে ভাবেন না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?