ভুল সংশোধন নাকি নয়া কৌশল! ক্ষমতায় বসেই কৃষকদের ভাবনা কেন ভাবছেন মোদি?

Modi 3rd Term: সোমবার কৃষি সম্মান নিধির ফাইলে সই করার পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম যে সই করলাম সেটা কৃষক কল্যাণের জন্য। আমরা কৃষকদের জন্য আরও বেশি করে কাজ করতে চাই।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভুল সংশোধন নাকি নয়া কৌশল! ক্ষমতায় বসেই কৃষকদের ভাবনা কেন ভাবছেন মোদি?

ভোটে জিতে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলেন মোদি। রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে মহা ধূমধাম করে হয়ে গেল তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিন, মোদির তৃতীয় দফার প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম দিন। এই লোকসভা ভোটে জয় এলেও সেই পরিমাণ ভালো ফলাফল করতে পারেনি বিজেপি। পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ-সহ বহু রাজ্যেই লোকসভা ভোটে তেমন আসন জিততে পারেনি গেরুয়া শিবির। তার নেপথ্যে কৃষক বিক্ষোভের মতো ঘটনা রয়েছে বলেই অনেকের মত। তা-ই কি তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেই বেশি করে মন দিতে চাইছেন তিনি? কৃষক বিক্ষোভের ক্ষেত্রে যে মোদি কার্যত কাঠের পুতুলের মতোই হাত-পা গুটিয়ে বসেছিলেন, সেই মোদিই ক্ষমতায় এসেই কিনা সই করে ফেললেন 'কিসান সম্মান নিধি' প্রকল্পে। নয়া দফায় পুরনো ভুল সংশোধন করে নিতে চাইছেন মোদি, নাকি এ-ও নতুন কৌশল?

কী রয়েছে এই 'কিসান সম্মান নিধি' প্রকল্পে? সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে মাধ্যমে ৯.৩ কোটি কৃষককে ২০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করবে মোদি সরকার। ১০ জুন, সোমবার মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ওই কিসান নিধি যোজনা ১৭তম কিস্তি ছাড়ল। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি মন্ত্রকের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে একটি বিজ্ঞপ্তিও। যেখানে জানানো হয়েছে, ওই ১৭তম কিস্তির সুবিধা পেতে চলেছেন দেশের প্রায় ৯ কোটি ৩০ লক্ষ কৃষক। এর জন্য় বরাদ্দ হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। যা বিলি করা হবে ওই কৃষকদের মধ্যে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কৃষক-ক্ষোভের আঁচ! যে যে ভুলে ৩৮টি আসন খোয়াতে হল বিজেপিকে?

Farmer's Protest: কৃষক আন্দোলন যথেষ্ট জনসমর্থনও পেয়েছে। ২৫০টিরও বেশি সংগঠন এই আন্দোলনে সামিল হয়। রাস্তা অবরোধ করে, রেললাইনে শুয়ে পড়ে , ধর্না-মিছিলের মাধ্যমে নানাভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কৃষকরা।

হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার ধারক ও বাহক গেরুয়া শিবিরের সবচেয়ে বড় জোরের জায়গাই ছিল উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্য। আর সেই রাজ্যগুলিতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদি ম্যাজিক। পঞ্জাবে একটিও আসন পায়নি বিজেপি। হাতছাড়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বড় অংশও। যে প্রত্যাশা আদপেই ছিল না মোদি সরকারের। কিন্তু মানুষের রায় বড় রায়। এর নেপথ্যে খুব বড় একটা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে কৃষক বিদ্রোহ, তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। কৃষক আন্দোলনকে হয়তো একটু বেশিই হালকা ভাবে নিয়ে ফেলেছিল গেরুয়া শিবির। তার জের যে বিজেপিকে শেষপর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার নম্বর থেকে ছিটকে ফেলে দিতে পারে, তেমনটা বোধহয় প্রত্যাশা ছিল না একেবারেই। কিন্তু কার্যত হয়েছে তেমনই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বিজেপি। যদিও জোটসঙ্গীদের কৃপায় এই ভোটের দরিয়া কোনও মনে উতরে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কৃষককে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার সময়, নৈতিকতা কোথায় যায়?

Kangana Ranaut Slapped: বিগত দশ বছরে নিপীড়কের চাবুক খাওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য-সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে কৃষক সমাজ। বারবার দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে কৃষক আন্দোলনের জেরে। রাস্তা অবরোধ করে মিটিং মিছিল করে তাঁরা নিজেদের দাবি জানিয়েছেন। বিজেপির তিন বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বারংবার। সেই আইন যে আসলে বড় কৃষক এবং সংস্থার উপকারেই আসবে কেবল, তা বারবার জানিয়েছিল কৃষক সমাজ। তবে তাতে কান দেয়নি বিজেপি সরকার। সেই ভুল কি তৃতীয় দফায় এসে শুধরে নিতে চাইছে মোদি 3.O?

সোমবার কৃষি সম্মান নিধির ফাইলে সই করার পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম যে সই করলাম সেটা কৃষক কল্যাণের জন্য। আমরা কৃষকদের জন্য আরও বেশি করে কাজ করতে চাই। কৃষকক্ষেত্রের জন্য কাজ করতে চাই।" প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করেও জানান, আমাদের সরকার সারা দেশে আমাদের কৃষক ভাই-বোনদের জীবন সহজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় যে, টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি তার জন্য প্রথম কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এর অধীনে, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির ১৭তম কিস্তি সম্পর্কিত ফাইল স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের ৯ কোটিরও বেশি কৃষক উপকৃত হবে। আগামী দিনেও আমরা কৃষকদের কল্যাণে এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাব।

পরিসংখ্যান বলছে, এখনও প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন করে কৃষক আত্মহত্যা করেন। ঋণের বোঝা সামলে ভবিষ্য়তে কৃষিকাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছেন বহু কৃষিজীবীই। বাধ্য হয়ে চাষবাস ছাড়ছেন তাঁরা। ভারতীয় সভ্যতা বরাবরই কৃষিভিত্তিক সভ্যতা। সেই আদিমতম পেশা থেকে বহু কৃষক আজ বিদায় নিচ্ছেন। যারা দেশের মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দেন মাঠে খেটে, শ্রম ঢেলে, তাদের পথে নামতে হয়েছে ন্যায়ের আশায়। সেই কৃষকদের জন্য এতদিন কার্যত কিছুই করেনি এ দেশের সরকার। তৃতীয় দফায় সেই ভুল শুধরে নতুন পথে চলতে চান মোদি সরকার, তেমন বার্তাই কি দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী। নাকি এ সবটাই আসলে আইওয়াশ, হারিয়ে যাওয়া ভোটবাক্স পুনরুদ্ধারের। প্রশ্ন ওঠেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।