মোদি পৌঁছনোর আগেই ইতালিতে ভাঙচুর গান্ধিমূর্তি! নেপথ্যে সেই খলিস্তানি যোগ?
G7 Summit: জি-৭ বৈঠকের উপলক্ষে গত মঙ্গলবারই উদ্বোধন হয়েছিল মূর্তিটি। অভিযোগ, মূর্তি ভাঙার সময় খলিস্তানি দুষ্কৃতীরা খলিস্তানি জঙ্গিনেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের সমর্থনে স্লোগান দেয় বলেও অভিযোগ।

দেশের ১৮তম লোকসভা ভোটে তৃতীয় বার দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন গত রবিবার। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে তাঁর গোটা মন্ত্রিসভাই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজকর্মও শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। এরই মধ্যে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইতালিতে গেলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর মোদির। তবে তার আগেই ইতালিতে ভাঙা হল গান্ধিমূর্তি। অভিযোগের তির খলিস্তানপন্থীদের দিকেই।
জি-৭ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবারই ইতালি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে বুধবারই ইতালিতে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধির মূর্তিতে পড়ল হাত। জি-৭ বৈঠকের উপলক্ষে গত মঙ্গলবারই উদ্বোধন হয়েছিল মূর্তিটি। অভিযোগ, মূর্তি ভাঙার সময় খলিস্তানি দুষ্কৃতীরা খলিস্তানি জঙ্গিনেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের সমর্থনে স্লোগান দেয় বলেও অভিযোগ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Hardeep Singh Nijjar: কানাডা যে দিনে দিনে খলিস্তানিদের পীঠস্থান হয়ে উঠছে, এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে এসেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।
১৩ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। যেখানে যোগ দিতে চলেছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। তার আগেই গান্ধিমূর্তি ভাঙার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ সচিব জানান, ইতালিতে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির ক্ষতির বিষয়টি ইতিমধ্যেই উত্থাপন করেছে ভারততিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির ক্ষতির বিষয়ে তিনি ইতালি সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মূর্তিটি মেরামত করা হয়েছে। অবশ্য এই প্রথম নয়। গত বছরের শুরুতে কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর করা হয়েছিল গান্ধিমূর্তি। সেই ঘটনাতেও অভিযোগের তির ওঠে খলিস্তানি জঙ্গিদের উপরেই।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Vivekananda Vs Modi: জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৯ বার দেশের দক্ষিণের রাজ্যে গিয়েছিলেন মোদি। এত কিছুর পরও তামিলনাড়ু থেকে একজনও সাংসদ নেই বিজেপির।
এ বছর ইতালির আপুলিয়া এলাকার বোরগো এগনাজিয়ার বিলাসবহুল রিসর্টে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে। যেখানে হাজির থাকতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বৃহস্পতিবারই ইতালির জন্য রওনা হয়েছেন মোদি। ১৪ জুন সন্ধ্যার মধ্যে ফিরেও আসার কথা তাঁর। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও যোগ দিচ্ছে সম্মেলনে। থাকছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশ সচিব বিনয় কোয়াত্রে ও মুখ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও।
গত বছর কানাডাতে খুন হন খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর। সেই হত্যার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে কানাডা সরকার। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জল গড়ায় অনেক দূর। এমনকী দু'দেশের পারষ্পরিক সম্পর্কও পৌঁছেছিল তলানিতে। সেই হরদীপের নাম নিয়েই জি-৭ বৈঠকের আগে গান্ধিমূর্তিতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল খলিস্তানি দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। জি-৭ বৈঠকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় গুরুত্ব পেতে চলেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়েও অন্য দেশের রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে কথাবার্তা হওয়াার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা— এই দু'টি বিষয় এবার জি-৭ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে বলে খবর। ইউক্রেনের জন্য জি-৭ দেশগুলির সমর্থন জোগার করাও জি-৭ বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাজা-ইজরায়েল যুদ্ধ নিয়েও কথাবার্তা হতে চলেছে আমেরিকার সঙ্গে বাকি শক্তিধর দেশগুলির। এই বৈঠকে জি-৭ দেশগুলির সঙ্গে যোগ দিতে চলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তাঁরা জি-৭-এর অংশ না হলেও প্রতি বছর জি-৭-এর বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেয় ইইউ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দু'দেশে শান্তি ফেরানো নিয়ে কথাবার্তায় বিশেষ ভূমিকা থাকতে চলেছে তাদেরও, তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






