দেশে নিরাপদ নন সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা, উগরে দিলেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি

Minority Students of India: দেশে নিরাপদ নন সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা। উগরে দিলেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি

Manjima Dasgupta
২ মিনিট
দেশে নিরাপদ নন সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা, উগরে দিলেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি

চলতি বছরের অগাস্ট মাসেই ঘটেছিল সেই ঘটনা। শিক্ষাজগতের পক্ষে লজ্জাজনক এক ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছিলেন দেশবাসী। উত্তরপ্রদেশের 'নেহা পাবলিক স্কুল'-এর এক শিক্ষিকাকে দেখা গেছিল প্রকাশ্যে 'মুসলিম' ছাত্রকে চড় মারার নির্দেশ দিতে। পরে দেখা গেছিল, সেই শিক্ষিকা, তৃপ্তা ত্যাগী, তাঁর কৃতকর্মের জন্য লজ্জিতও নন। সগর্বে বলেছিলেন, গোটা গ্রামবাসী তাঁর পাশে আছেন। আদতে কেমন আছেন দেশের 'সংখ্যালঘু' পড়ুয়ারা? কীভাবে কাটছে তাঁদের দিন?

ঘটনা ১:

চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ছাত্রী সফিয়া। মনে করলেন, তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের অঙ্গব্যবচ্ছেদবিদ্যার দুর্বিসহ ক্লাসঘরটিকে। জন্মনিয়ন্ত্রণের পাঠ দিতে গিয়ে অধ্যাপক ভরা ক্লাসে যেখানে উল্লেখ করেন, 'IUD' যা একটি গর্ভনিরোধক ডিভাইস, ব্যবহার করা হয় মূলত মুসলিম বিবাহিতাদের সন্তান উৎপাদনের সংখ্যা বেঁধে দিতে। এখানেই ক্ষান্ত হননি ঐ অধ্যাপক।পরমুহূর্তেই একজন মুসলিম ছাত্রকে ইঙ্গিত করে উল্লেখ করেছেন, বিয়ের পর তিনি যেন তাঁর স্ত্রীর গর্ভনিয়ন্ত্রণে IUD এর ব্যবহার করতে ভুলে না যান। প্রশ্ন জাগে, একটি জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যায় এতটা সরলীকরণ কোন স্বার্থে? সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত অংশের মানুষরাই যদি এই মনোভাব পোষণ করেন, তাহলে না জানি কতটা বিদ্বেষমূলক মনোভাব প্রোথিত হয়ে আছে সমাজের গভীরে?

ঘটনা ২:

দেশের রাজধানী দিল্লির বুকে প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুলের ঘটনা। সেখানে নবম শ্রেণির এক শিক্ষিকা একটি ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়েছেন ছাত্রদের মধ্যে। সেই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, একজন মুসলিম পুরুষ, একজন অ-মুসলিম মহিলাকে খুন করছেন। ছাত্রদের উদ্দেশ্যে সেই শিক্ষিকা বার্তা দিয়েছেন, অবিলম্বে 'হিন্দু সন্তানদের রক্ষার স্বার্থে হিন্দু জাগরণ প্রয়োজন'। সদ্য শিক্ষকদিবসের উদযাপন সেরে উঠল ভারত। কেমন শিক্ষার বাতাবরণ ঘিরে রাখছে এই দেশকে? সংবিধান রচনার ৭০ বছরেরও বেশি দিন পর এসে, ভ্রাতৃত্ববোধের কোন পাঠ দিচ্ছে শিক্ষাজগৎ?

ঘটনা ৩:

মহারাষ্ট্রের একটি বয়েজ স্কুলের ছাত্র উমর। উগরে দিলেন ক্ষোভ। জানালেন, সকালের প্রার্থনাসভার পর, ছুটির ঘন্টা বাজলে, অথবা বিশেষ কোনও অতিথির ক্লাসের শেষে হিন্দু ছাত্রদের সমবেত 'জয় শ্রী রাম'- উন্মাদনার কথা। তাঁর কথায় মলিন বিষণ্ণতা। মুসলিম ছাত্ররা সেখানে সংখ্যালঘু। তাঁরা যে চাইলে 'আল্লাহু-আকবর' বলতে পারেন, এমন সুযোগ নেই ক্লাসঘরে।শিক্ষকরা সব দেখেও নীরব দর্শক। মুচকি হেসে এড়িয়ে যাচ্ছেন, সন্তানসম ছাত্রদের কুকীর্তি। এভাবেই সংখ্যাগুরুর 'দাদাগিরি' থাবা বসিয়েছে আগামীর আলো শিশুদের মধ্যেও।

ঘটনা ৪:

সাল ২০১৬। পড়ুয়ার নাম সেলিনা। মুজফফরনগরের এই বিভীষিকা তাঁকেও মনে করাল স্কুলজীবনের অতীতের কথা। শীতকালে একদিন চাদর দিয়ে মাথা ঢেকে স্কুলে এসেছিলেন সেলিনা। সহপাঠীরা ভেবেছিলেন হিজাব। একজন এগিয়ে এসেছিলেন হাত চেপে ধরতে, একজন এগিয়ে এসেছিলেন মাথা থেকে টেনে ঐ চাদর খুলে দিতে। জেনে শিউরে উঠতে হয়। শুধুমাত্র মৌখিক অত্যাচার নয়। এই ঘটনা তো সরাসরি শারীরিক নিগ্রহের আওতায় পড়ে!

ঘটনা ৫:

জামশেদপুরের আরেক সংখ্যালঘু ছাত্রীর অভিজ্ঞতা। তাঁকে এক সহপাঠী জঙ্গি সংগঠন 'আল-কায়দা' নামে অভিহিত করেন। সেখানেই থামেননি তিনি, বাকি তিনবছর সেই 'আল-কায়দা' নামেই পরিচিত হয়েছেন ওই সংখ্যালঘু ছাত্রী।

মুজফফরনগরের এই ঘটনা দেশজুড়ে সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি ফের উসকে দিয়ে গেছে। ভারতের সংবিধানে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার স্পষ্ট উল্লেখ আছে। দেশের সংবিধান সকল নাগরিকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তোলার কথা বলে। কিন্তু ২০২৩ সালে দাঁড়িয়ে দেশনায়করাই হিন্দুধর্মকে তকমা দিচ্ছেন রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে। ধর্মনিরপেক্ষ একটা দেশ শিশুদের এই নিরাপত্তাহীনতার লজ্জা ঢাকবে কোথায়?

লিখেছেন
Manjima Dasgupta
Manjima Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।