প্রার্থীর সম্পত্তির হিসেব জানার অধিকার নেই ভোটারের! সুপ্রিম কোর্টের যে রায় ঘিরে শোরগোল

Voter's Right: শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, প্রার্থীর সমস্ত সম্পত্তির হিসেব নেওয়ার অধিকার ভোটারের নেই। উল্টে প্রার্থীর গোপনীয়তার অধিকারের পক্ষেই সওয়াল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্রার্থীর সম্পত্তির হিসেব জানার অধিকার নেই ভোটারের! সুপ্রিম কোর্টের যে রায় ঘিরে শোরগোল

শিয়রে লোকসভা ভোট। দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছিলেন, টাকার অভাবে তিনি নাকি ভোটে লড়তে পারবেন না। তার পরেই শোরগোল ওঠে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে। এখনও কান পাতলেই শোনা যাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রার্থীর সম্পত্তির হিসেব। নির্বাচনী হলফনামায় কে কত সম্পত্তির কথা ঘোষণা করেছেন, সে নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চর্চা। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জনগণ তথা ভোটারের তেমন কোনও অধিকারই আদতে নেই। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, প্রার্থীর সমস্ত সম্পত্তির হিসেব নেওয়ার অধিকার ভোটারের নেই। উল্টে প্রার্থীর গোপনীয়তার অধিকারের পক্ষেই সওয়াল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষের ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল বঙ্গে। কমিউনিস্ট যাপনে কেন এত বিলাসিতা, এই প্রশ্ন তুলে শতরূপকে ব্যাপক বিঁধেছিলেন কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। প্রশ্ন উঠেছিল, হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ ২ লক্ষ হলে কীভাবে ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি চড়েন শতরূপ? সেই ঘটনার কথা হয়তো মনে আছে সকলেরই। সম্প্রতি বাংলারই প্রথম দফার ভোটের একাধিক প্রার্থীর হলফনামা অনুযায়ী সম্পত্তির পরিমাণ সামনে এসেছে। ১৯ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভার ভোট। প্রথম দফায় বাংলার ভোট রয়েছে উত্তরবঙ্গে। সেখানকার ৩৭ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত দশ জনের কোটি টাকার উপরে সম্পত্তি রয়েছে বলে খবর। সেই তালিকায় শুধু বিজেপি, তৃণমূলই নয়, রয়েছে সিপিআইএম, এসইউসিআই এবং নির্দল প্রার্থীরাও। সেই নিয়ে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। সেই সমস্ত বিতর্কের মুখেই এবার প্রার্থীদের সম্পত্তির হিসেব নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রথম দফাতেই 'কোটিপতি'দের মেলা! অবাক করবে বাংলার যেসব প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ

Lok Sabha Election 2024: কোনও বিশেষ একটি দলের প্রার্থী নয়, প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই রয়েছেন সেই কোটিপতির তালিকায়। বিজেপি ও তৃণমূলের অন্তত দু'জন প্রার্থীর নামে রয়েছে কোটি টাকার সম্পত্তি

অবশ্য সম্পূর্ণ পৃথক একটি মামলায় এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অরুণাচল প্রদেশের তেজু বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৯ সালে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন করিখো ক্রি নামে এক নির্দল প্রার্থী। সেই ভোটে জিতেওছিলেন করিখো। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী নুনি তায়ং করিখোর বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ সালের ধারা ৯০(এ)(সি)-এর অধীনে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন।দাবি করেন, ভোটের মনোনয়ন দাখিলের সময়ে করিখো স্ত্রী ও ছেলের মালিকানাধীন তিনটি গাড়ির কথা সম্পত্তির হিসেবের হলফনামায় জানাননি। এই মামলায় করিখোর ভোট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল গৌহাটি হাইকোর্ট। সেই মামলাটি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ভোটে লড়ার টাকা নেই'! কতটা সত্যি বলছেন নির্মলা?

Nirmala Sitharaman: শোনা গিয়েছে, দলের তরফে নাকি লোকসভা ভোটে লড়ার জন্য ডাক পাঠানো হয়েছিল নির্মলাকে। প্রাথমিক ভাবে তিনি ভেবে দেখার কথা বললেও পরবর্তীতে ভোটে লড়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, অর্থাভাবেই ভোটে লড়তে পারছেন না তিনি।

মঙ্গলবার ওই মামলায় গৌহাটি হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস ও সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মনোনয়ন দাখিলের আগে যদি কোনও প্রার্থী নিজের কেনা কোনও যানবাহন উপহার হিসেবে দিয়ে থাকে বা বিক্রি করে দিয়ে থাকে, তাহলে তা সেই ব্যক্তির মালিকানাধীন হিসেবে গণ্য হতে পারে না। করিখোর ক্ষেত্রেও তাঁর স্ত্রী বা পুত্রের গাড়ি কোনওভাবেই তাঁর সম্পত্তির আওতায় গণ্য হবে না। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যে কোনও প্রার্থী যদি না চায়, তাহলে তাঁর বা তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিটি অস্থাবর সম্পত্তির হিসেবনিকেশ প্রকাশ না-ও করতে পারে। বিশেষত যদি সে সম্পত্তি যদি যথেষ্ট মূল্যবান না হয় বা তার মাধ্য়মে প্রার্থীর বিলাসবহুল জীবনের দিকে দিকনির্দেশ না করে।

প্রশ্ন হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের অপব্যবহার করা হবে না তো দেশের আসন্ন সমস্ত ভোটে। সামনেই লোকসভা ভোট। ক্রমে সামনে আসতে শুরু করেছে একের পর এক প্রার্থীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসেবনিকেশ। একাধিক হলফনামা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় দেশবাসীর। কারওর কাছে অস্থাবর হিসেবে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। কারওর কাছে বিলাসবহুল বহুমূল্য গাড়ি, বাড়ি। এখনও পর্যন্ত ভোটের আগে জমা করা হলফনামায় সেই সব তথ্য দিতে বাধ্য থাকতেন প্রার্থীরা। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরে সেই জায়গাটা আদৌ রক্ষিত হবে কি! লোকসভা ভোটের আগে ইলেক্টোরাল বন্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে যথেষ্ট হইচই হয়েছে। যার মাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকা ঢুকেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে। যে ঘটনাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্নীতি বলে ঘোষণা করেছেন কোনও কোনও অর্থনীতিবিদ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিজেপির প্রণয়ন করা সেই প্রকল্পকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। এসবিআইকে বাধ্য করা হয় সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে। আর তার পরেই সামনে এসেছে ইলেক্টোরাল বন্ড মারফত একাধিক রাজনৈতিক দলের কোষাগার ভরার বিষয়টি। এবার হলফনামায় সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য জানানোর মতো বিষয়টিকে প্রার্থীর গোপনীয়তার অধিকারের আওতায় ফেলার কারণে ফাঁক গলে জায়গা করে নেবে না তো আরও বড় কোনও দুর্নীতি? উঠে গিয়েছে সেই প্রশ্নও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?