আরজি কর মর্গ দুর্নীতি: গভীর রাতে যে সব ভয়াবহ কুকর্ম চলত মর্গে!

RG Kar Morgue Scam: অত রাতে কীভাবে কেন কারা মর্গে ঢুকতেন? অত রাতে মর্গে কী এমন কাজ?

inscript
৩ মিনিট
আরজি কর মর্গ দুর্নীতি: গভীর রাতে যে সব ভয়াবহ কুকর্ম চলত মর্গে!

আরজি কর হাসপাতার প্রতিটি ইঁট-পাথরে অজস্র রহস্য। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার পর ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এমন সব ঘটনার কথা যা শুনলে শিউরে উঠতে হয়! অজস্র সাধারণ মানুষের ভরসার সরকারি হাসপাতালের অন্দরে যে কী কী চলত তা অকল্পনীয়। এর আগে, ইনস্ক্রিপ্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল নেক্রোফিলিয়া নিয়ে। শোনা গিয়েছিল, ধর্ষণে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর ধর্ষণ করে। মৃতের সঙ্গে সহবাস, যৌন সম্পর্ককেই নেক্রোফিলিয়া বলে। এখন জানা যাচ্ছে, আরজি করের মর্গে মৃতদেহ নিয়ে এমন নানা কুকীর্তিই চলত, যার সঙ্গে একা সঞ্জয় নন, আরও অনেকেই যুক্ত।

ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের অবাধ আনাগোনা ছিল হাসপাতালে তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সহজেই বোধগম্য। মেডিক্যাল কলেজের মর্গেও সঞ্জয়ের অবাধ যাতায়াত ছিল। অন্যদিকে, মৃতদেহ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি। এবার জানা যাচ্ছে, ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় ছাড়াও দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিভিন্ন মাথাদের অবাধ আনাগোনা ছিল মর্গে। এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই আনাগোনা বাড়ত রাত বাড়লেই। অত রাতে কীভাবে কেন কারা মর্গে ঢুকতেন? অত রাতে মর্গে কী এমন কাজ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চড়া দামে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, গ্লাভস, তুলো, প্রস্রাবের ব্যাগ বিক্রি করেছেন সন্দীপ ঘোষ?

Bio medical waste Scam RG Kar: সামান্য পয়সার জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সূঁচ, রক্তমাখা তুলো-ব্যান্ডেজ, প্রস্রাবের ব্যাগ ঘাঁটতে হয় শিশু শ্রমিকদের। পারিশ্রমিক কেমন?

সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত সঞ্জয় রায়ের মোবাইল থেকে অনেক ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ভিডিওই পর্নোগ্রাফি এবং বিকৃত পর্নোগ্রাফি। তাছাড়া অনেক ভিডিওতে আরজি করের মর্গের ভিতরের দৃশ্যও রয়েছে। ওই ভিডিওগুলিতেই দেখা গেছে মৃতদেহের সঙ্গে সঞ্জয়ের অন্তরঙ্গ দৃশ্য। সঞ্জয় নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত এমনটা তদন্তে আগেই উঠে এসেছে। তাই কি এমন ভিডিওর আধিক্য বেশি? তদন্তকারীরা বলছেন, শুধুই নিজের বিকৃত কামের জন্য এই ভিডিওগুলি নাও রাখা হতে পারে। মরদেহ নিয়ে পর্নোগ্রাফির কোনও চক্রও এখানে থেকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।

কলকাতা পুলিশ যখন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে তার পরপরই পর্নোগ্রাফির ভিডিও উদ্ধার নিয়ে পুলিশ কিছু তথ্য প্রকাশ করে। ওই ভিডিও মধ্যে মৃতদেহের সঙ্গে সহবাসের নানা দৃশ্যও ছিল। সিবিআই বলছে, যে ভিডিওগুলি উদ্ধার হয়েছে, তার বেশ কিছু আরজি করেরই মর্গে তোলা! তাহলে এই ভিডিওগ্রাফি করল কারা? দুর্নীতির সিন্ডিকেটই কি মৃতদেহের সঙ্গে যৌনতার ভিডিও তুলে তা বিদেশে চড়া দামে বিক্রি করত? আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ধৃত অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধেও মৃতদেহ কেনাবেচায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অর্থাৎ খোদ অধ্যক্ষও মৃতদেহের ব্যবসাতে যুক্ত এটি প্রমাণিত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি করের তরুণীকে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ! কী এই বিরল অসুখ 'নেক্রোফেলিয়া'?

RG Kar Necrophilia: 'বাধা দেবে না' এমন যৌন সঙ্গী পাওয়ার আশায় মৃত দেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে থাকা ব্যক্তিদের 'নেক্রাফাইল' বলা হয়।

জানা গিয়েছে, মর্গের কত দেহ এসেছে, বেরিয়েছে তার হিসেবে অত্যন্ত গরমিল রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে এই গরমিলের শুরু। প্রতি অর্থবর্ষেই অন্তত ৬০-৭০টি করে দেহের হিসাব পাওয়া যায়নি। আর দেহাংশ এবং কঙ্কাল নিয়ে গরমিল তো আকাশছোঁয়া। কোন দেহের, দেহাংশের, কঙ্কালেও ঠিকঠাক হিসেবই নথিভুক্ত নেই মর্গের খাতায়। ফরেন্সিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান প্রবীর চক্রবর্তীর কাছে এই গরমিল নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এখানে উল্লেখ্য, মর্গের প্রধান ডোমকে অন্যত্র সরয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষই! কোনও বদলির কাগজপত্র ছাড়া মৌখিক নির্দেশে অন্য বিভাগে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এক ডোমকে এখানে নিয়োগ করা হয়। কেন এই বদল? নিজের হাতে থাকা ডোমকে নিয়োগ করে কোন কোন দুর্নীতি করছিলেন সন্দীপ এবং তাঁর লবির লোকজন? নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি দিনই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে মর্গ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এই মর্গের সব ঘরের চাবিই মর্গের মূল কার্যালয়ে জমা থাকে। কেবল মূল দরজার চাবি থাকে প্রধান ডোমের কাছে। রাতে কোনও মৃতদেহ এলে তা রাখার জন্য মর্গের পিছনের দরজা খোলা হয় যার চাবি রাখা থাকে অন্য এক কর্মীর কাছে। অথচ রাতে এই মর্গেই সন্দীপের লবির লোকজনের অবাধ যাতায়াত ঘটেছে, তারা চাবি পেলেন কীভাবে? তাহলে সন্দীপ-নিযুক্ত প্রধান ডোমের কি এইটাই কাজ ছিল?

মর্গে মদের আসর বসত বলেও জানিয়েছেন সেখানের কর্মীদের অনেকে। চুনোপুঁটিদের প্রতিবাদ সাজে না, কারণ তাতে বদলি বা চাকরি যাওয়ার হুমকি ধেয়ে আসে। ফলে মর্গে যে চরম নৈরাজ্য চলত তাতে সেই অর্থে বাধা দেওয়ার কেউই ছিল না কারণ খোদ মাথাতেই ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। মর্গে কারা কারা ঢুকত, রাতে চাবি নিয়ে ৪০টির বেশি কোল্ড চেম্বার রাতে কারা কীভাবে খুলত সেই প্রশ্ন উঠছে! সেই সময়েই কি মৃতদেহ বের করে যৌনতা করে তার রেকর্ড করা হতো? এই সমস্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।