'ঘুষ' দিতে চেয়ে বিজেপি প্রার্থীর ফোন কুণাল ঘোষকে? কতটা সত্য লুকিয়ে ফোন রেকর্ডে?

Kunal Ghosh vs Kalyan Chaubey: কল্যাণ চৌবে স্বীকার করেছেন, কুণাল ঘোষ যে ফোন রেকর্ড প্রকাশ করেছেন তাতে তাঁর গলাই রয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
'ঘুষ' দিতে চেয়ে বিজেপি প্রার্থীর ফোন কুণাল ঘোষকে? কতটা সত্য লুকিয়ে ফোন রেকর্ডে?

লোকসভা নির্বাচন মিটতেই উপনির্বাচন। রাজ্যের একাধিক বিধানসভা আসনই বিভিন্ন কারণে বিধায়কহীন। রাজ্যের ১০ টি এমন আসনের মধ্যে ৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন বুধবার, ১০ জুলাই। উপনির্বাচনে রাজ্যে শাসক তৃণমূল বনাম বিরোধী বিজেপির মধ্যেকার লড়াই গুরুত্বপূর্ণ কারণ সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অত্যন্ত খারাপ পারফরম্যান্স। নির্বাচন শুরুর ঠিক আগের দিন এই লড়াইকে আরও পোক্ত করে দিলেন তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ। কুণালের দাবি, উপনির্বাচনে সাহায্য চেয়ে স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী ‘ঘুষের বিনিময়ে অন্তর্ঘাতের প্রস্তাব’ দিয়েছেন তাঁকে।

বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে নাকি কুণাল ঘোষকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী। কুণালের দাবি, ‘‘গত ৭ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার সময় আমাকে ফোন করেছিলেন মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী কল্যাণ চৌবে। তিনি আমাকে প্রস্তাব দেন, তাঁর হয়ে কাজ করলে রাজ্য বা জাতীয় স্তরে খেলার জগতে বড় পদ দেবেন।’’ এই দাবির সপক্ষে তিনি ফোন রেকর্ডও প্রকাশ করেছেন (এই রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করেনি ইনস্ক্রিপ্ট)। কুণাল আরও বলেন, ‘‘ভোটের প্রচারে পিছিয়ে রয়েছেন বুঝে বিজেপির প্রার্থী প্রলোভন দেখাচ্ছেন জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূলকে। প্রস্তাব দিচ্ছেন দলের সঙ্গে বেইমানি করার। এটাই বিজেপি। এমনই ওদের নোংরা মানসিকতা।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নক্ষত্রের দোষ নাকি শত্রুর বাড়বাড়ন্ত, কেন বারবার খাদের অতলে তলিয়ে যান কুণাল ঘোষ?

Kunal Ghosh: সম্প্রতি তৃণমূলত্যাগী নেতা তাপস রায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। সেই নিয়ে বিতর্ক উস্কে ওঠে। সেই মঞ্চেই কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় কুণালকে।

সত্যিই কি কল্যাণ চৌবে ফোন করেছিলেন কুণাল ঘোষকে? কল্যাণ চৌবে স্বীকার করেছেন, কুণাল ঘোষ যে ফোন রেকর্ড প্রকাশ করেছেন তাতে তাঁর গলাই রয়েছে। কিন্তু বাকি অভিযোগ তিনি একেবারেই অস্বীকার করেছেন। মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবের দাবি, কুণালকে তিনি ফোন করেছিলেন ঠিকই কিন্তু যে রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়েছে তা গোটাটা নয়। খণ্ডসত্য তুলে ধরা হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, কুণালও বলছেন, হ্যাঁ, তিনি আংশিক কথোপকথনের রেকর্ডিংই প্রকাশ করেছেন। কুণাল ঘোষ বলছেন, "কল্যাণ যদি চান, তবে ফোনের রিং বাজা থেকে ফোন রাখা পর্যন্ত রেকর্ডিং প্রকাশ করে দেব। যে রেকর্ডিংয়ের শেষে ক্ষমা চাইতেও শোনা গিয়েছে ওঁকে।’’

মঙ্গলবার কুণাল নিজের এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘কল্যাণ চৌবের পুরো অডিও এক ঘণ্টা পর। দেখবেন— ১। ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্যুতে ক্ষমা চেয়েছে। ২। আমার বিজেপি যোগের গল্প নিয়ে একটি শব্দ নেই। ৩। ভোটে সাহায্য চেয়ে বিনিময়ে পদ দেওয়ার কথা বলেছে। রাত আটটায় মিলিয়ে নেবেন।’’ রাত ঠিক ৮টায় ফোন রেকর্ডটি পোস্ট করে দেন কুণাল। কল্যাণকে সেখানে কুণালের 'বৃহৎ ভূমিকা'-র 'টোপ দিতে শোনা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪ কেন্দ্রে উপনির্বাচন! দেশের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হতে পারবেন মতুয়া কন্যা মধুপর্ণা?

West Bengal By Elections 2024: মধুপর্ণাকেই 'মতুয়াগড়' বাগদায় প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিচাঁদ ঠাকুর-গুরুচাঁদ ঠাকুরের সরাসরি বংশধর মধুপর্ণাও।

মানিকতলা, বাগদা, রানাঘাট দক্ষিণ এবং রায়গঞ্জের উপনির্বাচনে বিজেপি জিততে মরিয়া কারণ তাতে লোকসভা নির্বাচনে হারানো ভোটগুলি কিছুটা হলেও ফিরে পেয়ে জমি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর তৃণমূল তথা রাজ্যের শাসকদল স্বাভাবিকভাবেই এই আসন দখলে রাখতে চাইবে যাতে বিজেপির উপর চাপ আরও বাড়ে। তৃণমূলই মানিকতলায় ভোট সামলানোর দায়িত্ব দেয় কুণাল ঘোষকে। কুণাল বলছেন, তিনি মানিকতলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনেই মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে তাঁকে ফোন করেন ও সাহায্য চান।

কুণাল বলছেন, ‘‘যদি ধরে নিই গণতান্ত্রিক পরিবারের সৌজন্যের খাতিরে তিনি প্রতিপক্ষের কাছে সাহায্য চাইছেন, তবে আমার কিছু বলার ছিল না। তিনি সেটাই করতে পারতেন। কিন্তু এর পরে তিনি বললেন, ওঁর হয়ে কাজ করলে ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজ্য বা কেন্দ্রে বড় পদে নিয়ে যাবেন। এ তো ঘুষ! ‘মোহনবাগান সহ-সভাপতিকে ঘুষের কথা বলবেন, আর আমি নাচতে নাচতে যাব? অফার বাতিল করে দিয়েছি।’’ বিজেপির মানিকতলা প্রার্থী তথা অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে অবশ্য বলছেন, অফার বাতিলের জায়গাই নেই কারণ এমন 'অফার' তিনি দেননি। রেকর্ডিংয়ে এডিট করে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে।

কল্যাণ বলছেন, ‘‘আমি একজন প্রার্থী হিসাবে সবার কাছেই গিয়েছি। তাঁদের কাছে সাহায্য চেয়েছি। ওঁকেও সে ভাবেই ফোন করেছিলাম কিন্তু কোনও ঘুষের প্রস্তাব দিইনি। বরং তিনিই এক সপ্তাহ আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জানিয়েছিলেন তিনি বিজেপির নেতৃত্বের সঙ্গে বসতে চান। এর আগে তিনি বহুবার আমার বাড়িতে এসেছেন। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দিতেও চেয়েছিলেন। সেই সূত্রেই আমি ওঁর সঙ্গে কথা বলি। কারণ যিনি আমার দলেই আসার কথা ভাবছেন, তাঁর কাছে আমি সাহায্য চাইতে পারি বলে মনে হয়েছিল।’’

কল্যাণ চৌবে যেই কুণালের বিজেপি যোগ নিয়ে সওয়াল তোলেন, পাল্টা কুণালও নেমে পড়েন ইমেজ বাঁচাতে। কুণাল ঘোষ বলছেন, ‘‘তিনি বলেছেন, প্রার্থী হিসাবে আমাকে ফোন করেছেন কিন্তু আমি তো মানিকতলার ভোটারই নই। ফলে ভোট চেয়ে আমাকে ফোন করার প্রশ্ন নেই। আসলে আমি তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার বলেই আমাকে ফোন করেছিলেন।’’ তবে বিজেপি যোগ নিয়ে সাফাই দিতে গিয়ে উপনির্বাচনে খোদ মোদিকে টেনে এনেছেন কুণাল। বলছেন, "আমার যদি বিজেপিতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তা হলে মনে রাখবেন নরেন্দ্র মোদি আমাকে চেনেন। আমার কাকা মোদি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে ওই পচা কল্যাণকে আমার দরকার হবে না।’’

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?