ইলেক্টোরাল বন্ড মারফৎ জোড়া ফুলেরও বিপুল লক্ষ্মীলাভ! তৃণমূলকে টাকা দিল কারা?

Electoral Bond: কিন্তু মুখে যা-ই বলুন না কেন, বিজেপির তৈরি প্রকল্প ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে ভালোই লাভবান হয়েছে তৃণমূল। শুধু কলকাতারই নয়, দেশের বহু সংস্থার থেকেই মোটা অঙ্কের অনুদান ঢুকেছে তৃণমূলের কোষাগারে।

Sohini Das
৪ মিনিট
ইলেক্টোরাল বন্ড মারফৎ জোড়া ফুলেরও বিপুল লক্ষ্মীলাভ! তৃণমূলকে টাকা দিল কারা?

ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত ভাবেই সব থেকে বেশি মুনাফা করেছে বিজেপি। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া ইলেক্টোরাল বন্ডের তথ্য-নথি অনুযায়ী, বিজেপির পরেই তালিকায় যে নামটি রয়েছে, সেটি তৃণমূলের। ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পের থেকে আসা মোট অনুদানের অন্তত ১২ শতাংশ পেয়েছে তৃণমূল। তার পরে তালিকায় রয়েছে কংগ্রেস এবং অন্যান্য ছোটবড় দলগুলি।

খাতায় কলমে বিজেপির থেকে তৃণমূল বা কংগ্রেসের কোষাগারে ঢোকা অর্থের পরিমাণে পার্থক্য আকাশ-পাতালের। বিজেপি পেয়েছে ৪৮ শতাংশ অর্থ, তৃণমূল ১২ শতাংশ ও কংগ্রেস ১১ শতাংশ। তবে শুনতে ১২ শতাংশ হলেও সে টাকাটা নেহাৎ কম নয়। বৃহস্পতিবার এসবিআই ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে তাদের হাতে থাকা সমস্ত তথ্য-নথি হলফনামা-সহ প্রকাশ করে দিয়েছে। তা ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে।

প্রথম দফায় এসবিআইয়ের দেওয়া তথ্যনথিতে জানা গিয়েছিল কোন কোন সংস্থা বা ব্যক্তি কত টাকার ইলেক্টোরাল বন্ড কিনেছেন রাজনৈতিক দলগুলিকে অর্থসাহায্যের জন্য। কোন দল কত টাকা পেয়েছে, তা-ও সামনে এসেছিল ওই নথি থেকে। সেখান থেকেই জানা যায় যে এসবিআই প্রদত্ত ইলেক্টোরাল নথি সংক্রান্ত নথিতে সবচেয়ে বেশি অর্থপ্রাপ্তদের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দল তৃণমূল। নামে সর্বভারতীয় থাকলেও বছর কয়েক আগেই নির্বাচন বিধির কড়া নিয়মের ফাঁড়ায় জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে তৃণমূল। গোয়া এবং ত্রিপুরায় প্রাণপন নিজেদের ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করেও অসফল হয় তারা। ফলে খাতায় কলমে পশ্চিমবঙ্গের দল হয়েই থেকে যেতে হয়েছে তৃণমূলকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সবার টাকা বিজেপির ঘরে! ইলেক্টোরাল বন্ডের যে তথ্যে তোলপাড়

Electoral Bond: যে ১৮টি সংস্থা ইলেক্টোরাল বন্ড মারফত সব থেকে বেশি চাঁদা দিয়েছে, দেখা যাচ্ছে, বিজেপির তহবিলে টাকা গিয়েছে তাদের প্রত্যেকের তরফ থেকে, এমনটাই জানা গিয়েছে এসবিআইয়ের তরফ থেকে।

রাজনৈতিক মঞ্চে একে অপরের সঙ্গে শত্রুর মতোই ব্যবহার করে তৃণমূল ও বিজেপি। সময়-সুযোগ পেলেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে এক হাত নিয়ে থাকেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে যে বিজেপি-বিরোধী জোট তৈরি হয়েছে, তাতে উল্লেখযোগ্য জায়গাতেও রয়েছে তৃণমূল। তবে সেই জন্মলগ্ন থেকেই সেই 'ইন্ডিয়া' জোটে তেমন ঐক্যমত্য নেই। ফলে জোট বাধা হলেও জোট জমেনি তেমন। কিন্তু রাজ্যে বা কেন্দ্রে বারবারই সরব হতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিজেপি বিরোধিতায়।

কিন্তু মুখে যা-ই বলুন না কেন, বিজেপির তৈরি প্রকল্প ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে ভালোই লাভবান হয়েছে তৃণমূল। শুধু কলকাতারই নয়, দেশের বহু সংস্থার থেকেই মোটা অঙ্কের অনুদান ঢুকেছে তৃণমূলের কোষাগারে। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী ডিএ বাড়াতে পারছেন না তেমন। কেন্দ্রের সঙ্গে সেই ডিএ বৈষম্য বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়েছে। তবে রাজনৈতিক অনুদানের দৌড়ে যে একেবারেই পিছিয়ে নেই তৃণমূল, তা বোঝা গিয়েছে ভালোই।

এসবিআইয়ের দেওয়া তথ্য খুঁটিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, স্যান্টিয়েগো মার্টিনের গেমিং ও হোটেস সার্ভিস সংস্থা থেকে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে মোট ৫৪২ কোটি টাকা চাঁদা পেয়েছে তৃণমূল। এরা দেশের অন্যতম বড় লটারি সংস্থাগুলির একটি। গত কয়েক বছরে, অন্তত তিনজন তৃণমূল নেতা এই লটারিতে ১ কোটি টাকা জিতেছেন। মার্টিস অবশ্য বিজেপিকেও খালি হাতে যেতে দেননি। ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন কেন্দ্রের শাসকের জন্যও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইলেক্টোরাল বন্ডে সবচেয়ে বেশি টাকা অনুদান! কে এই লক্ষ্মী মিত্তল?

Electoral Bond: ব্যক্তিগত অনুদানকারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছেন ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলই। অন্তত এসবিআইয়ের দেওয়া তালিকা থেকে তেমনটাই মালুম হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে লটারির ব্যবসায় যুক্ত ফিউচার গেমিংই ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে সব থেকে বেশি চাঁদা দিয়েছিল। খাতায় কলমে প্রায় ১,৩৬৮ কোটি টাকা। এখন হিসাব বেরোনোর পরে দেখা যাচ্ছে, তাদের কাছ থেকে সব চেয়ে বেশি টাকা চাঁদা মারফত পেয়েছে তৃণমূলই। এম কে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-ও ওই লটারি সংস্থার কাছ থেকে ৫০৩ কোটি টাকা পেয়েছে।

নথি থেকে জানা গিয়েছে, এভি ট্রেডিং এন্ড ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে কলকাতার একটি সংস্থা ১১২.৫ কোটি টাকার ইলেক্টোরাল বন্ড কিনেছিল। যার মধ্যে কংগ্রেস পায় ৫৩ কোটি টাকা। তৃণমূল পায় ৪৫.৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিজেপি পেয়েছে ১ কোটি টাকা। আপ পেয়েছ ১০ কোটি টাকা এবং বিজেডি পেয়েছে ৩ কোটি টাকা। এর পরে রয়েছে হলদিয়া এনার্জি লিমিটেড। যারা দিয়েছে ৩৬২ কোটি টাকা, ধারিওয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ঢেলেছে ৯০ কোটি টাকা, এমকেজে এন্টারপ্রাইজ এবং এভারেজ ট্রেডিং ৪৬ কোটি টাকা করে দিয়েছে তৃণমূলকে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিজেপির ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই ওই সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রথম রফার নথিতে বন্ড ক্রয়কারীর নাম, অনুদানের পরিমাণ ও অনুদানের তারিখ প্রকাশ করেছিল। পাশাপাশি কোন দল কত টাকা পেয়েছে, তা-ও জানানো হয়েছিল ওই তালিকায়। তবে সেই তথ্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ইলেক্টোরাল বন্ডে থাকা আলফা নিউম্যারিক নম্বটি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয় এসবিআইকে। যার থেকে জানা সম্ভব, কোন দলকে কোন কোন শিল্পপতি বা ব্যক্তি বা সংস্থা ওই অর্থ দিয়ে সাহায্য় করেছেন। ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে সেই নথিও।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় একসময় বলেছিলেন, রাজ্যে দিদি থাক আর কেন্দ্রে মোদি। নিন্দুকদের কেউ কেউ বলেন, আসলে মুখে যতই বিরোধিতার কথা বলুন না কেন মমতা, আদতে মোদি সরকারের সঙ্গে দিব্যি তাল মিলিয়েই রাজত্ব শাসন করছে তৃণমূল। ইলেক্টোরাল বন্ড সামনে আসার পরেই আবগারি মামলায় গ্রেফতার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিবাল। সেই গ্রেফতারির দীর্ঘ সময় পরে এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল। প্রশ্ন উঠেছে, আদতে কি সরাসরি মোদি বিরোধিতার পথ এড়িয়েই চলছে এখন তৃণমূল। তা কি ভোট কাছে বলেই, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র। ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ওই বিপুল পরিমাণ লক্ষ্মীলাভ কি ক্রমশ বাধা হয়ে দাঁড়াতে চলেছে তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধিতার পথে? উঠে গিয়েছে সেই প্রশ্নও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।