অস্কারের দৌড়ে বাঙালির নাম, ত্রিশ বছরের পুরনো সত্যজিতের স্মৃতি কি ফিরিয়ে দেবে ২০২৩?

Oscar 2023 : ভারতের চার ছবি সহ বাংলার ঠাঁই ২০২৩- এর অস্কার নমিনেশনে

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
অস্কারের দৌড়ে বাঙালির নাম, ত্রিশ বছরের পুরনো সত্যজিতের স্মৃতি কি ফিরিয়ে দেবে ২০২৩?

চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় পুরস্কার অস্কার। শুধু পুরস্কার না বলে সম্মান বললেই যথার্থ হয়। প্রতি বছরই এই অস্কার নিয়ে চলে টানটান উত্তেজনা। সারা বছর বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার অজস্র চলচ্চিত্র এবং তাঁকে ঘিরে থাকা অজস্র কলাকুশলীরা অপেক্ষা করে তাকিয়ে থাকেন এই গগনচুম্বী সম্মানের দিকেই। অস্কার হাতে পাওয়া আকাশের চাঁদ ধরার সমান, তাই নিদেনপক্ষে নমিনেশন তালিকায় নাম থাকাকেই স্বপ্নপূরণ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকেই।

২০২৩ সালের অস্কার পুরস্কারের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে এখনও অনেক দেরি। এমনকী সম্পূর্ণ নমিনেশন তালিকা প্রকাশ হতেই বাকি রয়েছে মাসখানেক। কিন্তু এরই মাঝে সামনে এল সেই তালিকায় একটি ঝলক। আর তাতেই হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা দেশে। অসম্পূর্ণ তালিকাতেই জায়গা পেয়েছে ভারতের একাধিক ছবি। আগামী ২৪ জানুয়ারি নমিনেশনের অফিসিয়াল অ্যানাউন্সমেন্ট হওয়ার কথা রয়েছে, তবে সামনে এসেছে ১০টি বিভাগের নমিনেশন তালিকা। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ফিচার ছবি, ডকুমেন্টারি, সাউন্ড, অরিজিনাল স্কোর, অরিজিনাল সং, মেকআপ অ্যান্ড হেয়ারস্টাইলিং, ভিস্যুয়াল অফেক্টস, অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্মের মতো ক্যাটাগরি। আর এখানেই জ্বলজ্বল করতে ভারতের নাম। একটা দুটো নয়, চার চারটে জায়গায় নাম রয়েছে এ দেশের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিনেমাপাগল শৈশবের আশ্চর্য গল্প! অস্কারের দৌড়ে শামিল এই ভারতীয় ছবি কেন দেখবেন

Film Review: ভারত থেকে অস্কারে গেছে 'দ‍্য লাস্ট ফিল্ম শো', কেমন হল এই ছবি?

সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা সহ অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব চরিত্র সহ নানা বিভাগের ছড়াছড়ি এখানে। শিল্পের প্রতিটি বিভাগকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার এই রীতি সত্যিই অনবদ্য। প্রতিবারের মতো এবারও নানা বিভাগে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল ভারত থেকে তারই মধ্যে চারটি আবেদনকে নমিনেশন তালিকায় ইতিমধ্যেই জায়গা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আলিয়া ভাট এবং অজয় দেবগন অভিনীত এসএস রাজামৌলির ছবি আরআরআর এবার জায়গা পেয়েছে অস্কারের নমিনেশন তালিকায়। এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রাম চরণ এবং জুনিয়র এনটিআরকে দেখা গিয়েছিল। তবে গল্প অথবা অভিনয়ের কোনও বিভাগে নয়, ‘বেস্ট সং’ বিভাগে ‘নাটু নাটু’ গানটির জন্য নমিনেশন মিলেছে ছবিটির। অন্যদিকে, ফিচার ছবি বিভাগের জন্য ভারত থেকে মনোনীত হয়েছে পরিচালক পাল নলিনের ‘ছেল্লো শো’ ছবিটি। ২০২৩ সালের অস্কার পুরস্কারের প্রতিযোগিতায় লড়বে এই ছবিটিও। ভারতীয় সিনেমার যে যাত্রাপথ, কীভাবে সেলুলয়েড থেকে আজকের ডিজিটাল দুনিয়ার তার প্রবেশ ঘটল, এসবই এই ছবিতে দেখিয়েছেন পরিচালক। পিছিয়ে নেই দক্ষিণী ছবিও। এর আগেই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল ঋষভ শেট্টির ‘কানতারা’ ছবিটি। অস্কার পুরস্কার জয়ের দৌড়ে সামিল এটিও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত‍্যজিতের চিত্রনাট‍্য চুরি করে সোজা অস্কার মঞ্চে! স্বীকৃতিতেও ঢাকেনি যে আঁধার

Satyajit Ray: বাঙালির নিজস্ব গল্পবুড়ো, কাছের চরিত্র তারিণীখুড়ো সহজেই মন জয় করল দুনিয়ার, এখানেই লুকিয়ে সত‍্যজিতের জাদু।

এ বৈশ্বিক উৎসবে বাংলাও রয়েছে স্বমহিমায়। ওই তালিকায় নামজাদা বহু শিল্পীর পাশেই জ্বলজ্বল করছে এক বাঙালি পরিচালকের নামও। বেস্ট ডকুমেন্টরি ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেয়েছে আরও একটি ভারতীয় সিনেমা ‘অল দ্যাট ব্রিদস’। ছবির পরিচালক খোদ বঙ্গ সন্তান। শৌনক সেন। পরিচালক ছবিটি বানিয়েছেন দিল্লির প্রেক্ষাপটে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মান রয়েছে এই ছবির ঝুলিতে। এবার লড়াই অস্কারের মঞ্চে। অমন একটা মঞ্চে ভারতীয় হিসেবে তো বটেই এমনকী বাঙালি হিসেবে পুরস্কার জিতে ফিরতে পারলে যে গর্বের অন্ত থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।

বাঙালি হিসেবে সত্যজিৎ রায় আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে যে সম্মান পেয়েছিলেন তার রেশ এখনও আঁকড়ে রয়েছে বাংলা তথা গোটা ভারত। সেখানে এবছর ইতিমধ্যেই চারটি জায়গায় ঠাঁই মিলেছে ভারতের। যার জেরে সম্ভাবনাও হয়েছে আরও প্রকট। সকলেই আশাবাদী, তাকিয়ে রয়েছে চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসটি কি বদলে দেবে ভারতীয় সিনেমার যাত্রাকে? এখন অপেক্ষা সেটাই দেখার।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।