লাদাখকে দেওয়া কথা রাখেননি মোদি! রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে জম্মু-কাশ্মীর?

PM Modi on Jammu and Kashmir: আর কিছুদিন বাদেই দেশ জুড়ে লোকসভা নির্বাচন। ঠিক এ সময়ে কাশ্মীরকে খুব শিগগিরই রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Sohini Das
৩ মিনিট
লাদাখকে দেওয়া কথা রাখেননি মোদি! রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে জম্মু-কাশ্মীর?

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে লাদাখকে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তবে ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে তাদের জানিয়ে দেওয়া হল, তাদের দাবিপূরণ সম্ভব নয় মোটেই। এবার কি তেমন প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পালা কাশ্মীরের। আর কিছুদিন বাদেই দেশ জুড়ে লোকসভা নির্বাচন। ঠিক এ সময়ে কাশ্মীরকে খুব শিগগিরই রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানালেন, সেখানে বিধানসভা ভোটের আর দেরি নেই।

২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই বড় পদক্ষেপ করেছিল মোদি সরকার। অগস্ট মাসে হঠাৎ করেই বাতিল করে দেওয়া হয় ৩৭০ ধারা। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা তো খর্ব করাই হয়, পাশাপাশি কেড়ে নেওয়া হয় উপত্যকার পূ্রণ রাজ্যের মর্যাদাও। জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখকে নিয়ে দু'টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল কাশ্মীর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন’! দিল্লির দখল নিতে নয়া ছক বিজেপির?

President's rule in Delhi: ইতিমধ্যেই কেজরিওয়ালের ব্যক্তিগত সচিবকে বরখাস্ত করা ছিল সেই পরিকল্পনারই অংশ। আপ দলের অভিযোগ, এর পরে দিল্লি জুড়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করারই পরিকল্পনায় রয়েছে বিজেপি।

শুক্রবার জম্মুর উধমপুরের একটি সভায় গিয়ে ফের সেই ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির কথা তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসকে দুষে বললেন, ক্ষমতার লোভে ৩৭০ ধারা প্রাচীর তৈরি করে রেখেছিল কংগ্রেস। তবে ৩৭০ ধারা নিয়ে কথা বলে তিনি যত না নজর কাড়লেন, তার চেয়ে অনেক বেশি লাইমলাইট কাড়ল তাঁর প্রতিশ্রুতি। উধমপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলে ফেললেন, সেই সময় নাকি খুব বেশি দূরে নয়, যখন জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন হবে। ফের রাজ্যের মর্যাদা পাবে জম্মু ও কাশ্মীর। উধমপুরের সভা থেকে উপত্যকার মানুষের চোখে নতুন করে স্বপ্ন বুনলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন,"আপনারা নিজেদের মন্ত্রীদের দিয়ে আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। … দেশ বিদেশ থেকে বড় সংস্থা , কোম্পানি আরও বেশি করে আসবে এখানে।"

মোদি এদিন দাবি করেছেন, তিনি নাকি কথা রেখেছেন। ৩৭০ ধারার দেওয়াল গুঁড়িয়েই দেননি শুধু, তার ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পুঁতে দিয়েছেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ ঠুকে তাঁর বক্তব্য,দেশের কোনও রাজনৈতিক দল সাহস নিয়ে আসুক.. তারা ঘোষণা করুক, যে তারা ৩৭০ ধারা ফের লাগু করবে, দেশ তাদের মুখও দেখতে প্রস্তুত হবে না।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাইনাস ঠান্ডায় খোলা আকাশের নীচে টানা অনশন! যে দাবিতে লাদাখে সরব বাস্তবের 'ব়্যাঞ্চো'

Sonam Wangchuk, Ladakh: চরম ঠান্ডা। তাপমাত্রা মাইনাস ১৭ ডিগ্রিরও নীচে। আর ওই ভয়াবহ আবহাওয়াতেই খোলা আকাশের নিচে বিক্ষোভে নেমেছেন লাদাখের প্রায় ২৫০ জন আন্দোলনকারী। ডাক দিয়েছেন আমরণ অনশনের। 

কিন্তু মোদি যা বলছেন, তা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির পর্দা, না সত্যিই এর কোনও সারবত্তা রয়েছে। কাশ্মীরে ৩৭৯ ধারা বাতিলের পর পরই সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ নাকি একেবারেই সাংবিধানিক ও বৈধ। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ছিল, কাশ্মীর যে সময় ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, সে সময়েই তা ভারতের সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়েছিল। এই অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনেই কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক সভা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে যা উঠে যায়। ফলে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা স্থায়ী ছিল না, অস্থায়ী বা সাময়িক ছিল। সুপ্রিম কোর্ট বিধানসভা নির্বাচন করারও নির্দেশ দিয়েছিল সেখানে।

বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, দেশে লোকসভা ভোটের পর্ব মিটলেই নাকি কাশ্মীরে ভোটের তোড়জোড় শুরু হবে। মোদির এদিনের নির্বাচনী ভাষণ আসলে সেই সম্ভাবনাতেই সিলমোহর দিচ্ছে। তবে এর মধ্যে বিজেপি সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনও বিশেষ তৎপরতা নেই বলেই তোপ দেগেছেন ভূস্বর্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমন আবদুল্লা। তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, তাই বিধানসভা নির্বাচন করানো ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা নেই মোদির কাছে। যদি প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকেই কাশ্মীরের বিধানসভা ভোটের ব্যবস্থা করতেন, তাহলে বোঝা যেত। তবে প্রশ্ন, ভোট করলেই কি ফিরবে রাজ্যের মর্যাদা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপত্যকায় বিধানসভার ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

আগামী ১৯ এপ্রিল প্রথম দফাতেই ভোট রয়েছে উধমপুরে। ফলে সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে যে কোনও কসুর করবেন না নরেন্দ্র মোদি, তাতে আর নতুন কী! তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই কথা কি রাখবে বিজেপি সরকার আদৌ। কবে থেকেই তো পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা চেয়ে আসছে লাদাখ। ২০১৯ ভোটের আগে সেখানে নিয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিল বিজেপি। লাদাখে ষষ্ঠ রক্ষাকবচ দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পর, ২০২৪ ভোটের আগে আগে অমিত শাহের দফতরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, ষষ্ঠ তফসিল হবে না। প্রতিবাদে বিক্ষোভ-অনশনে বসলেন লাদাখের অসংখ্য বাসিন্দা। যার নেতৃত্ব দিলেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ-বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। লাদাখকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি মোদি সরকার। ভোটে জিতে এই পাহাড়ের মানুষজনকে ভুলেছে বিজেপি। জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও কি সেই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে। মোদির প্রশ্নের পরেই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।