চিৎকার করলে সাপেরা কি সত্যিই শুনতে পায়? যে সত্যি সামনে আনল সাম্প্রতিক গবেষণা

Snakes hearing ability new research : গবেষণায় উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য। দেখা গিয়েছে, হাওয়ায়, বাতাসে শব্দ করলেও সাপেরা সাড়া দেয়!

inscript
৩ মিনিট
চিৎকার করলে সাপেরা কি সত্যিই শুনতে পায়? যে সত্যি সামনে আনল সাম্প্রতিক গবেষণা

জলে হোক বা ডাঙায়, এই প্রাণীটিকে এঁকেবেঁকে চলতে দেখলে অধিকাংশ মানুষই লাফিয়ে কয়েকহাত দূরে চলে যায়। তার ছোবলের ভয় থরহরি কম্প দেয় অনেকের। বাংলার সিনেমা হোক বা রাজনীতি, সব জায়গাতেই তার অবাধ বিচরণ। কথা হচ্ছে সর্প, অর্থাৎ সাপকে নিয়ে। দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষার কথা হলেও, সাপকে কেউ কোনওদিন দুধ খেতে দেখেছে কিনা জানা নেই। তাকে নিয়ে নানা মিথ, নানা গুজব, নানা ভয় ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানী মহলে সাপের মাহাত্ম্য কমেনি এতটুকুও।

সাপ নিয়ে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন কথা প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যেই অন্যতম হল, সাপ নাকি কালা! সে কানে শুনতে পায় না। তবে কেবল মিথ নয়, পরবর্তীকালে বিজ্ঞানও এমনটা বলেছে। সাপের শরীরে কোথাও কান বা কানের মতো কোনও অঙ্গ নেই। অন্যান্য প্রাণীদের তো রয়েছে। তাহলে কী করে প্রতিক্রিয়া দেয় সাপেরা? বিজ্ঞান এতদিন ধরে বলেছে, সাপ মূলত মাটির কম্পনের মাধ্যমে সবকিছু বুঝতে পারে। সেজন্য খেয়াল করলে দেখা যাবে, সাপ বেশিরভাগ সময় মাটিতে মুখ লাগিয়ে চলে। আর নিজের চেরা জিভটা বারবার বের করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষ এক ছোবলেই ছবি! তবে কোন রহস্যে সাপের তীব্র বিষেও বেঁচে যায় বন্য প্রাণীরা?

Snake Venom: হানি ব্যাজারের চামড়াই এত মোটা যে সাপের বিষ দাঁতের পক্ষে সম্ভব নয় সেই চামড়া ভেদ করা

এছাড়াও বিজ্ঞান বলে, সাপের কান একেবারে যে নেই, তা নয়। সাপের খুলির অংশেই থাকে অভ্যন্তরীণ কান, যার সঙ্গে বাইরের কোনও যোগাযোগ নেই। যখনই মাটিতে কোনও কম্পন হয়, তখন সেটি নির্দিষ্ট একটি হাড় দিয়ে সেই অভ্যন্তরীণ কানে পৌঁছে যায়। তারপর সেখান থেকে মস্তিস্কে। কিন্তু বাতাসে কোনও শব্দ হলে সাপ বুঝতে পারবে না। এতদিন এটাই জেনে এসেছি আমরা।

কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণা সব হিসেব কিছুটা হলেও উল্টে দিল। পিএলওএস ওয়ান (PLOS One) নামের একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বিজ্ঞানীদের দাবি, মাটির কম্পনের মাধ্যমে সাপেরা শব্দ ‘বুঝতে পারে’, এতদিন সেটাই জানত সবাই। কিন্তু এই গবেষণায় উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য। দেখা গিয়েছে, হাওয়ায়, বাতাসে শব্দ করলেও সাপেরা সাড়া দেয়! আরও দেখা গিয়েছে, সেখানে এক একরকম সাপ, এক একরকম ভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জ্যান্ত বিষধর সাপের পুজো! এই মন্দিরে মানুষ ও সাপের সম্পর্ক আজও অটুট

ঝঙ্কেশ্বরী সাপের মাথার নিচে ঘাড়ে দু'টি চোখের মতো ছাপ রয়েছে। বড় মাপের ঝাঁকলাই ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি ফণা তুলতে পারে। তীব্র বিষে ভরা বিষথলি আছে, আছে বিষদাঁতও।

ঠিক কী করা হয়েছে এই গবেষণায়? সাতটা প্রজাতির প্রায় ১৯টি সাপ এই পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে একটা সাউন্ডপ্রুফ ঘরে এনে তাদের রাখা হয়। যেহেতু সাউন্ডপ্রুফ, তাই বাইরের কোনও শব্দ ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। এবার ১-১৫০ হার্ৎজ, ১৫০-৩০০ হার্ৎজ ও ৩০০-৪৫০ হার্ৎজ এই তিনটি আলাদা আলাদা কম্পাঙ্কের শব্দ করা হয়। এবং পুরো শব্দটাই করা হয় হাওয়ায়; তার সঙ্গে মাটির কোনও যোগ নেই। আওয়াজ আসার পর সাপেদের মধ্যে কোনও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কিনা, সেটা পর্যবেক্ষণ করা হল।

এরপরই ঘটে মিরাকল! বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বিভিন্নভাবে সেই শব্দগুলিতে সাড়া দেয়। যেমন ধরা যাক ওয়োমা পাইথন। অস্ট্রেলিয়ার এই পাইথন ওই শব্দ শুনে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেয়। যত সময় যায়, তার চঞ্চলতাও বাড়তে থাকে। এবং একসময়, শব্দ যেখান থেকে আসছে, সেদিকে সত্যিই এগোতে শুরু করে! আরও তিন প্রজাতির সাপ সেই শব্দ শুনে একটু দূরে সরে যেতে থাকে। এই তথ্যই এতদিনের বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, মাটিতে যাতে কোনওরকম কোনও কম্পন না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছিল। সেজন্য মাটিতে কোনওভাবে তরঙ্গ কম্পন ছড়ায়নি। তাহলে হাওয়ায় ভেসে আসা শব্দ আমার আপনার মতোই শুনতে পায় সাপেরা! সাপ্রতিক গবেষণা তো তাই বলছে। তবে বিজ্ঞানীদের এও বক্তব্য, ৬০০ হার্ৎজের নিচের কম্পাঙ্কের শব্দই একমাত্র শুনতে পায় সাপেরা। আর মানুষের কথাবার্তা? এই বিষয়ে এখনও সঠিক করে কিছু বলতে পারেননি গবেষকরা। তবে তাঁদের বক্তব্য, আমরা যদি জোরে জোরে কথা বলি, তখন সেই কথা সাপ ঠিকই শুনতে পায়!

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?