শেষ জীবিত যাত্রী ছিলেন ভারতেরই বাসিন্দা, টাইটানিক নিয়ে যে তথ্য অজানা অনেকেরই

Titanic : টাইটানিকের শেষ জীবিত যাত্রী ছিলেন নাকি ভারতের বাসিন্দা

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
শেষ জীবিত যাত্রী ছিলেন ভারতেরই বাসিন্দা, টাইটানিক নিয়ে যে তথ্য অজানা অনেকেরই

সেই অমোঘ দৃশ্য। আটলান্টিকের বরফগলা জলে ভাসছে দরজার একটা পাল্লা। সেটুকুকেই খড়কুটোর মতো আঁকড়ে রয়েছেন নায়িকা। নায়ক জ্যাকও লুটোচ্ছে প্রাণপণ ওই ভাসমান পাল্লা আঁকড়েই। পরে অবশ্য একটি স্পিডবোট এসে নায়িকা রোজকে বাঁচায় তবে নায়ক হারিয়ে যান অতল গভীরেই। ছবির নাম ‘টাইটানিক’। ১৯৯৭-এ মুক্তি প্রাপ্ত হলিউডি এপিক। যা কেবল ইংরেজি ভাষাই নয় ঘোর ধরায় অন্যান্য ভাষাভাষীদেরও। যদিও সিনেমা বানাতে গেলে দৃশ্যের পর দৃশ্য সাজাতে হয়। তাতেই কখনও উঠে আসে ট্র্যাজিক পরিণতি। যা এসেছিল নায়ক জ্যাকেরও। ১৪টি অস্কার পাওয়া ওই ছবির পরিচালক জেমস ক্যামেরন নিজেই জানান, জ্যাকের মৃত্য না দেখালে ছবিটা ঠিক জমত না। তবে এ ট্রাজেডি যে কেবলমাত্র সিনেমার প্রয়োজনে তা বলা ভুল হবে, ‘টাইটানিক’ নামটি আজও মস্ত বিভীষিকা। আর তা কেবল সিনেমার জন্য নয়, বাস্তব ঘটনার জন্যই।

১১০ বছর আগেকার সেই ইতিহাস, আর তাতে বেশ খানিকটা রোমান্স, খানিকটা মশলা দিয়ে বানানো হয় সিনেমা। সিনেমার হাত ধরেই যে আবার নতুন করে প্রচারের আলো পেয়েছিল এ ঘটনা তা অবশ্য অস্বীকার করা যায় না। আর আলোচনার কেন্দ্রে আসতেই নানারকম অভ্যন্তরীণ তথ্যও উঠে আসে এ ঘটনা থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনওদিন ডোবেইনি আসল টাইটানিক! আড়ালে ছিল কোন ষড়যন্ত্র?

Titanic: বিশেষজ্ঞরা বলেন, আকার এবং আয়তনের প্রায় প্রায় সমান হওয়ার কারণে কেউ ধরতেই পারেনি, বেলফাস্ট বন্দর থেকে অলিম্পিক বেরোয়নি বরং বেরিয়েছিল নাকি টাইটানিক।

এরই মধ্যে আবার উঠে আসে নতুন এক ‘ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব’, আদৌ ডুবেছিল ‘টাইটানিক’ নাকি অন্য কিছু রয়েছে এর অন্তরালে? এ প্রশ্ন নিয়েও বিস্তর আলোচনা চলে। পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে শিরোনামে। জানা যায়, ডুবন্ত টাইটানিকের শেষ জীবিত যাত্রী ছিলেন নাকি ভারতের বাসিন্দা। নাম রুথ বেকার। যদিও এ দেশের নাগরিক তিনি ছিলেন না, কিন্তু টাইটানিক হিস্ট্রি সোসাইটির একজন ইতিহাসবিদ ডন লিঞ্চ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আনেন, ভারতেই জন্ম হয়েছিল রুথ বেকারের। ১৯৭৫ সালে প্রথম রুথের জীবন সম্পর্কে তথ্য হাতে পান গবেষক। ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল যখন টাইটানিক দুর্ঘটনাটি ঘটে তখন জাহাজেই ছিলেন রুথ। বয়স মাত্র ১২ বছর। সেই থেকে আমৃত্যু বয়ে বেড়িয়েছেন সেই ভয়াবহ দিনের ঘটনাকে। ১৯৯০ সালে ৯০ বছর বয়সে মারা যান রুথ বেকার।

ভারতের সঙ্গে গভীর যোগসূত্র ছিল রুথের। আদতে আমেরিকান হলেও ভারতেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। রুথ বেকারের বাবা অ্যালেন ওলিভার বেকার কাজ করতেন ভারতের একটি মিশনারিতে। বাবার কর্মসূত্রে ১৮৯৯ সালে ভারতেই তাই জন্ম হয় রুথের। প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু হয় কোদাইকানালের একটি বোর্ডিং স্কুলে। শুধু রুথই নয়, তাঁর দুই ভাইবোনেরও জন্ম হয়েছিল ভারতেই। পরবর্তীকালে ১৯১২ সালের ৭ মার্চ মাসে ভারত ছেড়ে ফিরে যান তাঁরা। যাত্রা শুরু করেন জাহাজপথে। মাদ্রাজ থেকে লন্ডন তারপর সেখান থেকে ১০ এপ্রিল ট্রেনে চেপে পৌঁছন সাউদাম্পটনে। এরপরই আসে সেই অভিশপ্ত রাত। ১২ এপ্রিল শুরু হয় তাঁদের টাইটানিকে যাত্রা। আরও দুদিন পর ১৪ এপ্রিল দুর্ঘটনায় হারান পরিবারের সবাইকে। ভাগ্যের ফেরে একাই সেদিন বেঁচে যান রুথ।

‘টাইটানিক’ নিছক দুর্ঘটনা নাকি জাহাজডুবির কোনও ছক, উত্তর মেলেনি এমন আরও অনেক প্রশ্নের। কিন্তু যা ঘটার তা তো ঘটে গিয়েছ কবেই। রুথের মুখেই কেবল থেকে গিয়েছে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টাইটানিক দুর্ঘটনার বিবরণ। জানা যায়, তাঁর এই বিস্তারিত বর্ণনাগুলি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে জেমস ক্যামেরন তাঁর সিনেমার একাধিক সংলাপ তৈরি করেছিলেন। ‘রোজ’ চরিত্রটির মধ্যেও যেন রুথের ছায়াই তুলে ধরতে চেয়েছেন পরিচালক। তাই রুথের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতাকে হুবহু সংলাপ হিসেবে বসিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী গ্লোরিয়া স্টিউওয়ার্ট-এর মুখে। সত্য ঘটনায় খানিক মশলা পরিচালক মিশিয়েছিলেন ঠিকই তবে আসল ইউএসপি ছিল রুথের বলা বাস্তবটুকুই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।