দেশের নিরাপদতম শহর কলকাতা, অপরাধ-সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এল এনসিআরবি-র হাতে

NCRB Report, Kolkata: বিরোধীরা যতই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলুক, কলকাতা যে নিরাপদতম শহর এখনও, তা প্রমাণ করে দিয়েছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০২২ সালের রেকর্ড।

Sohini Das
৩ মিনিট
দেশের নিরাপদতম শহর কলকাতা, অপরাধ-সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এল এনসিআরবি-র হাতে

গোটা দেশ জুড়ে যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা, নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধে রেকর্ড গড়ছে দেশ! সেখানে কলকাতা কিন্তু আছে কলকাতাতেই। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র ২০২২ সালের রেকর্ড অন্তত তাই বলছে। দেখা গিয়েছে অপরাধপ্রবণতার দিক থেকে কলকাতা এখনও নিরাপদতম শহর। সব ধরনের অপরাধের সংখ্যাই সেখানে এখনও পর্যন্ত অনেকটাই কম। অপরাধের বিচারে কলকাতা রয়েছে তালিকার সবচেয়ে নীচে। আর তাই তার মাথায় তুলে দিয়েছে এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী সেরা শহরের খেতাব।

গোটা দেশ জুড়েই বেড়েছে অপরাধের পরিমাণ। প্রায় সমস্ত ক'টা মেট্রোপলিটন শহরই রয়েছে সেই তালিকায়। বেড়েছে মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচার থেকে শুরু করে আরও হাজার রকম অপরাধ। দেশের অধিকাংশ শহরগুলিতেই যখন অপরাধের হার বেড়েছে, তখন কলকাতা ব্যতিক্রম। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য় বলছে, কলকাতায় প্রতি ১ লক্ষ লোকে বিচারযোগ্য অপরাধের ঘটনা রয়েছে ৮৬.৫টি। তার পরেই ২৮০.৭ এবং ২৯৯.২ সংখ্যক অপরাধের ঘটনা নিয়ে তালিকায় রয়েছে মহারাষ্ট্রের পুনে ও তেলঙ্গানার হায়দরাবাদ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নয়া ভারতে বেড়েছে নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধ, এই কি তবে মোদিজির 'অচ্ছে দিন'?

NCRB report: শিশুদের প্রতি ঘটে চলা অপরাধের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিবছর। ০২১ সালে শিশুদের প্রতি অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২২ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬.৬ শতাংশ।

হ্যাঁ, আশ্চর্যের হলেও কলকাতা কিন্তু তার জায়গা ধরে রেখেছে। বিরোধীরা যতই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলুক, কলকাতা যে নিরাপদতম শহর এখনও, তা প্রমাণ করে দিয়েছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০২২ সালের রেকর্ড। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের মতো শহরগুলোয় যেখানে মেয়েরা দিনের আলোতেও সুরক্ষিত বোধ করে না, সেখানে কলকাতা যেন একেবারে ব্যতিক্রম। এ শহরে এখনও রাতের অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরেন অজস্র অফিস ফিরতি মহিলা। এখানে রাতের অন্ধকারে বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁ থেকে বুক কাঁপে না কোনও অষ্টাদশীর। আর এ কথা একশো শতাংশ সত্যি। কলকাতা শহরের বুকে মেয়েরা যতটা স্বাধীন ভাবে চলাফেরার সুযোগ পায়, তা সত্যিই অন্য কোনও শহরে বিরল। এনসিআরবি-র তথ্য বলছে, ২০২১ সালে কলকাতার প্রতি ১ লক্ষ লোকে ১০৩.৪টি কগনিজেবল অপরাধের ঘটনা ঘটত। এই বছর সেই সংখ্যাটা কমেছে অনেকটাই। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কমে তা দাঁড়িয়েছে ৮৬.৫।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপরাধ কমাতে নতুন প্রজন্মের হাতে বই তুলে দিচ্ছে পুলিশ, যেভাবে পথ দেখাচ্ছে অসম

Street Library, Assam: শিক্ষাই তো একমাত্র পারে, মানুষকে সঠিক পথে চালনা করতে। আর তেমন চেষ্টাই করছেন অসমের জেলা পুলিশ।

অপরাধের তালিকায় নিচের দিকে রয়েছে পুণে ও হায়দরাবাদের নামও। প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় সেখানে অপরাধের সংখ্যা যথাক্রমে ২৫৬.৮ এবং ২৫৯.৯টি। দেশের আরও আঠেরোটি দেশের নিরিখে তালিকায় এক্কেবারে নীচে রয়েছে কলকাতা। কলকাতা পুলিশের আওতায় রয়েছে মোট ৮৩টি থানা। তার মধ্যে ৯টি থানা মহিলা দ্বারা পরিচালিত। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সাইবার ক্রাইম থানা ও এসটিএফ। এরই মধ্যে ভাঙড়ে আরও অন্তত ৯টি থানা তৈরির পরিকল্পনায় রয়েছে কলকাতা পুলিশের। কলকাতাকে সুরক্ষিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার পিছনে পুলিশের অবদানের কথা তো মানতেই হবে। কলকাতা পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক জানান, এনসিআরবি-র এই রিপোর্ট আদতে পুলিশের কঠোর পরিশ্রমের ফল। একই সঙ্গে এই রিপোর্ট কলকাতা পুলিশের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়াবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবছর জুন-জুলাই মাস নাগাদ হাতে এসে যায়, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর এই রিপোর্ট। তবে এবার ২০২২ সালের রিপোর্ট আসতে বেশ খানিকটা দেরি হয়েছে। বছরের শেষে প্রকাশিত হয়েছে এনসিআরবি-র রিপোর্ট 'ক্রাইম ইন ইন্ডিয়া ২০২২'। দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি থেকে ডেটা সংগ্রহের পরেই ওই রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে এনসিআরবি। আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কোয়েম্বত্তূর, দিল্লি, গাজিয়াবাদ, হায়দরাবাদ, ইনদওর, জয়পুর, কানপুর, কোচি, কোঝিকোড়, লখনউ, মুম্বাই, নাগপুর, পাটনা, পুণে, সুরাত ও কলকাতা মিলিয়ে প্রায় ১৯টি মেট্রোপলিটন শহরের ক্রাইম রেকর্ড ঘেঁটে এই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো। আর সেই তালিকা অনুযায়ী, কলকাতা সবচেয়ে নিরাপদ শহর। সবচেয়ে বেশি অপরাধের হার নিয়ে এ বছর শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। তার পর রয়েছে মহারাষ্ট্র ও বেঙ্গালুরু। এই সব রাজ্যগুলিতে মারাত্মক আকার নিয়েছে মেয়েদের প্রতি অপরাধ। বাদ নেই শিশু ও প্রবীণরাও। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তফসিলি জাতি-উপজাতি ও দলিতদের প্রতি অপরাধের সংখ্যাও। আর এই অপরাধময় দেশে দিশা দেখাচ্ছে যেন শহর কলকাতা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।