আকাশের বুকে বয়ে যাচ্ছে নদী, আর তাতেই হু হু করে বাড়ছে তাপমাত্রা?

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
আকাশের বুকে বয়ে যাচ্ছে নদী, আর তাতেই হু হু করে বাড়ছে তাপমাত্রা?

সাহারা মরুভূমিতে তুষারপাতের ঘটনা কয়েকবছর আগেই শোনা গেছে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের (Atmosphere) মধ্য দিয়ে নদী বয়ে যাচ্ছে, একথা কেউ কোনওদিন শুনেছে? হ্যাঁ, বিশ্ব উষ্ণায়ণের কল্যাণে সেও সম্ভব হয়েছে বটে।

মেরু অঞ্চলে বরফ গলে, সেই বরফ থেকে তৈরি আর্দ্রতা (Moisture) আকাশের বুকে এই ধরনের 'নদী' ('River in the sky') তৈরি করে। আর সেই নদী পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গরম বাতাস আর জলীয় বাষ্প বয়ে নিয়ে যায়। আর তার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বাড়ে তাপমাত্রা। আর উষ্ণায়নের ফলে দাবানলের শিকার হয়েছে বিভিন্ন প্রান্তের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। বাদ যায়নি আমাজনের জঙ্গলও।

আকাশের বুকে নদী, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি দাবানল, কিংবা ধরুন হিমবাহের নিরন্তর গলনের ঘটনাকে নজরে রাখার জন্য নীল গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে একাধিক স্যাটেলাইট ঘুরে বেড়াচ্ছে‌।বহুদিন ধরেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস, দাবানল, হিমবাহের গলন, প্রভৃতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জার্মানিতে তৈরি সাম্প্রতিক 'নেক্সট জেনারেশন' স্যাটেলাইট- দ্য এনভায়রনমেন্ট ম্যাপিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস প্রোগ্রাম (The Environmental Mapping And Analysis Program) বা এনম্যাপ (EnMap) জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণের নজরদারির সংজ্ঞা বদলে দিতে চলেছে। কিন্তু কীভাবে? কেনই বা সে আলাদা, বাকি স্যাটেলাইটের থেকে?

এই 'নেক্সট জেনারেশন' স্যাটেলাইটের ক্ষমতা রয়েছে ২৫০টি আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বায়ু, জল ও মৃত্তিকা দূষণের পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্র তুলে ধরার। আর সেই স্যাটেলাইট চিত্রে এতগুলি রঙের ব্যবহার কেবল দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যই তুলে ধরবে না। এসবের পাশাপাশি হাই রেজোলিউশন ইমেজ তৈরির ক্ষমতাও রাখে এই স্যাটেলাইট। তাই সেই চিত্রের গুণগত মান বেশিই হবে সচরাচর ব্যবহৃত স্যাটেলাইটের থেকে। স্বাভাবিকভাবেই এই স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনেক বেশি নির্ভুল ও পুঙ্খানুপুঙ্খ হবে।

বৈজ্ঞানিকদের মতে, আমরা যত দ্রুত পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়বে বলে ভেবেছিলাম, তার থেকেও অনেক দ্রুত বাড়ছে সেই তাপমাত্রা। আমরা আবহাওয়া এবং পরিবেশ-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো টের পাচ্ছি হাড়েহাড়ে। পৃথিবীকে বাঁচাতে এখনই বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের আশু প্রয়োজন, যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। আর তার জন্য প্রয়োজন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পরিবেশের ঠিক কী কী পরিবর্তন হচ্ছে তা নজরে রাখা।

এনম্যাপের সাহায্যে পৃথিবীতে কী হারে জল, বাতাস এবং মাটি দূষণ হচ্ছে, তা মাপা যাবে, কেবল এই স্যাটেলাইটের চোখে ধরা পড়া চিত্র থেকেই। পাশাপাশি মাপা যাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে (Real-time) মানুষের কারণে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ। এই নেক্সট জেনারেশন স্যাটেলাইট নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থাৎ অরণ্য, ভূমি, জল, এবং বায়ুকে রক্ষা এবং সংরক্ষণে সাহায্য করা। এমন নয় যে, এযাবৎ ব্যবহৃত স্যাটেলাইটগুলি এই কাজ করেনি। কিন্তু এত নিঁখুতভাবে এই তথ্যগুলিকে তুলে ধরার ক্ষমতা এযাবৎ ব্যবহৃত কোনও স্যাটেলাইটের ছিল না, এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের।

এনম্যাপ সাহায্য করবে রিয়েল টাইমে, অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তে প্রকৃতির যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা নজরে রাখতে। এমনকী, এর থেকে পাওয়া খুঁটিনাটি তথ্যের মাধ্যমে বোঝা যাবে, প্রকৃতির যে পরিবর্তনগুলি হচ্ছে, সেগুলি আদৌ স্বাভাবিক, না কি তার নেপথ্যে আদতে মানুষের হাত রয়েছে।

এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের মতে, এনম্যাপের মতো নেক্সট জেনারেশন স্যাটেলাইটের সাহায্যে পরিবেশ দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ-সংক্রান্ত আরও ভরসাযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। যে তথ্যগুলির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে জলবায়ুর পূর্বাভাস-সংক্রান্ত গাণিতিক মডেল বানানো সম্ভব হবে। সম্ভব হবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু ধারণা দেওয়াও।

এরোস্পেস-এর ফেডেরাল গভর্নমেন্ট কমিশনার (Federal Government Commissioner of Aerospace) অ্যানা ক্রাইস্টম্যানের (Anna Christman) মতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তুলে ধরা পরিবেশ-সংক্রান্ত নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য না পেলে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন কী হারে হবে বা তার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, তা নির্ভুলভাবে ধারণা করা প্রায় অসম্ভব।

চলতি মাসের শুরুতেই স্পেস এক্স ফ্যালকন নাইনের (SpaceX Falcon 9) সাহায্যে এই স্যাটেলাইটির উৎক্ষেপণ (Launch) সম্ভব হয়েছে ফ্লোরিডা থেকে। এবার শুধু তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় বিজ্ঞানীরা।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।