মঙ্গলে প্রাণ ছিল! পরীক্ষা করতে গিয়েই তা নষ্ট করে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা?

Life on Mars: মঙ্গলে প্রাণ আছে কিনা সেই সন্ধান করতে গিয়ে প্রাণের চিহ্ন মুছে ফেলেছিল বিজ্ঞানীদের কৌতূহলী প্রচেষ্টাই?

inscript
২ মিনিট
মঙ্গলে প্রাণ ছিল! পরীক্ষা করতে গিয়েই তা নষ্ট করে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা?

মঙ্গল গ্রহে একাধিক অভিযান হয়েছে। মঙ্গলে প্রাণ আছে কিনা এই প্রশ্নের তবু সদুত্তর মেলেনি। মঙ্গলে প্রাণের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে প্রাণ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকার মতো উপাদান সেখানে আছে। সে যাইহোক, বেশ কয়েক দশক আগে, ১৯৭০-এর দশকে প্রথম লাল গ্রহে নেমেছিল ভাইকিং ল্যান্ডার। মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা এবং অন্বেষণ চালানোর প্রথম সফল মার্কিন মিশন ছিল সেইটিই। সম্ভবত, প্রাণ আছে কিনা সেই সন্ধান করতে গিয়ে প্রাণের চিহ্ন মুছে ফেলেছিল বিজ্ঞানীদের এই কৌতূহলী প্রচেষ্টা।

একজন গবেষক বলছেন, মঙ্গলগ্রহের মাটির নমুনায় প্রাণের প্রমাণ থেকে থাকতে পারে। এই প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে "আমাদের অনুসন্ধানকালে আমরা অসাবধানতাবশত সেই চিহ্ন মুছে ফেলেছি।" জার্মানির বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডার্ক শুলজ-মাকুচের মতে, মঙ্গলে আণুবীক্ষণিক জীবের লক্ষণ শনাক্ত করার জন্য যেসব পরীক্ষা হয়েছে, তাই মারাত্মক হতে পারে। তাঁর অনুমান, যে পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা প্রাণের সন্ধান করছেন তা ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লালগ্রহে ৩৭৮ দিন! নাসার কৃত্রিম অভিযানে মঙ্গলের মাটিতে ফলল শাকসবজিও

Mars Simulation Mission: আঙ্কা সেলারিউ, রস ব্রুকওয়েল, নাথান জোন্স ও কেলি হ্যাস্টনকে এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত করে নাসা। এই মিশনটির নেতৃত্ব দিয়েছেন হ্যাস্টন।

১৯৭৬ সালে, NASA-এর ভাইকিং ১ মিশন দু'টি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল মঙ্গল গ্রহে। লাল গ্রহে নানা পরীক্ষা চালাতে এবং জীবনের লক্ষণ অনুসন্ধানই ছিল ভাইকিং ১ মিশনের লক্ষ্য। মঙ্গলগ্রহের মাটির নমুনার সঙ্গে জল এবং পুষ্টির মিশ্রণ ঘটিয়ে দেখা হয়েছিল এই ধারণার উপর ভিত্তি করে যে পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য তরল জলের প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ফলাফলগুলিতে বোঝা গিয়েছিল, জীবনের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক দশক ধরে এই নিয়ে বিতর্ক চলে। বেশিরভাগ গবেষকরাই পরে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছন যে, সম্ভবত মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মঙ্গলগ্রহে ইন্টারনেট বসাতে উদ্যোগী এলন মাস্ক! কারা ব্যবহার করবে এই নেটওয়ার্ক?

Elon Musk Mars Internet Connection: মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স মঙ্গল গ্রহে ইন্টারনেট সংযোগ বসাতে চাইছে স্টারলিংকের মাধ্যমে।

শুলজ-মাকুচ বলছেন, প্রাণের সম্ভাবনা ছিল। ভাইকিং ল্যান্ডাররা, মঙ্গলগ্রহের জীবন অনুসন্ধান করার সময় অসাবধানতাবশত সেই সম্ভাবনার চিহ্ন ধ্বংস করে ফেলেছিল। শুলজ-মাকুচ বলছেন, মঙ্গলগ্রহে যে সম্ভাব্য জীবন ছিল তা অনেকটা চরম অবস্থার মধ্যে বেঁচে থাকা অণুজীবদের মতো। যেমন চিলির আটাকামা মরুভূমির মতো চরম পরিবেশে যে অণুজীবদের পাওয়া যায় তারা বায়ুমণ্ডল থেকে আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার জন্য লবণের উপর নির্ভর করে খুব শুষ্ক অবস্থাতেও বেঁচে থাকতে পারে। তিনি বলছেন, "নাসার ভাইকিং ল্যান্ডাররা যে পরীক্ষাগুলি করেছে তাতে হয়তো দুর্ঘটনাক্রমে খুব বেশি জল যোগ করে মঙ্গলগ্রহের জীবনকে শেষ করে ফেলেছে।"

নাসা কিন্তু পৃথিবীর বাইরে জীবন অনুসন্ধানের করতে গিয়ে বরাবরই জলকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। শুলজ-মাকুচ বলছেন, তরল জলকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিবর্তে, ভবিষ্যতের মিশনগুলির উচিত হাইড্রোস্কোপিক লবণের দিকে নজর দেওয়া। এই লবণগুলি বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতা শোষণ করে৷ সোডিয়াম ক্লোরাইড হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে পাওয়া প্রথম লবণ। সুতরাং অণুজীবের থাকার সম্ভাবনা আছেই।

শুলজ-মাকুচ মঙ্গলের অণুজীবের উপর ভাইকিং পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রভাবকে আটাকামা মরুভূমির একটি ঘটনার সাথে তুলনা করেছেন। সেই মরুভূমিতে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়াতে ৭০-৮০% স্থানীয় ব্যাকটেরিয়াকে মারা গিয়েছিল কারণ তারা জলের প্রবাহের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। ভাইকিং মিশনের প্রায় ৫০ বছর পরে, শুলজ-মাকুচ মঙ্গল গ্রহে জীবন অনুসন্ধানের জন্য নতুন, উন্নত প্রযুক্তি এবং গ্রহের চরম পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞানকে মাথায় রেখেই নতুন অভিযানের আহ্বান জানিয়েছেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?