অবিবাহিত মহিলাদের কাজ বেআইনি! আফগানিস্তানে যে ভয়াবহ 'শাসন' চালাচ্ছে তালিবান

Taliban in Afghanistan: তালিবানি শাসনে ভালো নেই আফগানিস্তান। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সম্ভবত মেয়েদেরই। তাঁদের একাধিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে চাকরিবাকরি, প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই তালিবানের লালচোখ।

Sohini Das
৩ মিনিট
অবিবাহিত মহিলাদের কাজ বেআইনি! আফগানিস্তানে যে ভয়াবহ 'শাসন' চালাচ্ছে তালিবান

তালিবান শাসন মানেই মানবাধিকার তলানিতে। ফের আফগানিস্তানে জারি নয়া ফতোয়া। এবার অবিবাহিত মহিলাদের কাজের অধিকার ছিনিয়ে নিল তালিবান। যাদের কোনও পুরুষ অভিভাবক নেই, অর্থাৎ যারা অবিবাহিত, তাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হল একাধিক সুযোগসুবিধা। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট তেমনটাই জানিয়েছে।

তালিবানি শাসনে ভালো নেই আফগানিস্তান। নানা রকমের নিষেধাজ্ঞা, আইনকানুন জারি করেছে সেখানে তালিবানেরা। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সম্ভবত মেয়েদেরই। তাঁদের একাধিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে চাকরিবাকরি, প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই তালিবানের লালচোখ। এমনকী কেড়ে নেওয়া হয়েছে মেয়েদের সুন্দর থাকার অধিকারটুকুও। বিউটি পার্লার বস্তুটিকেই সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। না, সেখানে মেয়েদের সাজার অধিকার রয়েছে, না বিউটি পার্লারে কারওর কাজ করার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তালিবান শাসনের দু'বছর পূর্তি! কেমন আছেন আফগানিস্তানের মেয়েরা?

2 years of Taliban takeover in Afghanistan: এরা গোড়াতেই শিকল পরায় নারীশিক্ষার পায়ে। কারণ শিক্ষার আলো থেকে দূরে রাখতে পারলেই বাকি সমস্ত কিছু জলের মতো সোজা। আর সেই সোজা পথেই মেয়েদের সমস্ত জোরকে ভেঙে ফেলা যাবে এক লহমায়।

মেয়েদের চাকরি করা নিয়ে গোড়া থেকেই আপত্তি তালিবানদের। সম্প্রতি আফগানিস্তানের ভাইস অ্যান্ড ভার্চুটি মন্ত্রকের কর্মকর্তারা এক মহিলাকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চাকরির শর্ত হিসেবে বিয়ে করার পরামর্শ দেন। তাঁকে জানানো হয়, একজন অবিবাহিত মহিলার যে কোনও রকম কাজ করাই ঠিক কথা নয়। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ফের ক্ষমতায় আসে তালিবান। আর তার পর থেকেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ দিন। স্বাভাবিক জনজীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত সেখানকার বেশিরভাগ নাগরকিই। মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর পড়াশোনার অধিকার নেই আর।

ইতিমধ্যেই ড্রেসকোড চালু করা হয়েছে আফগানিস্তানে। হিজাব ও ইসলামিক হেডস্কার্ফ পরার অনুশাসন যাঁরা অমান্য করবেন, তাঁদের গ্রেফতার করছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। ২০২২ সালের মে মাস নাগাদ একটি ফতোয়া জারি করে তালিবান জানায়, মেয়েদের শুধু চোখ দু'টি ছাড়া শরীরের কোনও অংশই দেখা যাবে। এর আগে যখন আফগানিস্তানে ক্ষমতায় এসেছিল তালিবান, অর্থাৎ ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও আফগানিস্তানের মহিলাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত বোরখা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফের সেই নির্দেশ দেশে বলবৎ করেছে তালিবান সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্বাধীনতা অলীক স্বপ্ন, তালিবানের অধীনে যেভাবে দিন কাটে আফগানিস্তানের মেয়েদের

Afganistan Crisis: মাথার উপর ঠেকানো রয়েছে বন্দুকের নল। শিক্ষা বন্ধ, স্বাধীনতার গন্ধ তো এদ্দিনে ভুলেছে দেশবাসী। এবার আফগানিস্তানে জারি নয়া নিষেধাজ্ঞা।

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে আফগানিস্তানে মানুষের বসবাসই অকল্পনীয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ত্রৈমাসিক রিপোর্ট পেশ করেছে জাতিসঙ্ঘ, সেখানে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে যেসব মেয়েদের পুরুষ অভিভাবক নেই, তাদের সম্পূর্ণ রূপে ব্রাত্য করার চেষ্টা করছে তালিবান সরকার। তাঁদের সামাজিক জীবন নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

গত অক্টোবর মাসে তিন জন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করে আফগান সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়, পুরুষ অভিভাবক অর্থাৎ স্বামী ছাড়া কাজ করতে পারবেন না কোনও মহিলা। ধৃত তিন জনকে লিখিত হলফনামা দেওয়ার পরেই ছাড়া হয়েছিল। ভাইস অ্যান্ড ভার্চুয়াল মন্ত্রক পাকতিয়া প্রদেশে পুরুষ অভিভাবক ছাড়া কোনও মহিলাকে স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলিতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তালিবানের নীতিপুলিশরা নিয়মিত স্কুল, কলেজ, অফিস এবং পাবলিক প্লেসগুলিকে নজরদারি চালাচ্ছে। ডিসেম্বরে কান্দাহার প্রদেশে বাস টার্মিনালগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো শুরু হয়, যাতে কোনও স্বামীহীন মহিলা দীর্ঘ দুরত্ব যাতায়াত না করতে পারেন। বাসচালকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একা নারীদের বাসে উঠতে না-দেওয়া হয়। এমনকী গর্ভনিরোধক কেনার জন্যও মেয়েদের গ্রেফতার করা হচ্ছে দেশে। যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত ঘোষিত কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

সব মিলিয়ে আফগানিস্তানে লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। যদিও তালিবানের তরফে দাবি, জাতিসঙ্ঘ ইসলামিক আইনকে সমালোচনা করার জন্যই এই ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করছে। তবে তালিবান যা-ই বলুক না কেন, আফগানিস্তানে যে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কবে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন আফগানিস্তানবাসী, সেই আশা বোধহয় সেই তিমিরেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।