মঙ্গলগ্রহে পাওয়া গেছে পিরামিড, দরজার আড়ালে ভিনগ্রহীরা? জেনে নিন আসল তথ্য

এই পিরামিড আসলে স্বাভাবিক এক প্রাকৃতিক গঠন। নাসার মার্স কিউরিওসিটি রোভারে ধরা পড়া যে ছবি দেখে এই দাবি করছেন ওয়ারিং, তা ট্যুইট করে কিওরিওসিটি রোভারের তরফে জানানো হয়েছে, দেখতে দরজার মতো মনে হলেও, জিওলজির সঙ্গে পরিচিতদের কাছে বিষয়টি এমন কিছুই অস্বাভাবিক নয়।

Sayan Das
৪ মিনিট
মঙ্গলগ্রহে পাওয়া গেছে পিরামিড, দরজার আড়ালে ভিনগ্রহীরা? জেনে নিন আসল তথ্য

ভিনগ্রহের প্রাণী, বা এলিয়েন সম্পর্কে বিশ্ববাসীর কৌতূহলের কোনও অন্ত নেই। পৃথিবী ছাড়া অন্য গ্রহে এই ধরনের প্রাণীর আদৌ কোনওরকম অস্তিত্ব রয়েছে কি না, কিংবা পৃথিবীর বুকে অতীতে তাদের যাতায়াত বা ভবিষ্যতে তাদের আসার সম্ভাবনা- ইত্যাদি প্রসঙ্গে গবেষণা, সিনেমা, কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যর অন্ত নেই। নাসা কিংবা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সংস্থার প্রতিবেদনেও সময়বিশেষে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বিস্মিত করেছে মানুষকে। অনেকের বিশ্বাস, আমাদের সৌরমণ্ডলে কিংবা তার বাইরে এমন এক দুনিয়া রয়েছে, যেখানে এখনও পর্যন্ত বসবাস করে চলেছে এইসব ভিনগ্রহের প্রাণীরা। আবার কারও কারও দাবি, মহাজগতের অন্য কোনও গ্রহ থেকে এরা ক্রমাগত আমাদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য নিয়ে চলেছে এবং কোনও না কোনও সময় পৃথিবীর বুকে আমাদের অজান্তেই নেমে এসেছে; যার খবর বিজ্ঞানীদের কাছেও নেই।

বহুদিন ধরে আমেরিকা, ইংল্যান্ড-সহ একাধিক দেশে বিজ্ঞানীরা এলিয়েন প্রসঙ্গে একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছেন। প্রথম বিশ্বের দেশগুলির বৈজ্ঞানিক মহল ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে চলেছে। চাঁদ কিংবা মঙ্গলগ্রহে স্পেসশিপ পাঠানো থেকে শুরু করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের পরিস্থিতি এবং সেখানে ঘটে চলা একাধিক ঘটনার ওপর ক্রমাগত নজর রেখে চলেছে এই দেশগুলো। উদ্দেশ্য একটাই, যদি কোনও নতুন তথ্য স্যাটেলাইট কিংবা মহাকাশযানের মাধ্যমে উঠে আসে।

আমাদের সৌরমণ্ডলে একাধিক গ্রহ উপস্থিত থাকলেও প্রধানত চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে আমাদের কৌতূহল বহুদিন ধরে জারি। বিশেষত মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন বহু গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা। যদিও এই সম্পর্কে নিখাদ প্রমাণ কখনওই পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ইউএফওর গবেষক স্কট সি ওয়ারিংয়ের একটি গবেষণা প্রকাশ্যে এসেছে। তার মধ্যে উল্লিখিত বেশ কয়েকটি তথ্য গোটা বিশ্বে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে যে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ইউএফও নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন স্বঘোষিত গবেষক স্কট সি ওয়ারিং। সেই সূত্রেই একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসে তাঁর হাতে, অবশ্য কোনও ক্ষেত্রেই তাঁর দাবিকে সঠিক প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য নথি কিংবা প্রমান ছিল না হাতে। তবে বর্তমানে এমন বেশ কয়েকটি জিনিস উঠে এসেছে, যা সত্যি চমকপ্রদ! সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহের বুকে তিনি এক রহস্যজনক বস্তু আবিষ্কার করেছেন, যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই রহস্যজনক বস্তুটির সঙ্গে আমাদের মিশরের পিরামিডের অনেক সাদৃশ্য পাওয়া গিয়েছে। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে যে, পৃথিবী থেকে কয়েক লক্ষ কোটি মাইল দূরে একটি গ্রহে কীভাবে পিরামিড থাকতে পারে? এক্ষেত্রে অনেকের মতে, সম্ভবত পৃথিবীর বুকে এর আগেও নেমে এসেছে এলিয়েনরা আর এখানকার স্থাপত্য এবং নিদর্শন দেখেই তারা নিজেদের গ্রহে বানিয়ে ফেলেছে এই স্থপতি। অন্য মহলের দাবি, আমাদের চেয়ে অনেকাংশে শক্তিশালী ভিনগ্রহীরা। ফলে আমাদের অনেক আগেই তারা নিজেদের গ্রহে এহেন আবিষ্কার করে থাকতে পারে।

তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র পিরামিডের মতো দেখতে আকৃতির আবিষ্কার করেই ক্ষান্ত থাকেননি ওয়ারিং। আরও একটি তথ্য তিনি তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর সামনে। তাঁর দাবি, মঙ্গলগ্রহের বুকে এইসব পিরামিডের মাঝে একটি রহস্যজনক দরজা দেখা গিয়েছে। ভিনগ্রহীর অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, এই দরজার পিছনে ঠিক কী প্রযুক্তি রয়েছে, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন স্কট সি ওয়ারিং।

এবার আসা যাক মিশরের পিরামিডের প্রসঙ্গে। কয়েক হাজার বছর ধরে এই পিরামিড তৈরির রহস্য যেমন অটুট, ঠিক তেমনভাবে এটিকে গড়ে তোলার পিছনে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত উন্নতমানের বলে দাবি করে বৈজ্ঞানিক মহল। এই পিরামিডগুলির ভেতরে মিশরীয় মানুষদের মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হতো। মমি এবং পিরামিড দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয় এখানে। ফলে মঙ্গলগ্রহের বুকে এই রহস্যময় 'পিরামিড' কি সেই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বই প্রমাণ করে?

আসলে বাস্তবটা একদম আলাদা। এই পিরামিড আসলে স্বাভাবিক এক প্রাকৃতিক গঠন। নাসার মার্স কিউরিওসিটি রোভারে ধরা পড়া যে ছবি দেখে এই দাবি করছেন ওয়ারিং, তা ট্যুইট করে কিওরিওসিটি রোভারের তরফে জানানো হয়েছে, দেখতে দরজার মতো মনে হলেও, জিওলজির সঙ্গে পরিচিতদের কাছে বিষয়টি এমন কিছুই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বারবার ভিনগ্রহীদের নিয়ে নানারকম মনগড়া তত্ত্ব উঠে এসেছে। স্কট ওয়ারি‌ংয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ধরনের তত্ত্বকে মূলত গাঁজাখুরি বলেই মনে করছে বিজ্ঞানী মহল।

Some of you have noticed this image I took on Mars. Sure, it may look like a tiny door, but really, it’s a natural geologic feature! It may just *look* like a door because your mind is trying to make sense of the unknown. (This is called "pareidolia")

— Curiosity Rover (@MarsCuriosity)

এই প্রসঙ্গে এরিখ ভন দানিকেনের গবেষণার কথাও উঠে আসতে পারে। দানিকেনের দাবি ছিল, পৃথিবীর ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ভিনগ্রহীরা তৈরি করেছে। না হলে কোনওভাবেই মানুষের পক্ষে সেই সময় এই ধ‍রনের স্থাপত্য নির্মাণ সম্ভব ছিল না, এর মধ্যে পিরামিড-সহ আরও বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের কথা ছিল। বিজ্ঞানীরা তা স্বীকার করেননি কখনও, এবং তার সপক্ষে সঠিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।