বিজেপির 'আচ্ছে দিন', রাহুল গান্ধির হাতছাড়া হবে ওয়ানাড় আসন?

Rahul Gandhi Wayanad Seat: উচ্চতর আদালত রাহুল গান্ধির সাজা বাতিল না করলে তিনি সম্ভবত আট বছরের জন্য আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
বিজেপির 'আচ্ছে দিন', রাহুল গান্ধির হাতছাড়া হবে ওয়ানাড় আসন?

গেরুয়া দাপটে সারা দেশে কংগ্রেসের অবস্থা এমনিতেই দুর্বল। গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোটবাক্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, জিততে গেলে যে ম্যাজিকমন্ত্র দরকার, তা হারিয়েছে কংগ্রেস। সবেধন নীলমণি ছিল কেরলের ওয়ানাড় আসনটি। রাতারাতি সেই আসনের সাংসদ পদ থেকে উৎখাত করা হয়েছে রাহুল গান্ধিকে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিকে সাংসদ হিসাবে অযোগ্য ঘোষণা করার পরেই কেরলের ওয়ানাড় লোকসভা আসন সাংসদহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাহলে কি এবার উপনির্বাচনের পথেই হাঁটতে হবে এই আসনটিকে? সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কেরলের ওয়ানাড়ে উপনির্বাচন করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার গুজরাতের সুরাটের একটি আদালত রাহুল গান্ধিকে মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে এবং দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। যার জেরেই লোকসভায় তাঁর সদস্য পদ খারিজ হয়ে যায়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য কংগ্রেস নেতাকে ৩০ দিনের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০১৫-এর ধারা ১৫১এ অনুসারে, আসন শূন্য হয়ে গেলে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভার শূন্য আসনের উপনির্বাচন হতে হবে ছয় মাসের মধ্যেই। এই আইন অনুযায়ীই রাহুল গান্ধির সাংসদ পদ বাতিল করা হয়েছে। আইনের ধারা ৮(৩) অনুসারে, একজন সাংসদ যখন দোষী সাব্যস্ত হন এবং কমপক্ষে দুই বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন তখনই তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

লোকসভার সচিবালয় শুক্রবার রাহুল গান্ধিকে সাংসদ হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করে এবং এখন উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে নির্বাচন কমিশনের। উল্লেখ্য, লোকসভায় এখন দু'টি আসন খালি রয়েছে - জলন্ধর এবং ওয়ানাড়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের আমেথি আসন কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়। সেবার দু'টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাহুল। তাঁর দ্বিতীয় আসন ওয়ানাড় থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

ওই বছরেই, মানে ২০১৯ সালের এপ্রিলে সুরাট পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক এবং গুজরাতের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেশ মোদির দায়ের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধির মন্তব্যের জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ এবং ৫০০-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওয়ানাড়ের লোকসভা সাংসদ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্ণাটকের কোলারে একটি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন, দেশের সব চোরের পদবি কেন মোদি!

রাহুল গান্ধি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেরলের ওয়ানাড় সংসদীয় আসনে, সিপিআই প্রতিদ্বন্দ্বী পিপি সুনীরকে ৪.৩১ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা সচিবালয় সাংসদপদ বাতিলের বিজ্ঞপ্তি জারি করার সঙ্গে সঙ্গে, ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে রাহুল গান্ধির ওয়ানাড় নির্বাচনী আসনকে 'শূন্য' ঘোষণা করা হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আর সাংসদ নন রাহুল গান্ধি! জেল ঘোষণার এক রাতের মধ্যেই কেন সাংসদ পদ খারিজ?

Rahul Gandhi Jail: দেশের সব চোরদের কেন মোদি পদবি- এই প্রশ্ন তোলার অভিযোগে রাহুল গান্ধীকে সুরাটের একটি আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়।

পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের জন্য আর বাকি মাত্র এক বছর। তা সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশনকে আগামী দিনে ওয়ানাড়ে নতুন করে উপনির্বাচন করতেই হবে কারণ, কোনও আসন ছয় মাসের বেশি খালি রাখা যাবে না। অন্যদিকে, উচ্চতর আদালত রাহুল গান্ধির সাজা বাতিল না করলে তিনি সম্ভবত আট বছরের জন্য আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

একই ঘটনা ঘটে আজম খানের সঙ্গে

রাহুল গান্ধির সাংসদ পত বাতিলের মতোই একটি ঘটনা ঘটে সমাজবাদী পার্টির বরিষ্ঠ নেতা আজম খানের সঙ্গে। ২০১৯ সালের ঘৃণাত্মক বক্তৃতার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে, ২০২২ সালের অক্টোবরে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আজম খানকে সাংসদ/বিধায়ক আদালত তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে, যার ফলে রামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান ওই আসনে জিতেছিলেন।

নির্বাচন কমিশন ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর রামপুর আসনে উপনির্বাচন ঘোষণা করে যাতে বিজেপি জয়ী হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, রামপুর আজম খানের দুর্গ হিসেবে বিবেচিত হতো।

সাংসদ পদ বাতিলের আইন কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"সব মোদিই চোর!" দু'বছরের সাজা রাহুল গান্ধীর, জেলেই থাকতে হবে প্রধান বিরোধী নেতাকে?

Rahul Gandhi Two Years Jail : এমনকী দুই বছরের জেলের সাজাও শোনানো হয়েছে। আপাতত ভোটের আগে এই ঘটনায় উত্তাল রাজনৈতিক মহল।

অনুচ্ছেদ ১০২(১) এবং ১৯১(১) যথাক্রমে একজন সাংসদ এবং একজন বিধায়কের অযোগ্যতার বিচারের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংবিধান অনুসারে, একজন সাংসদ ও বিধায়ককে তিনটি মূল পরিস্থিতিতে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে:

ক) আর্থিক লাভের অবস্থানে গেলে, পদাধিকারের বলে ব্যক্তি যদি নিজে আর্থিক লাভ করতে থাকেন

খ) মানসিকভাবে অস্থির প্রমাণিত হলে

গ) কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এবং দুই বা ততোধিক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে

রাহুল গান্ধির সামনে এখন যে পথ খোলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুরাট আদালতের রায় বাতিল করতে কংগ্রেস উচ্চ আদালতে যেতে পারে। যদি উচ্চ আদালত সাজা স্থগিত না বা বাতিল না করে তবে রাহুল গান্ধি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা হারাবেন।

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে, দুই বা ততোধিক বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত একজন সাংসদ বিচারের তারিখ থেকে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এবং কারাবাসের মেয়াদের পরে অতিরিক্ত ছয় বছরের জন্য অযোগ্যই থাকবেন।

রাহুল গান্ধি ফের সাংসদ পদ ফিরে পেতে পারেন যদি উচ্চ আদালত সাজার পরিমাণ কমিয়ে দুই বছরের নিচে করে। তবে সাজা স্থগিত, কমানো বা মামলায় খালাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।